নাখালপাড়ায় দুই বোনকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ১
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২১ | ০৩:২৭ | আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ০৩:১৭
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের পূর্ব নাখালপাড়ায় ঘরে ঢুকে সাবেক স্ত্রীকে কুপিয়ে এবং শ্যালিকাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে মাদকাসক্ত এক স্বামী। দুই বোনের মধ্যে বড় বোনের নাম ইয়াসমিন আক্তার (৩০) এবং ছোট শিমু আক্তার (১৬)। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াসমিনের সাবেক স্বামী রিকশাচালক রনি মিয়াকে আটক করে গণপিটুনি দেয় এলাকাবাসী। পরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় তাকে।
শনিবার দুপুরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। গ্রেপ্তারের পর রনি মিয়া সাবেক স্ত্রী ও শ্যালিকাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। চার মাস আগে ইয়াসমিনের সঙ্গে তার বিয়ে বিচ্ছেদ হয়। আগের পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, ইয়াসমিন আক্তার শিল্পাঞ্চল এলাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক। শিমু সম্প্রতি নাবিস্কো এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে কাজে যোগ দেয়। তাদের বাবার বাড়ি নরসিংদী জেলায়। রনির বাড়ি জামালপুরে। রনি রিকশা চালালেও বেশিরভাগ সময় কাজ করত না। জুয়া খেলার পাশাপাশি মাদক সেবনও করত নিয়মিত। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ হতো। জুয়া ও মাদকের পথ থেকে সরে না আসায় চার মাস আগে রনিকে তালাক দেন ইয়াসমিন। এতে রনি ক্ষুব্ধ হয়। ১ জানুয়ারি ইয়াসমিন ও শিমু ২৫৩/৩ পূর্ব নাখালপাড়ায় একটি ভবনের তৃতীয় তলায় কক্ষ ভাড়া নিয়ে ওঠেন। রনি-ইয়াসমিন দম্পতির দুই মেয়ে। তিন বছরের মেয়ে নরসিংদীতে নানির বাসায় থাকে। বড় মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী রোকসানা মায়ের সঙ্গে থাকে। রোকসানা জানায়, তালাকের আগে প্রায়ই মাকে তার বাবা মারধর করত। ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করে জুয়া খেলত ও মাদক সেবন করত। এ কারণেই তার মা রনিকে তালাক দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রনি মিয়া ইয়াসমিনের বাসায় যায়। শিমু একা বাসায় ছিল। শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে কম্বলে পেঁচিয়ে খাটে শুইয়ে রাখে রনি। সাবেক স্ত্রী ইয়াসমিনের অপেক্ষায় ওই ঘরেই লাশের পাশে বসেছিল সে। পোশাক কারখানা থেকে টিফিনের সময়ে দুপুর সোয়া ১টার দিকে ইয়াসমিন বাসায় আসেন। ইয়াসমিন ঘরে ঢোকামাত্র রনি বঁটি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হন। জানালা দিয়ে কোপাতে দেখতে পান কয়েকজন। লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে রনি ভেতর দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে দরজা ও জানালা ভেঙে লোকজন ঘরে ঢুকে রনিকে আটক করে গণধোলায় দেয়। এতে সে আহত হয়। পুরো ঘর রক্তাক্ত ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
মীর মিনার নামে এক প্রতিবেশী সমকালকে জানান, গতকাল দুপুর সোয়া ১টার দিকে তিনি গোসল করছিলেন নিজের বাসায়। এ সময় পাশের বাড়ির তৃতীয় তলায় নারীর চিৎকার শোনেন। তিনি জানালায় উঁকি মেরে দেখেন, রনি তার সাবেক স্ত্রীকে বঁটি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাচ্ছে। তিনি বারবার জানালার ওপাশ থেকে বারণ করেন। কিন্তু কোনো কথায় কর্ণপাত না করে কোপাতে থাকে রনি। এক পর্যায়ে মীনার জানালা ভেঙে ওই বাসায় ঢোকেন। আশপাশের লোকজনও ছুটে আসে। ততক্ষণে রক্তক্ষরণে ইয়াসমিন মারা গেছেন। রনিকে আটকে রেখে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকা হয়। পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় রনিকে। গণপিটুনিতে আহত হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছে সে।
খবর পেয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে এবং হত্যাকাণ্ডের আলামত সংগ্রহ করে। সন্ধ্যায় পুলিশ দুই বোনের লাশ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি বিপ্লব কুমার শীল সমকালকে বলেন, প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে রনি মিয়া এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। প্রথমে শ্যালিকাকে এবং পরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত বঁটিসহ রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইয়াসমিনের শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
- বিষয় :
- কুপিয়ে হত্যা
- আটক
- নাখালপাড়া
