ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর উত্তরা

বিএনপি নেতার বস্তি উচ্ছেদের ঘোষণা, মব সৃষ্টির আশঙ্কা

বিএনপি নেতার বস্তি উচ্ছেদের ঘোষণা, মব সৃষ্টির আশঙ্কা
×
×

বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

এস এম সাব্বির

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:০১ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪০

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টর-সংলগ্ন তুরাগ এলাকার একটি বস্তি স্থানীয় মুসল্লিদের নিয়ে উচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন তুরাগ থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম। গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় প্রশাসনের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে তিনি এ ঘোষণা দেন বলে জানা গেছে। 

গতকাল শনিবার জহিরুলের বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন ব্যক্তিদের কেউ কেউ বলছেন, বস্তিতে মাদক ব্যবসা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। তবে এ জন্য সাধারণ মানুষকে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর উদ্যোগ সংঘাত ও মব সৃষ্টির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাদের আশঙ্কা, মাদক ব্যবসায়ীরা পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখালে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে উঠতে পারে। তাদের মতে, এ বিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

তুরাগ থানা বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সদস্য সচিব মোস্তফা জামানের অনুসারী জহিরুল ইসলাম একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন। এতে দল বিব্রত হচ্ছে। তাদের দাবি, মব সৃষ্টির ঝুঁকি তৈরি করে এমন উদ্যোগ বিএনপির সমর্থন করা উচিত নয়। বিষয়টি দলীয় শীর্ষ নেতাদের বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তুরাগ বিএনপির এক নেতা অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর থেকে জহিরুল ইসলাম ব্যক্তিস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে চাঁদাবাজি, সড়কে অবৈধ ভ্যান স্থাপন এবং বিদ্যালয়ের জমি দখল করে ট্রাকস্ট্যান্ড তৈরির অভিযোগও করেন তিনি। বিদ্যালয়ের জমি ভুয়া দলিলে বিক্রির অভিযোগও তোলেন ওই নেতা। 

১০ নম্বর সেক্টরের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, তারাও বস্তিতে মাদক ব্যবসা বন্ধ চান। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পক্ষে নন তারা। তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি বস্তির বিপরীত পাশে একটি জমিতে আড়ত স্থাপনকে কেন্দ্র করে জহিরুলসহ কয়েকজন বিএনপি নেতার সঙ্গে বিতর্ক তৈরি হয়। এর জেরে সেক্টরের প্লট দখলের চেষ্টা চলছে বলে তাদের আশঙ্কা।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সদস্য সচিব মোস্তফা জামান বলেন, মাদক নির্মূলে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঝুঁকির মুখে ফেলে এ কাজ করা যাবে না। জহিরুল মাদকের বিরুদ্ধে বরাবরই সরব। কিন্তু তাঁর এমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া উচিত নয়, যাতে মব সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয়।
তুরাগ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, বর্তমানে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসার কোনো স্পট নেই। মসজিদে ওই বিএনপি নেতা এমন বক্তব্য দিয়ে থাকলে তা আপত্তিকর। 

আরও পড়ুন

×