বিএনপির শিক্ষাদর্শন
ধারাবাহিক অভিযাত্রায় নিরক্ষরতা দূরীকরণ থেকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব
উচ্চশিক্ষা খাতে গবেষণাকে জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে
মির্জা মুহাম্মদ শাহজামাল
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:৩১ | আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:৩৭
একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় তার শিক্ষাব্যবস্থার মানের ওপর। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি তাঁর জন্মলগ্ন থেকেই এই সত্যকে রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে রেখেছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি থেকে শুরু করে ভিশন ২০৩০, রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচি এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬ পর্যন্ত - প্রতিটি ধাপে শিক্ষা বিষয়টি ক্রমশ গভীরতর, বিস্তৃততর এবং সময়োপযোগী রূপ নিয়েছে। আজ যখন বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায়, তখন এই ধারাবাহিকতা পর্যালোচনা করা কেবল রাজনৈতিক কর্মীর দায়িত্ব নয়, বরং নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, দাতা সংস্থা ও উন্নয়ন-অংশীজনদের জন্যও প্রাসঙ্গিক এক অনুসন্ধান।
১৯ দফা: বীজ বপনের কাল
১৯৭৭ সালে শহীদ জিয়াউর রহমান দেশের আর্থ-সামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে যে ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন, তার মধ্যে শিক্ষা ছিল একটি মৌলিক স্তম্ভ। নবম দফায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে হবে। এটি ছিল স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে এক সাহসী অঙ্গীকার, কারণ তখন দেশের সিংহভাগ মানুষ ছিল শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। একাদশ দফায় নারীর যথাযোগ্য মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও যুবসমাজকে জাতি গঠনে সুসংহত করার কথা বলা হয়, যা পরোক্ষভাবে নারীশিক্ষা ও যুব-উন্নয়নের ভিত্তি রচনা করে। চতুর্থ দফায় প্রশাসন, উন্নয়ন কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা এবং সপ্তদশ দফায় প্রশাসন ও উন্নয়ন ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণের কথা বলা হয় - যা পরবর্তীতে শিক্ষার বিকেন্দ্রীকরণ ও তৃণমূলে শিক্ষা-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার নীতির পূর্বসূরি হিসেবে বিবেচনা করা যায়। এই ১৯ দফা ছিল মূলত একটি দিকনির্দেশনা - একটি জাতিকে স্বনির্ভর, ন্যায়ভিত্তিক ও মর্যাদাসম্পন্ন করে তোলার সামগ্রিক কাঠামো, যেখানে শিক্ষা ছিল আত্মনির্ভরশীলতার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত।
ভিশন ২০৩০: কাঠামোবদ্ধ ও দূরদর্শী নীতিমালা
সময়ের পরিক্রমায় বিএনপির শিক্ষাদর্শন আরও কাঠামোবদ্ধ ও বিস্তারিত রূপ লাভ করে ২০১৭ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঘোষিত ভিশন ২০৩০ দলিলে। এখানে "শিক্ষা ও মানব সম্পদ" শীর্ষক একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় সংযোজিত হয়, যেখানে স্পষ্ট বলা হয় - ঘনবসতিপূর্ণ ও সম্পদ-দরিদ্র বাংলাদেশে শিক্ষা ও প্রযুক্তির প্রসার ছাড়া মানবসম্পদ উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। ভিশন ২০৩০-এ প্রথমবারের মতো একটি সুনির্দিষ্ট আর্থিক অঙ্গীকার আসে - শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি, যা আজও বিএনপির শিক্ষানীতির অন্যতম মূল ভিত্তি হিসেবে বহাল আছে।
৩১ দফা: চাহিদা ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার দর্শন
২০২৩ সালে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ঘোষিত ৩১ দফা দলিলে বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক অবস্থান আরও পরিশীলিত হয়। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য তৈরি করা হয় - নিম্ন ও মধ্য পর্যায়ে চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা এবং উচ্চ শিক্ষায় জ্ঞান-ভিত্তিক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়। এই দ্বিস্তরীয় দৃষ্টিভঙ্গি শিক্ষানীতির একটি পরিণত বিকাশ নির্দেশ করে; নিচের স্তরে বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা এবং উপরের স্তরে গবেষণা ও জ্ঞান-সৃজনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।
নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬: রূপকল্প থেকে বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনায়
এই দীর্ঘ বৌদ্ধিক বিবর্তনের চূড়ান্ত রূপ পাওয়া যায় বিএনপির সাম্প্রতিক নির্বাচনী ইশতেহারে, যেখানে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন অধ্যায়ে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবায়নযোগ্য প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে পূর্ববর্তী সব দলিলের ধারাবাহিকতা স্পষ্ট, জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ, জীবনমুখী শিক্ষা, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ - কিন্তু এবার তার সাথে যুক্ত হয়েছে নতুন ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা
প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষকদের ট্যাবলেট কম্পিউটার সরবরাহ, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকায় মিড-ডে মিল চালু, বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম প্রদান এবং ঝরে পড়া রোধে প্রতিটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের জন্য অনন্য ডিজিটাল পরিচয় ‘এডু-আইডি’ চালুর প্রতিশ্রুতি এসেছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে "আনন্দের সাথে শেখা"র দর্শন এবং প্রাক-প্রাথমিক পর্যায় থেকেই মানসম্মত ও মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষার নিশ্চয়তার কথা বলা হয়েছে।
