সমাজ
কিশোর গ্যাং: প্রজন্মের জন্য অশনিসংকেত
মুসাফির পারভেজ
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬ | ২১:০৮
বর্তমান সময়ের অন্যতম ভয়ংকর সামাজিক ব্যাধির নাম কিশোর গ্যাং। ১২ থেকে ২০ বছর বয়সী কিশোরদের ছোট ছোট দল মিলে গড়ে উঠেছে ভয়াবহ কিশোর গ্যাং। যে বয়সে তাদের থাকার কথা ছিল পড়ার টেবিলে কিংবা অবসরে খেলাধুলায়, সেই বয়সেই তারা জড়িয়ে পড়ছে মাদক, সন্ত্রাস, প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। সামান্য তর্কবিতর্ক নিয়ে শুরু হচ্ছে সংঘর্ষ, মারামারি, এমনকি খুনোখুনিও। গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের অলিগলি– প্রায় সবখানেই এখন কিশোর গ্যাংয়ের উপস্থিতি।
কিশোর গ্যাংয়ের এই উপস্থিতির অন্যতম কারণ হলো প্রভাব বিস্তারের রাজনীতি। স্থানীয়ভাবে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে অনেকেই অল্প বয়সী কিশোরদের বিভিন্ন প্রলোভনে নিজেদের বলয়ে টেনে নিচ্ছে। মাদক, চুরি, ছিনতাই, টেন্ডারবাজি থেকে শুরু করে অস্ত্র ব্যবহারের মতো ভয়ংকর কর্মকাণ্ডেও তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে একটি শ্রেণি কিশোরদের ‘প্রশিক্ষিত ক্যাডার’ হিসেবে গড়ে তুলছে, যা সমাজের জন্য ভয়াবহ সংকেত। এর ফলে সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। অল্প বয়সী কিশোররা পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের জন্য হুমকিতে পরিণত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষে মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যৌন হয়রানি, সহিংসতা ও নানা অপরাধের শিকার হচ্ছে। শিক্ষকরা পর্যন্ত তাদের দ্বারা লাঞ্ছিত হচ্ছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো– তরুণদের একটি বড় অংশ পড়াশোনা ও কর্মমুখী জীবন থেকে ধীরে ধীরে বিচ্যুত হয়ে পড়ছে। বেকারত্ব বাড়ছে, আর বেকারত্ব যত বাড়বে, সমাজে বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতাও তত বৃদ্ধি পাবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও রাষ্ট্রকে দ্রুত এবং কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় কিশোর গ্যাং একসময় সামাজিক মহামারিতে রূপ নেবে।
ন্যূনতম কলেজ পর্যায় পর্যন্ত সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবতে হবে। স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজে ক্রীড়ামুখী ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়াতে হবে। শিক্ষকদের নৈতিক শিক্ষা প্রদানে আরও সক্রিয় হতে হবে। পরিবারকেও সন্তানদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান– মসজিদ, মন্দির কিংবা অন্যান্য উপাসনালয় থেকে নৈতিকতা, মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতার শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে কিশোররা সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে।
মনে রাখতে হবে, আজকের কিশোররাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাদের সঠিক পথে গড়ে তুলতে পারলে তারাই হবে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাই কিশোরদের ধ্বংসের পথে নয়, দেশ গঠনের শক্তিতে পরিণত করার জন্য এখনই সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
মুসাফির পারভেজ: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী
- বিষয় :
- কিশোর গ্যাং
- অপরাধ
- সমাজ