করোনা ও আইসিটি নির্ভরতা
কে এম পারভেজ ববি
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২০ | ০১:২৪ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
আধুনিক বিশ্বে মানুষের সবচেয়ে বড় আচরণ হলো সদা গতিশীল থাকা। কিন্তু এই গতিশীলতা খুব কম মানুষই সাধারণত প্রকাশ করতে পারেন। কারণ নিজের সুবিধাজনক পরিস্থিতি বা কমফোর্ট জোন পরিবর্তন করতে পারেন না অনেকেই, পরিবর্তনটা যত সহজই হোক না কেন। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরিবর্তন গ্রহণ করতে হয় অনেকটা বাধ্য হয়ে। উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশে করোনাভাইরাস মানুষকে একদিকে যেভাবে ঘরবন্দি করেছে ঠিক তেমনিভাবে ব্যাবহার করতে বাধ্য করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। কয়েকদিন আগে শুনেছিলাম ইন্টারনেট এখন মানুষের ষষ্ঠ চাহিদা হিসাবে গণ্য। তখন খুব একটা বোধগম্য না হলেও আজ তা অনেকাংশেই প্রমাণিত।
আজ সচেতন মানুষ ঘরের বাইরে যাওয়া থেকে বিরত রয়েছে। কিন্তু কাজ বা জীবন থেমে নেই। প্রয়োজনীয় সব কিছুই এখন অনলাইনে। টাকা ট্রান্সফার থেকে তাজা শবজি, ওদিকে অফিসের কাজ থেকে অনলাইনে লেখাপড়া, সবই আইটি নির্ভর। আমরাও অভ্যস্ত হয়ে উঠছি। যে ইন্টারনেট বা আইটির ব্যবহার ছিল সৌখিনতা সেটা আজ হয়েছে প্রয়োজন। বলতে গেলে সব ক্ষেত্রেই আমরা আসিটিভিত্তিক সমাধান খুঁজছি। হয়তো বাধ্য হয়েই, হোক বা না হোক।
খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, অ্যাপভিত্তিক কিছু সেবা আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করেছিল। পাঠাও-উবারের মতো রাইড শেয়ারিং অ্যাপ আমাদের জীবনের যাতায়াত অনেক সহজ করেছে। গড়ে উঠেছে অনলাইন ব্যবসা। গতানুগতিক বড় বড় মারকেট দিশা হারাচ্ছে। ব্যবসা বা স্টার্টআপ এখন অনলাইনের কল্যাণে সাহসী হয়ে উঠছে। যদিও সুপারসপে মানুষের কেনাকাটা ছিলো প্রথম পছন্দ; এগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছিল ডিজিটালাইজেশনের।
করোনার প্রাদুর্ভাবে ভোক্তার চাহিদা ও আচরণে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে মানুষ চায় বাড়িতে থেকেই তার নিত্যপ্রয়োজনীয় সব কিছু হাতের নাগালে পেতে। আর তার জন্য এখন অনলাইনের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া উপায় নেই। বিশ্বব্যাপি চলছে লকডাউন, কিন্তু জীবন থেমে নেই। পরিবর্তন এসেছে চাহিদায়, পরিবর্তন এসেছে পরিবেশে। কভিড-১৯ মহামারি একটি নতুন শ্রেণির পণ্যকে ‘নতুন প্রয়োজনীয়’ বলে সংজ্ঞায়িত করেছে।
মানুষ বাড়িতে থাকতে থাকতে তার প্রয়োজনে পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে অন্যতম অফিস মনিহারী, ব্যয়ামের সরঞ্জাম, খেলনা, ঘরবাড়ি পরিষ্কারের বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। বর্তমানে ডিজিটাল পেমেন্ট একটি অন্যতম মাধ্যম। একটি জরিপে দেখা গেছে ইটালিতে ৮১% মানুষ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহার করছে।
করোনার প্রাদুর্ভাব পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপি ই-কমার্স অর্ডার ৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী দিনগুলোতে মানুষ খুব সহজেই ই-কমার্সকে গুরুত্ব দেবে। সময়ের মূল্য ও এর যথাযথ ব্যাবহারের চেষ্টা করবে। ফলে ই-কমার্স ও ডিজিটাল পেমেন্ট হবে সহজলভ্য। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার একটি বড় অংশে থাকবে অনলাইনে অ্যাসাইনমেন্ট ও কুইজের ব্যবস্থা।
ডিজিটালাইজেশন যাদের কাছে ছিল সৌখিনতা আজ ও আগামীতে সেটা হয়ে উঠবে অন্যতম মাধ্যম। কারণ পিছিয়ে থাকতে চাইলেই থাকা যাবেনা। হয়তো যুগে যুগে এমন বাঁধা আসে নতুন আবিষ্কার ও পুরাতনকে পরিবর্তন করে দিতে সাহায্য করার জন্য। ইতিহাসও বলে, স্যার আইজ্যাক নিউটনের বিখ্যাত সূত্রটি প্লেগের প্রাদুর্ভাবকালে তার মাথায় এসেছিল। মেনে নিতেই হবে, নতুন আসে পুরাতনকে পরিবর্তন করতে। সময়ের দাবি মেনে নতুনকে সাজানোটাই শ্রেয়।
লেখক: সিনিয়র সহকারী পরিচালক, ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট