ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

'বায়ুদূষণের কারণে দেশে বছরে এক লাখ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু'

'বায়ুদূষণের কারণে দেশে বছরে এক লাখ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু'
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৮:১১

সুষ্ঠু ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় ঢাকা এখন বায়ুদূষণে শীর্ষে। লাগামহীন দূষণের কারণে দিল্লির পর ঢাকাকেও 'গ্যাস চেম্ব্বার' হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টিকারী দূষণ রোধে সরকারের সংশ্নিষ্ট দপ্তরগুলোকে এখনই কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

বুধবার সকালে রাজধানীর কলাবাগানে সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশবিদরা এসব কথা বলেন।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও বারসিকের উদ্যোগে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা এবং বায়ুদূষণ রোধে কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের দাবিতে পবা কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

মূল প্রবন্ধে পবার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল জানান, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার মানুষ বায়ুদূষণের কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। দূষণ কমাতে না পারলে এই মৃত্যুহার বাড়বে বলে চিকিৎসকরা আশঙ্কা করে থাকেন। বায়ুদূষণের ফলে শিশুমৃত্যুর হারেও বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে এআইএলইউ বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে যৌথ গবেষণা পরিচালনা করে। ওই গবেষণার উদ্বৃতি দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঢাকার বায়ুদূষণের ইটভাটা ৫৮ শতাংশ, সড়কের ধুলা ১৮ শতাংশ, যানবাহনের ধোঁয়া ১০ শতাংশ, বায়োগ্যাস পোড়ানো ৮ শতাংশ এবং অন্যান্য কারণ ৬ শতাংশ দায়ী।

ফেরদৌস আহমেদ বলেন, বায়ুদূষণের কারণগুলো স্পষ্ট। অথচ সেদিকে সরকারি সংস্থাগুলোর নজর নেই। বরং তারা উল্টোপথে হাঁটে। যেমন, বর্ষা শেষ হওয়ার পর সাভার এলাকায় ইটভাটাগুলো নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহেও চালু হয়নি। কিন্তু সেখানে বায়ুদূষণ নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে তিনগুণ বেড়েছে। আবর্জনার স্তূপে আগুন দিয়ে ময়লা পোড়ানোর কারণে এই দূষণ বাড়ছে। আর এ কাজটি করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।

তিনি আরও বলেন, মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা যেসব নির্মাণ কাজ করছে, সেখান থেকে প্রচুর ধুলা উৎপন্ন হয়। অথচ পানি ছিটিয়ে এই ধুলার দূষণ ১০ ভাগের নিচে নামিয়ে আনা যায়। সম্প্রতি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন, মেট্রোরেল নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে দূষণ রোধে বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হলেও তাদের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি।

বায়ুদূষণ রোধে পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা যাতে সময়ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে, সে লক্ষ্যে পবা, বারসিকসহ অন্যান্য সমমনা সংগঠন ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ করবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

এ সময় পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান, বারসিকের পরিচালক সৈয়দ আলী বিশ্বাস বক্তব্য দেন। উপস্থিত ছিলেন কবি শাহেদ কায়েস, জাহাঙ্গীর আলম, প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, শরিফুজ্জামান খান সাঈদ, কবি কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, ক্যামেলিয়া চৌধুরী, মো. সেলিম, ইব্রাহীম হোসেন, জিএম রুস্তম খান, চাঁদনী খানম প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×