সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী আপিলের শুনানি শুরু
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬ | ২১:৪৫ | আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ | ২২:০৪
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে সোমবার শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া ও শিশির মনির। মঙ্গলবার ফের শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে।
সোমবোর প্রথম দিনে শুনানি শেষে শরীফ ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই মামলার শুনানি শেষ করতে হবে। কারণ এরপর একজন বিচারক অবসরে যাবেন। আমরা আশা করছি, আদালতও বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করবেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর আপিলের অনুমতি দেন আপিল বিভাগ। এরপর ১১ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ মামলাটির শুনানি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর হবে বলে মুলতবির আদেশ দেন।
২০১১ সালের ৩০ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন সংসদে পাস হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ ওই সংশোধনীতে সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছিল।
এই সংশোধনী বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি। সরকার পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট হাইকোর্ট রুল জারি করেন। শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ বাতিল ঘোষণা করা হয়। রায় পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোটা বাতিল করা হচ্ছে না। বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে আগামী জাতীয় সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করতে পারবে।
পরে ওই রায় পুরো বাতিল চেয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন রিট মামলার বাদীপক্ষ সুজন সম্পাদকসহ চার বিশিষ্ট ব্যক্তি। নওগাঁর মোফাজ্জল হোসেন নামে একজন আরেকটি লিভ টু আপিল করেন। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও একটি লিভ টু আপিল করেন। এ ছাড়া বিএনপির পক্ষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও গণফোরাম নেতা সুব্রত চৌধুরীসহ কয়েকজন পক্ষভুক্ত হন। বদিউল আলম মজুমদারের আইনজীবীর দাবি– পুরো সংশোধনী বাতিল করতে হবে।
সোমবার ব্যারিস্টার শরীফ ভূঁইয়া বলেন, হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক চরিত্র পরিবর্তন করা হয়েছে। এটি বাতিল হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের জনবিরোধী সংশোধনী আর না হয় এবং জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা নস্যাৎ করা না যায়।
আপিল করার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, হাইকোর্ট বিভাগ পুরোটা বাতিল করেননি। এটি পুরোটা বাতিল করা উচিত।