অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চান আতিক, ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তাবিথের
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১০:২২
আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী এবং আওতাধীন প্রতিটি ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীরা আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে পৃথক সময়ে তারা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। এদিন সকাল ১০টা থেকে প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কমকর্তার কাছে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাবিথ আউয়াল পৃথক সময়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর বাইরে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী এবং দলটির ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ, জাতীয় পার্টির জিএম কামরুল ইসলাম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মেয়র প্রার্থী ডা. আহাম্মদ সাজেদুল হক (রুবেল), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী মো. আনিসুর রহমান দেওয়ান, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি-পিডিপির প্রার্থী শাহীন খান মনোনয়নপত্র জমা দেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট ৪৬৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে মেয়র পদে ৭ জন, ৫৪টি সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৭৪ জন এবং ১৮টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৮৯ জন প্রার্থী রয়েছেন। দুপুর ১২টার দিকে আতিকুল ইসলাম নেতাকর্মী ও গাড়িবহর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সামনে আসেন। সেখানে বেশ কিছু সময় অপেক্ষা করে পাঁচজন দলীয় নেতা ও সমর্থক নিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল কাসেমের কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। আতিকুল ইসলামের মেয়র পদে প্রস্তাবকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলাম, একেএম রহমাতুল্লাহ, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, শেখ বজলুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমান। সমর্থনকারী হিসেবে রয়েছেন শায়লা শাগুফতা ইসলাম, কাজী মো. সালাহ উদ্দিন, ফরিদা ইয়াসমিন, সর্দার মোহাম্মদ মান্নান ও আবু মাহমুদ খান।
আতিকুল ইসলাম তার মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। তারা মনে করেন, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। যে কোনো নির্বাচনে হার-জিত থাকে। তিনি আগে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ছিলেন। সেখানে নির্বাচন করতে গিয়ে কোনো সময় হেরেছেন, কোনো সময় জিতেছেন। এটাই বাস্তবতা। তাই বলে কখনও মাঝপথে গিয়ে নির্বাচন বর্জন করেননি। তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন, নির্বাচনটা যেন অংশগ্রহণমূলক হয়।
আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পুরোটা সময় বিএনপি মাঠে থাকতে পারবে কিনা, নির্বাচনী মাঠে সমান সুযোগ থাকবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক মেয়র বলেন, তারা বিশ্বাস করেন, আগামী ৩০ জানুয়ারি যে নির্বাচন হবে, সেটি অংশগ্রহণমূলক হবে। তার বিশ্বাস, সবাই নির্বাচনে আসবেন এবং থাকবেন। এখন প্রথম দিন থেকেই যদি কেউ দাবি করেন- তারা মাঠে থাকতে পারবেন না; এটা ঠিক না।
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে আতিক বলেন, তারা অবশ্যই জনগণের ভোটে জিততে চান। ইভিএমে ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আস্তে আস্তে তাদের ইভিএমের দিকে যেতে হবে। বিভিন্ন উন্নত দেশে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ হয়। ইভিএমের মাধ্যমে অনেক সুন্দর ভোট হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বেলা পৌনে ২টার দিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাবিথ আউয়াল মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন। মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারী হিসেবে তার মা নাসরীন ফাতেমা আউয়াল, শহীদুল আলম, আশরাফুজ্জামান এবং প্রস্তাবকারী হিসেবে তার ভাই আজওয়ার এম আউয়াল, জসীম উদ্দিন ও আরিফুজ্জামান রয়েছেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি, মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জু, মহানগর উত্তর যুবদল সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল কাসেমের কাছে মনোনয়নপত্র তুলে দিয়ে তাবিথ আউয়াল ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের এই পদ্ধতির সঙ্গে সাধারণ মানুষ পরিচিত নয়। এর মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা কোনো বিষয়ে মন্তব্য করেননি।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শেষে সাংবাদিকদের কাছে তাবিথ আউয়াল বলেন, আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ হবে কিনা- এটা নিয়ে সন্দেহ আছে। এই সন্দেহ শুধু তাদের একার নয়; সাধারণ ভোটারদেরও অনেক প্রশ্ন আছে- তারা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন কিনা, ঠিকভাবে ভোট গণনা হবে কিনা। এ কথাগুলো নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরেছি। অতীতে বিতর্কিত নির্বাচন হয়ে এসেছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। অনেক অপরিস্কার জায়গা আছে। যেখানে প্রযুক্তি এবং তথ্য নিয়েও প্রশ্ন আছে। এগুলো নিয়ে আগামী দিনগুলোতে তারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলবেন।
তাবিথ বলেন, নির্বাচন নিয়ে তারা খুব সিরিয়াস। নির্বাচনে যত সমস্যাই আসুক, সব সমস্যা অতিক্রম করার চেষ্টা করব। শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব। তার মানে এই নয়- যে ভুলগুলো হতে যাচ্ছে, সেগুলো আগে থেকে মেনে নেব বা জনগণকেও মানতে দেব। সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে এ দাবিগুলো আবার তুলে ধরছি।
তাবিথ আরও বলেন, তারা আশাবাদী, আগামী দিনগুলোতে সংলাপের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারবেন। গত নির্বাচনের পর অনেক নির্বাচনে বিশেষ করে স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে শেষ পর্যন্ত মাঠে ছিলেন। অনেক অভিযোগ তুলেছিলাম, যেগুলোর একটাও আমলে নেওয়া হয়নি ও তদন্ত করা হয়নি। ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে যা হয়েছিল, সেখানেও কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছিলাম। যদিও দুঃখজনক; ভোটাররা ভোট দিতে পারেননি। আর গণনা তো দরকারই ছিল না। নির্বাচন যদিও সুষ্ঠু হবে না, তবুও গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করছি। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপের চেষ্টা করব। তাদের সবার দাবি মেনে নিয়ে অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করবে ইসি- এটা তাদের প্রত্যাশা।
সকাল সাড়ে ১১টায় মনোনয়নপত্র জমা দেন ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ। মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ভোট ডাকাতি হয়েছে। এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে- এটা জনগণ বিশ্বাস করে না। নির্বাচনের নূ্যনতম পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করি না। এ নির্বাচন কমিশনের প্রতি নূ্যনতম আস্থা অর্জিত হয়নি। সিপিবির মেয়র প্রার্থী ডা. আহাম্মদ সাজেদুল হক (রুবেল) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীর সঙ্গে ছিলেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সিপিবি নেতা লুনা নূর, খান আসাদুজ্জামান মাসুম, নিমাই গাঙ্গুলী, আলী কায়সার মামুন, রাসেল ইসলাম সুজন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর ডা. আহাম্মদ সাজেদুল হক (রুবেল) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ক্ষমতাসীনরা যাতে জাতীয় নির্বাচনের মতো ভোট ডাকাতি করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে। মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার লড়াই গড়ে তোলার জন্য এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।
- বিষয় :
- সিটি নির্বাচন
- উত্তর ও দক্ষিণ
- ঢাকা
