হাত হারানো সেই নাহিদ পেল ৩০ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬ | ২১:০৪
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের হাত হারানো সেই কিশোর নাঈম হাসান নাহিদকে ১৫ লাখ টাকার চেক বুঝিয়ে দিয়েছেন ভৈরবের নূর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক হাজী ইয়াকুব। আজ সোমবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে এ টাকার চেক বুঝিয়ে দেওয়া হয়। আদালতের আদেশে ১৫ লাখ টাকাসহ মোট ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেল কিশোর নাহিদ।
আদালতে নাহিদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ওমর ফারুক। তিনি বলেন, ৬ বছরের আইনি লড়াই সফল হয়েছে। আদালতের রায়ে মোট ৩০ লাখ টাকা পেল কিশোর নাহিদ। এছাড়া পড়ালেখার খরচের জন্য প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে পাবে নাহিদ।
এর আগে গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি আদালতের আদেশের পরও নাঈম হাসান নাহিদকে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ না দেওয়ায় কারখানার মালিক হাজী ইয়াকুবকে তলব করেন আপিল বিভাগ।
২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি হাত হারানো নাহিদকে ৩০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে শিশুটি এইচএসসি পাস না করা পর্যন্ত তাকে প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে দিতে বলা হয়। ভৈরবের নূর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিককে এই আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।
‘ভৈরবে শিশুশ্রমের করুণ পরিণতি’ শিরোনামে ২০২০ সালের ১ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তখন নাঈম হাসানের বয়স ১০ বছর। সে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রামে। তার বাবা আনোয়ার হোসেনের পেশা জুতার ব্যবসা। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর সময়ে আনোয়ার কর্মহীন হয়ে পড়েন। এ সময় সংসারের চাপ সামলাতে নাঈমকে তার মা-বাবা কিশোরগঞ্জের ভৈরবের একটি ওয়ার্কশপে কাজে দেন। এই ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়েই তার ডান হাতটি মেশিনে ঢুকে যায়। শেষে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনুই থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় ডান হাতটি।
- বিষয় :
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া
- হাইকোর্ট
- ক্ষতিপূরণ