বন্ধু যখন ভয়ংকর খুনি
বাচ্চু দেওয়ান
ইন্দ্রজিৎ সরকার
প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১৪:৫১ | আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১৫:১৭
ভাসানটেক বাজার মোড়ে পাশাপাশি ফলের দোকান ছিল নজরুল ইসলাম ও বাচ্চু দেওয়ানের। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও ছিল দু'জনের। একজনের প্রয়োজনে অন্যজন পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেন। তবে তুচ্ছ ঘটনায় সেই বন্ধুত্বে ফাটল ধরে। এক পাওনাদারকে বাচ্চুর বাসা চিনিয়ে দেন নজরুল। এতে প্রচণ্ড খেপে যান বাচ্চু। একপর্যায়ে তিনি দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে বল্পূব্দকে হত্যা করেন। এরপর বাচ্চু পালিয়ে বেড়াতে শুরু করেন বিভিন্ন জায়গায়। অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার জন্য সাত হাজার টাকায় চুক্তিও করেছিলেন। শেষ মুহূর্তে তাকে ধরে ফেলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। ৭ নভেম্বর বন্ধুকে হত্যার দায় স্বীকার করে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহাদাত হোসেন সুমা সমকালকে বলেন, চতুর নজরুল ঘটনার পর নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। যোগাযোগের প্রয়োজনে ব্যবহার করেন আত্মীয়ের ফোন। পরে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকা থেকে গত ৬ নভেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই তিনি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
২৯ অক্টোবর মধ্যরাতে রাজধানীর ভাসানটেকের বিআরপি এলাকায় নজরুলের বাসায় যান বাচ্চু। তার ফোন পেয়ে নিচে নামার পরপরই নজরুলকে কোপানো হয়। এ সময় চিৎকার শুনে তার স্ত্রী মার্জিয়া বেগম নিচে নেমে এলে দা ফেলে পালিয়ে যান ঘাতক। রক্তাক্ত নজরুলকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ভাসানটেকে লতিফ ফল ভান্ডার ও ভাগ্যকুল সুইটস অ্যান্ড বেকারি নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল নজরুল ইসলামের। ব্যবসার লোকসান পুষিয়ে নিতে অনেক টাকা ঋণ নেন তিনি। একপর্যায়ে ফলের দোকানটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। নজরুল ও বাবুলের মধ্যস্থতায় বিক্রি করে দেন ভাগ্যকুল সুইটস। সাড়ে ১৩ লাখ টাকায় দোকান বিক্রির চুক্তি হলেও তিনি প্রথমে পাঁচ লাখ টাকা পান। এর মধ্যে 'দালালির কমিশন' বাবদ নজরুল নেন ৩০ হাজার টাকা। এতে কিছুটা মনঃক্ষুণ্ণ হন বাচ্চু।
এদিকে বাচ্চুর কাছে প্রায় এক লাখ টাকা পেতেন এক পাইকারি ব্যবসায়ী। বাচ্চুকে হন্যে হয়ে খুঁজছিলেন তিনি। নজরুলের কাছে তার বন্ধুর খোঁজ জানতে চান ওই ব্যবসায়ী। এর আগে ব্যবসায়িক বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। নজরুল তার দোকানে ডাব বিক্রি করায় বাচ্চুকে অন্য ফল বিক্রির কথা বলেন। তার কথা শুনতে রাজি হননি বাচ্চু।
এই পরিস্থিতিতে পাইকারি ব্যবসায়ীকে বাচ্চুর বাসায় নিয়ে যেতে রাজি হন নজরুল। ২৯ অক্টোবর তিনি ব্যবসায়ীকে ওই বাসায় নিয়ে যান। পরিবারের সদস্যদের সামনেই পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীর ওপর বিরক্ত হন বাচ্চু। পাওনাদারকে বাসায় নিয়ে যাওয়ায় তিনি চটে যান নজরুলের ওপর। এ সময় নজরুলও রেগে তাকে বলেন, 'তুই আমার পাশে দোকান করতে পারবি না।' এতে আরও ক্ষিপ্ত হন তিনি। সেদিন রাতেই তিনি নজরুলের ফলের দোকানে যান। সেখানে তাকে না পেয়ে দোকান থেকে ফল কাটার দা তুলে নিয়ে যান তার ভাসানটেকের বাসায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের স্ত্রী মার্জিয়া বেগম জানান, রাত ১২টা ১০ মিনিটে বাচ্চু তার স্বামীকে ফোন করে বাসার নিচে নামতে বলেন। পরে তার চিৎকারের শব্দ শুনে বেরিয়ে আসেন মার্জিয়া। তখন দেখতে পান, তার স্বামীকে পাগলের মতো দা দিয়ে কোপাচ্ছেন বাচ্চু।
- বিষয় :
- ভাসানটেক
- ভয়ংকর খুনি
- খুনি
- ভয়ংকর
- ব্যবসায়ী হত্যা
