ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

এখনই টাকা ছাপানোর দরকার নেই

এখনই টাকা ছাপানোর দরকার নেই
×

সাইফুল হোসেন

প্রকাশ: ১১ মে ২০২০ | ১০:০০ | আপডেট: ১২ মে ২০২০ | ০৯:২৮

পুরো পৃথিবী এত নীরব, এত ভয়ংকর শান্ত হয়নি কখনও। করোনাভাইরাস পৃথিবীর মহাব্যস্ত মানুষদের অর্ধেকের বেশি সংখ্যককে বাধ্য করেছে ঘরের মধ্যে নিজেদের বন্দী করে রাখতে। স্মরণকালে মানবজাতিকে এমন অসহায় হতে দেখিনি আমরা।

আমাদের দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে লকডাউন থাকার কারণে পুরা জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, থেমে গেছে মানুষের অর্থনৈতিক কার্যক্রম। মানুষের আয় কমে গেছে, ফলে কমেছে ক্রয়ক্ষমতা, সাথে কমেছে ঋণের প্রবাহ, কমে গেছে সামগ্রিক ব্যয়। সবচেয়ে বড় কথা অর্থনীতিতে কমে গেছে লেনদেন। একশ' টাকা দিনে ১০ বার হাত বদল হলে সেটা এক হাজার টাকার মূল্য তৈরি করে। টাকার সেই হাতবদল এখন সবচেয়ে কম। টাকা যখন কোন এক হাতে বন্দি থাকে তখন সে তার শক্তি হারায়।

এখন যেহেতু মানুষের কাজ কম, ফলে আয় ও খুব কম, সেজন্য দ্রব্য ও সেবা ক্রয় করার মত পর্যাপ্ত টাকা তাদের হাতে নেই মানে তাদের ক্রয়ক্ষমতা নেই। অন্যদিকে পণ্য পরিবহনের সুবিধা না থাকায় পণ্য নষ্ট হচ্ছে; কিন্তু পণ্যের জোগান ঠিকমত হচ্ছে না। সেজন্য একদিকে পণ্য উৎপাদন হলেও যথাযথ পরিবহণ ব্যবস্থার কারণে বিক্রয় করা যাচ্ছে না, পচনশীল পণ্য নষ্ট হচ্ছে, ফলে পণ্য উৎপাদনকারী বিক্রয়মূল্য পাচ্ছে না। এখন সমস্যা পণ্য-জোগান ও চাহিদা- উভয় দিকেই।

এমন পরিস্থিতিতে যেহেতু মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে গেছে সেজন্য অনেক অর্থনীতিবিদ মতামত প্রকাশ করছেন যে, সরকারের উচিত টাকা ছাপিয়ে জনগনের হাতে নগদ টাকা দেওয়া। অনেকে আবার এখনই টাকা ছাপানোর পক্ষে নন। আমরা জানি বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ৬৬ উদীয়মান অর্থনীতির দেশের ভবিতব্য বিশ্লেষণ করেছে ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট। অর্থনৈতিক শক্তির বিবেচনায় সেই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৯ম। অর্থনীতির চারটি প্রশ্নকে বিবেচনায় নিয়ে ৬৬ দেশের সবলতা-দুর্বলতা পরীক্ষা করে র‌্যাঙ্কিংটি করা হয়েছে। এগুলো হলো- জনগণের ঋণ হিসেবে জিডিপির শতাংশ, বৈদেশিক ঋণ, ঋণের সুদ, রিজার্ভ। র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী, উল্লেখিত সূচকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী বা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছে।

ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনাভাইরাসের ভয়াবহতার মধ্যেই ভারত-চীন কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশের চেয়ে তুলনামূলক নিরাপদে রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। অর্থনীতিবিদদের করা ওই তালিকা মতে, প্রতিবেশী দেশ ভারতের অবস্থান ১৮, পাকিস্তান রয়েছে ৪৩তম অবস্থানে। আর ভারতের কাছেই রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির অবস্থান ১৭।

