ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

ঢাবি ছাত্রীকে ধর্ষণ

ক্যাম্পাসে প্রতিবাদী আলপনা, ধর্ষকের কুশপুত্তলিকায় আগুন

ক্যাম্পাসে প্রতিবাদী আলপনা, ধর্ষকের কুশপুত্তলিকায় আগুন
×

ক্ষোভে উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস- সমকাল

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২০ | ১০:৪৪

রাজধানীর কুর্মিটোলায় এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের বিচার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তাল ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে নানা প্রতিবাদী কার্যক্রম শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নিয়ে ধর্ষকের বিচারের দাবি জানান তারা। আগুন দেন ধর্ষকের কুশপুত্তলিকায়।

ধর্ষকের বিচারসহ নানা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো অনশন করছেন বেশ কিছু শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, ধর্ষণের বিচারের দাবিতে রোকেয়া হলের প্রধান ফটক থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত প্রতিবাদী আল্পনা একেঁছে ঢাবি ছাত্রলীগ। এছাড়া দোষীদের শাস্তির দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ছাত্রদল।

মঙ্গলবার সকালেই শতাধিক শিক্ষার্থী ব্যানার ফেস্টুন হাতে আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মত্যুদণ্ড দ্রুত দেখতে চাই। বাংলা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাও পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নেন।

ধর্ষণের প্রতিবাদে ধর্ষকের কুশপুত্তলিকা আগুন দিয়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। দুপুরে ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষকও তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে ধর্ষনের প্রতিবাদস্বরূপ কুশপুত্তলিকা দাহ করেন তারা।

সমাবেশে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, আজকে উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে। এটা কেমন উন্নয়ন যেখানে মেয়েদের নিরাপত্তা থাকবে না। ওই ধর্ষককে প্রকাশ্যে এর শাস্তি দিতে হবে। এমন বিচার করতে হবে যা ইতিহাস হয়ে থাকবে।

ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নিজেদের বাস থেকে নামার পর যদি এভাবে নৃশংসভাবে ধর্ষিত হয়, তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা কি সেটা ভাবতেও অবাক লাগছে। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ যদি প্রকাশ্যে না হয়, অন্যায়ের শাস্তি যদি প্রকাশ্যে না হয়, তবে এই কাজের পুনরাবৃত্তি রোধ করা যাবে না। এসময় তারা ধর্ষণের শাস্তি প্রকাশ্যে দেওয়ার দাবি জানান।

অনশনে শিক্ষার্থীরা: ধর্ষককে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনাসহ চার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাতুল ইসলাম। তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো দুই শিক্ষার্থী।

তাদের অন্য দাবিগুলো হলো- ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করা, ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা।

ধর্ষণের ঘটনা জানার পরপরই রোববার রাত সাড়ে তিনটার দিকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনে বসেন সিফাত। সকালে তার সঙ্গে যোগ দেন তার দুই বন্ধু ডাকসুর সদস্য সাইফুল ইসলাম রাসেল এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান নাফিজ।

ছাত্রলীগের প্রতিবাদী আলপনা: ধর্ষণের ঘটনায় আলপনা ও মানববন্ধনে প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। দুপুরে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে রোকেয়া হলের সামনে থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত্ম প্রতিবাদী আলপনা আঁকার কর্মসূচি পালন করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিতে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন সনজিত। তিনি বলেন, ধর্ষক ধর্ষকই। তার কোন দল নাই, ধর্ম নাই। তারা ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

ছাত্রদলের আল্টিমেটাম: ধর্ষকের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ছাত্রদল। একইসঙ্গে ২৪ ঘন্টার মধ্যে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে আলটিমেটাম দেন তারা। অন্যথায় ছাত্রসমাজকে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দেন। ঢাবি ছাত্রদলের আহবায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন এবং সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন শ্যামল।

খোকন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিদিন কোন না কোন স্থানে গুম, খুন, হত্য, ধর্ষণ হচ্ছে। এর কোন সুষ্ঠু তদন্ত হচ্ছে না এবং এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার হচ্ছে না। তাই অপরাধীরা অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। শ্যামল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গুম, খুন, হত্যা ধর্ষণকে উস্কে দিয়েছে।

আরও পড়ুন

×