জেন ল্যাবের 'পলিসি ক্যাফে'
'আন্তঃধর্ম সম্প্রীতি বিকাশে জরুরি মুক্ত আলোচনা'
অনুষ্ঠানে অতিথিরা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৭:৪২ | আপডেট: ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১১:০৯
'আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের গভীরতা অনেক বেশি। আমাদের অনেক সমস্যা আছে, কিন্তু সব প্রতিকূলতা দূর করে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে। আন্তঃধর্ম সম্প্রীতি বিকাশে মুক্ত আলোচনা বাড়ানো জরুরি।'
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে আন্তঃধর্ম সম্প্রীতি এবং সহাবস্থানের ভূমিকা নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ পিস ও হারমনি উইক-২০১৯ এর অংশ হিসেবে শুক্রবার ডেইলি স্টার ভবনে সামাজিক গবেষণা ও দক্ষতা বিকাশের সংগঠন জেন ল্যাব এই 'পলিসি ক্যাফে' তথা গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। এর মিডিয়া পার্টনার ছিল সমকাল ও ডেইলি স্টার।
গোলটেবিলে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ২০ জন বিশেষজ্ঞ ও অতিথি। তাদের মধ্যে রয়েছেন কানাডা হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর রোজালে লাপ্ল্যান্টে, ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ অড্রে অ্যাসেইস, তরীকত ফেডারশনের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম-২ আসনের সাংসদ সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি, সেভ অ্যান্ড সার্ভ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা তায়েব বাশার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশ গুপ্ত, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজল দেবনাথ, বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী নুরুল ইসলাম, আইনের শিক্ষক প্রিয়াঙ্কা বোস কান্তা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক শেহরীন আতাউর খান, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. কাজী শাহাদাত কবির, ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের ফেলো ও আইক্যান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আইরিন খান, চেঞ্জ মেকার্সের প্রেসিডেন্ট তানবীর সিদ্দিকি, ইউএন হ্যাবিট্যাটের পরামর্শক এসএম সৈকত, ইউএনডিপির ফয়সাল বিন মজিদ, সিদ্ধার্থ গোস্বামী, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির নিমাই কুমার দাশ, ইউএনওয়াইএসএবির প্রেসিডেন্ট শ্যামি ওয়াদুদ, জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনালের (জেসিআই) ঢাকা নর্থের প্রেসিডেন্ট ইমরান কাদির, সামাজিক গবেষক জাহিদ হোসাইন খান ও জেন ল্যাবের প্রধান রাতুল দেব বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তরীকত ফেডারশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি বলেন, আন্তঃধর্ম সম্প্রীতি বিকাশের জন্য আমাদের মুক্ত আলোচনা বাড়ানো জরুরি। আমাদের সমাজে সম্প্রীতি বিকাশের মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তরুণ প্রজন্ম যেভাবে কাজ করছে, তাদের কাজকে আরও উৎসাহ দেওয়া উচিত। আমাদের পাঠ্যক্রম এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করা জরুরি।
রোজালে লাপ্ল্যান্টে বলেন, বাংলাদেশের সম্প্রীতি থেকে অন্য দেশের শেখার অনেক কিছু আছে। আমরা আরও গভীর সামাজিক সম্পর্ক নিয়ে জানতে চাই।
রানা দাশ গুপ্ত বলেন, আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের গভীরতা অনেক বেশি। আমাদের অনেক সমস্যা আছে, কিন্তু সব বাধা ও প্রতিকূলতা দূর করে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে। টেকসই উন্নয়নে মানবাধিকারের গুরুত্ব বেশি বলেই সম্প্রীতি নিয়ে ভাবতে হবে।
অড্রে অ্যাসেইস বলেন, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। তারুণ্যই বাংলাদেশের বড় শক্তি। তরুণদের আরও বেশি সামাজিক সম্পর্ক গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।
আইরিন খান বলেন, মানুষের বিশ্বাসকে আরও গভীর করার জন্য সামাজিকভাবে মুক্ত আলোচনা বাড়ানো প্রয়োজন। সবাইকে অন্যের বিশ্বাস সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।
প্রিয়াঙ্কা বোস কান্তা বলেন, তরুণদের আরও বেশি মাত্রায় সহনশীলতা ও অন্যকে জানার আগ্রহ থাকতে হবে।
- বিষয় :
- পলিসি ক্যাফে
- জেন ল্যাব