এখন এটা পরিষ্কার যে করোনা-পরবর্তী প্রভাব আমাদের অর্থনীতিতে অনেক গভীর। আইএলও তথ্যভাণ্ডার মতে, বর্তমানে বাংলাদেশের কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা ৬ কোটি ২৫ লাখ। এর মধ্যে ২০১৬ সালে ৫৮ শতাংশ কর্মসংস্থান ছিল নাজুক। আনুষ্ঠানিক চুক্তিহীন কাজকে আইএলও নাজুক শ্রেণিতে ফেলে, আর এই শ্রেণিতে পড়ে সাধারণ দিনমজুর, গৃহকর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিরা। এদিকে বাংলাদেশের মোট কর্মসংস্থানের ৯০ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক। মূলত কৃষি খাতে কর্মসংস্থান বেশি হওয়ায় এসব দেশে অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের হার বেশি। তবে অকৃষি খাত, যেমন নির্মাণ, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা, হোটেল ও খাদ্যসংক্রান্ত সেবাশিল্পে অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের হার বেশি হয়ে থাকে।

তাছাড়া আমাদের অর্থনীতিতে বেকারত্বের হার ৪.২৯ শতাংশ (২০১৯)। প্রতি বছর ২০-২২ লাখ শিক্ষিত বেকার যুক্ত হচ্ছেন এই তালিকায়। তার ওপর, করোনা-সংকটের ফলে বিদেশ থেকে ফেরত এসেছেন কয়েক লাখ কর্মী। এরা আবার তাড়াতাড়ি সেসব দেশে ফিরতে পারবেন বলে মনে হয় না। করোনা-সৃষ্ট মহামারী বাংলাদেশের অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের মোট কর্মজীবী মানুষের প্রায় ৮০ শতাংশকে কর্মহীন করে ফেলেছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, গত ১০ বছরে আমাদের দেশে প্রায় এক কোটি মানুষ হতদরিদ্র অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছেন। ২০১৯ সালের জুন মাস শেষে অতি গরিব বা হতদরিদ্র ব্যক্তির সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখের কিছুটা বেশি। বাংলাদেশে এখন ১৬ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যা রয়েছে। সব মিলিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে সোয়া তিন কোটি মানুষ। করোনার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হলে আরও কয়েক কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার নীচে চলে আসবে। অর্থাৎ এতদিনের অর্জন বিলীন হয়ে যাবে এই তাণ্ডবে।

সারা পৃথিবীর অবস্থা ভহাবহ ধরণের খারাপ। শুধু আমেরিকাতে প্রায় এক কোটি মানুষ বেকারত্ব ভাতার জন্য আবেদন করেছে। ইউরোপে ও একই অবস্থা। এই অবস্থায় উন্নত দেশগুলো তাঁদের আপাত বিপদ সামাল দেয়ার জন্য টাকা ছাপানো শুরু করেছে। উন্নত বিশ্বের এই ধারা অনুসরণ করে অনেক অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশেও সরকারকে  টাকা  ছাপানোর পরামর্শ দিয়েছে। অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিস্থিতিতে টাকা ছাপিয়ে গরীব মানুষের হাতে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

মনে রাখতে হবে এটা বাংলাদেশ, আমাদের জীবনযাপনের ধরণ আলাদা, আমাদের মানুষের মানসিক গঠন ও সামাজিক অবস্থান আমেরিকা বা ভারত থেকে ভিন্ন। তাই আমরা যখন পশ্চিমা ধাঁচের অর্থনীতি ক্রিয়ার সাথে নিজেদের মিলিয়ে ফেলি তখনই সেটা আমাদের জন্য বিপদ ডেকে আনার সম্ভাবনার জন্ম দেয়। আমেরিকার মত অর্থনীতিতে টাকা ছাপানোর দরকার হয়েছে কারণ তাঁদের সেন্ট্রাল ব্যাংক ফেডের হাতে টাকা ছাপানো ছাড়া কোন অস্ত্র নেই। ফেডারেল রিজার্ভ তার সুদের হার প্রায় শুন্যতে নামিয়ে এনেছে। তাই মনিটারী পলিসিতে ছাড় দেয়ার কথা ভাবতে পারেনি বরং তারা নগদ টাকা জোগানোর ব্যবস্থা করেছে। এ সময় অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও  টাকা ছাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কা- এসব দেশ এখনও সেই সিদ্ধান্ত নেয়নি।

আমাদের দেশে নীতি ছাড় দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব। আপাতত বাংলাদেশে টাকা ছাপানোর দরকার নেই কারণ-

১. বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে নীতি ছাড় দিয়ে মার্কেটে টাকার জোগান বাড়ানোর সুযোগ আছে। ইতোমধ্যে নগদ জমার হার এবং রেপ রেট কমিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা জোগানের ব্যবস্থা করেছে। সিআরআর দুই দফায় দেড় শতাংশ কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে আরও ১৯ হাজার কোটি টাকা নতুন করে ঋণ দেয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে ব্যাংকগুলো। এডিআর সীমা ২ শতাংশ বাড়িয়ে ৮৭ শতাংশ (ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য ৯২ শতাংশ) করা হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলো ২০ হাজার কোটি টাকা বিদ্যমান টাকার মধ্য থেকেই বাজারে ঋণ দিতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে বাজারে টাকার সরবরাহ আছে ১২ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে মানুষের হাতে আছে মাত্র ১ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকা। বাকি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় জমা আছে। তাছাড়া গত জানুয়ারি পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ৩ লাখ ১৩ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা জমা আছে। তাদের জমা রাখার প্রয়োজন ছিল ২ লাখ ১০ হাজার ৪১২ কোটি টাকা। অতিরিক্ত জমা আছে ১ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। কোন নীতি পরিবর্তন ছাড়াই এই টাকা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নিয়ে ঋণ বিতরণ করতে পারে।

এ ছাড়া রেপো রেট দশমিক ৫ শতাংশ কমিয়ে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো প্রয়োজনে কম সুদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিতে পারবে। এই নীতিগুলো আরও শিথিল করে বিপুল পরিমাণ টাকা বাজারে সরবরাহের সুযোগ রয়েছে। এর বাইরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কয়েকটি তহবিল গঠন করেছে, যার আওতায় আরও ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকগুলো ঋণ দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই তহবিল আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। এই বছর ডিভিডেন্ট নিষিদ্ধ করা হলে অন্তত ৫-৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়ার জন্য পাবে ব্যাংকগুলো। অর্থনীতিতে এই বাড়তি তারল্য আমাদের আশান্বিত করে যে এখুনি টাকার প্রবাহ না বাড়ালেও চলবে।

২. আমরা জানিনা এই ক্রান্তিকাল কতদিন চলবে। অর্থনৈতিক এই মন্দা যদি মহামন্দায় রূপ নেয় তাহলে তখন বাজারের অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নিতে হবে । তবে এখন সেই অবস্থায় যায়নি আমাদের অর্থনীতি। সরকার যে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ হাতে নিয়েছে সেটার বাস্তবায়ন শুরু হলে দেশের এই আর্থিক বন্ধাত্ত অনেকটা কেটে যাবে। কারণ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ঋণের প্রবাহ ঢুকবে অর্থনীতিতে যা মানুষের আয় বাড়াতে অবদান রাখবে। তাছাড়া জামানত ছাড়াই নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। সমাজের নিম্নবিত্তের মানুষের জন্য সরকারের আর্থিক সাহায্য, ঋণের ব্যবস্থা, নিম্নমধ্যবিত্তের জন্য অল্পদামে খাদ্যপণ্য বিক্রয়, সারকারের ন্যায্য দামে ধান ক্রয় কর্মসূচি- এগুলো শুরু হলে টাকার প্রবাহ সঞ্চারিত হবে অর্থনীতিতে। তার ফলে মানুষের সামগ্রিক ব্যয় যার পরবর্তীতে মানুষের আয় বাড়াতে, সঞ্চয় বাড়াতে, বিনিয়োগ বাড়াতে, আয় বাড়াতে ও পুনরায় ব্যয় বাড়াতে সহায়ক হবে।

৩. উন্নত বিশ্বে দেশীয় সামগ্রিক ব্যয়ের একটা বড় অংশ আসে ঋণ থেকে। আমাদের দেশের অবস্থা তেমন নয়। দেশের সাধারণ মানুষের বেশির ভাগ ঋণের বাইরে। ফলে উন্নত দেশ যেমন আমেরিকার জনগণ আমাদের দেশের জনগনের চেয়ে ভঙ্গুর প্রকৃতির। তারা সরকারী সহায়তা ছাড়া চলতে পারেনা। আর আমাদের দেশের মানুষ সরকার যে সাহায্য করে দুর্যোগে সেটা জানেনা। ফলে আমাদের জনগনের মানুষিক প্রস্তুতি এমন যে নিজের বিপদকে নিজে সমাধান করতে হবে। এই মানুষিক প্রস্তুতি তাদেরকে শক্তিশালী করেছে। তাছাড়া নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ তারা নিজেরাই মোকাবেলা করতে অভ্যস্ত। তাই সরকারের নেয়া পদক্ষেপ যদি ন্যায়-নিষ্ঠা, সততা ও নিয়মতান্ত্রিকতার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয় তাহলে মানুষ এই চরম খরার অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসবে। তাছাড়া যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজে নিয়োগ করা যায়, যা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, তাহলে অর্থনীতিতে আয়প্রবাহ সৃষ্টির মাধ্যমে চাহিদা তৈরি হবে, ব্যয় বাড়বে, অর্থনীতিতে তারল্যের অভাব কমে আসবে।

৪. আমেরিকান অর্থনীতিতে টাকা ছাপানোর ফলে ভেনিজুয়েলার মত অবস্থার তৈরি হতে পারে বলে ওয়ারেন বাফেটের কোম্পানি বার্কশায়ার হ্যাথওয়ের ভাইস চেয়ারম্যান চার্লি থমাস মাঙ্গার হুঁশিয়ার করেছেন। ২০০০ সালে টাকা ছাপানোর ফলে ভেনিজুয়েলার মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ১০ হাজার শতাংশ। আমাদের দেশের অবস্থা টাকা ছাপালে ভয়ংকর হতে পারে। পণ্যের উৎপাদন সরবরাহ না বেড়ে যদি টাকার সরবরাহ বেড়ে যায় তাহলে হাইপার ইনফ্লেশান হবার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আমরা কেন এখুনি সেই ঝুঁকি নিতে যাবো? আমাদের উচিত এই অবস্থা কতদিন চলে সেটা দেখা আর সমস্ত পলিসিগত দিক খতিয়ে দেখা। আমাদের বিদেশী দাতা সংস্থা ও ঋণ দানকারী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে অর্থ জোগাড় করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। ঋণ পেতে আমাদের অসুবিধা হবার কথা নয় কারণ ঋণের কিস্তি পরিশোধে আমাদের কোন খারাপ ইতিহাস নেই। আমরা জানি ইতোমধ্যে কিছু দাতা সংস্থা ঋণ প্রদানের ব্যাপারে প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

৫. টাকা ছাপানোর আগে সরকারকে বলবো সমাজের উচ্চসম্পদশালীদের উপর সম্পদ করারোপের বিষয়ে চিন্তা করতে। তাছাড়া বিদেশী ব্যাঙ্কে যাদের প্রচুর অবৈধ টাকা আছে, বড় বড় ঋণ খেলাপি যারা আছেন, যারা বিভিন্ন সময়ে বিদেশে প্রচুর টাকা পাচার করে বেগম পাড়াসহ বিভিন্ন পাড়া বানিয়েছেন যার তালিকা সরকারের কাছে আছে বলেই বিশ্বাস করি, তাদের উপর সরকার চাপ প্রয়োগ করে এই দুঃসময়ে বিনা শর্তে টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে পারে। তাছাড়া বিদেশে অনেক বাঙালী আছেন যারা দেশে বিনিয়োগ করতে চান কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বিনিয়োগ করতে পারেন না, সরকার তাদেরকে অনুরোধ করতে পারে। এখনই সময়। তাহলে নগদ টাকার প্রবাহ বাড়তে পারে। হয়ত একটু সময় লাগবে।উপরন্তু টাকা ছাপানোর অস্ত্র আমাদের হাতে থাকলো, যদি প্রয়োজন হয় তাহলে শেষ অস্ত্র হিসেবে সেটা ব্যবহার করা যাবে কিন্তু এখুনি নয়। উপরের কারণগুলো ছাড়াও টাকার মূল্যমান কমে গেলে বৈদেশিক বাণিজ্যেও যে আমরা পিছিয়ে পড়ব সেটাও ভাবতে হবে।

আমরা পাশ্চাত্যের অর্থনীতি-তত্ত্বের বাইরে গিয়ে আমাদের দেশের আদলে তত্ত্ব তালাশের চেষ্টা করি। অন্য পায়ের জুতা আমাদের পায়ে ফিট করবে না। আমাদের জুতা আমরা বানাই, তাতে হাঁটতেও আরাম পাবো, টিকবেও বেশীদিন।

কলাম লেখক ও অর্থনীতি বিশ্লেষক; ফাউন্ডার ও সিইও, ফিনপাওয়ার লিডারশিপ ইন্টারন্যাশনাল

[email protected]


আরও পড়ুন

×