মাধ্যমিক পর্যায়ে দুটি প্রতিশ্রুতি লক্ষণীয়। প্রথমত, মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি বাধ্যতামূলক কারিগরি শিক্ষা চালুর ঘোষণা, যাতে এসএসসি বা সমমান স্তরেই একজন শিক্ষার্থী কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারে - এমনকি পরিবার সামর্থ্যের অভাবে উচ্চশিক্ষায় না গেলেও। দ্বিতীয়ত, আরবি, জাপানি, কোরিয়ান, ইতালিয়ান, ম্যান্ডারিনসহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষা মাধ্যমিক স্তর থেকেই বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব, যা দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত করার লক্ষ্যে নেওয়া। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্তকরণ, শিক্ষকদের আর্থ-সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং একটি ‘শিক্ষা সংস্কার কমিশন’ গঠনের অঙ্গীকারও এসেছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা
মাদ্রাসা শিক্ষা আধুনিকীকরণের ধারা ভিশন ২০৩০ থেকে ইশতেহার পর্যন্ত অব্যাহত ও সম্প্রসারিত হয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের আইসিটি ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি, কারিগরি প্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দূরীকরণ এবং পাঠ্যক্রমে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও ভাষা শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির প্রতিশ্রুতি এসেছে। কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস সনদের পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি বাস্তবায়ন এবং বিদেশে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষায় প্রবেশের বাধা দূরীকরণের কথাও বলা হয়েছে—যা প্রমাণ করে মাদ্রাসা শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থার সাথে সমন্বিত করার একটি ধারাবাহিক প্রয়াস বিএনপির নীতিতে বহমান।
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা
উচ্চশিক্ষা খাতে গবেষণাকে জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প যৌথ গবেষণাগার স্থাপন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আটটি আঞ্চলিক শাখায় বিভক্তকরণ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) আরও ক্ষমতাশালী করা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করে আয়কর অব্যাহতি প্রদান, শিক্ষার্থীদের আবাসন ও গ্রন্থাগার সমস্যার সমাধান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি এসেছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষাঋণ সহজলভ্য করা এবং বিদেশি অতিথি শিক্ষক ও বিনিময় কর্মসূচি চালুর মাধ্যমে উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যও নির্ধারিত হয়েছে। উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি বিনির্মানে বিএনপির যে প্রতিশ্রুতি, তা বোঝা গেছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইনোভেটিভ আইডিয়া পাইলটিং করার জন্য সিড ফান্ডিং প্রদানের ঘোষণায়। যদিও সরকারের এই যুগান্তকারী এবং বৈপ্লবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের তৎপরতা এখনো চোখে পড়ছে না।
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২৭ লাখ বেকারের মধ্যে প্রায় ৯ লাখই উচ্চশিক্ষিত-এই বাস্তবতা মোকাবিলায় ইশতেহারে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র স্থাপন, সকল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনামূল্যে দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপন, শিল্প-কারখানায় হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের সনদায়নের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি এসেছে। একটি ‘জাতীয় ডিজিটাল দক্ষতা কর্তৃপক্ষ’ গঠনের ঘোষণা এসেছে, যার কাজ হবে ডিজিটাল কর্মশক্তি গড়ে তোলা ও খাতভিত্তিক দক্ষতা পরিষদ (পোশাক, আইসিটি, লজিস্টিকস, পর্যটন, কেয়ারগিভিং) গঠন করা। কোর্সেরা, গুগল, মেটার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্বে ডিজিটাল দক্ষতা সম্প্রসারণ, জাতীয় ক্যারিয়ার পোর্টাল ও চাকরি-সন্ধান ড্যাশবোর্ড চালুর প্রতিশ্রুতিও উল্লেখযোগ্য।
আইসিটি শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ শিক্ষা
তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম প্রধান ইঞ্জিন হিসেবে চিহ্নিত করে সাইবার নিরাপত্তা, আউটসোর্সিং, ডেটা প্রসেসিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমিকন্ডাক্টরের মতো ক্ষেত্রে বার্ষিক দুই লাখ প্রত্যক্ষ ও আট লাখ পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তরুণদের জন্য কোডিং, রোবোটিক্স, এআই, সাইবার সিকিউরিটির মতো ভবিষ্যৎমুখী দক্ষতা প্রশিক্ষণ এবং ফ্রিল্যান্সার-প্রযুক্তিবিদদের জন্য পেপ্যালসহ আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে চালুর প্রতিশ্রুতিও এসেছে। এসব উদ্যোগ স্পষ্ট করে যে বিএনপির শিক্ষাদর্শন এখন কেবল সাক্ষরতা বা সনদ অর্জনে সীমাবদ্ধ নয়—বরং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব-উত্তর বিশ্বে বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতাক্ষম করে তোলার একটি সামগ্রিক কৌশল।
শিক্ষা, বেকারত্ব দূরীকরণ ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি
এই চার দলিল পাশাপাশি রেখে দেখলে একটি স্পষ্ট রূপরেখা ফুটে ওঠে - শিক্ষা বিএনপির কাছে কখনোই বিচ্ছিন্ন একটি সামাজিক খাত নয়, বরং জাতীয় অর্থনৈতিক রূপান্তরের কেন্দ্রীয় হাতিয়ার। ১৯ দফায় যেখানে নিরক্ষরতা দূরীকরণের মৌলিক অঙ্গীকার ছিল, সেখানে ২০২৬ সালের ইশতেহারে তা পরিণত হয়েছে একটি সুনির্দিষ্ট জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি নির্মাণের রোডম্যাপে—যেখানে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান একই সূত্রে গাঁথা। বাংলাদেশের জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানোর যে কৌশল ভিশন ২০৩০-এ প্রথম উচ্চারিত হয়েছিল, তা আজকের ইশতেহারে রূপ নিয়েছে নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা, দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারের সাথে সংযুক্তির নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনায়।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা থেকে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী ইশতেহার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ দশকের এই যাত্রা প্রমাণ করে যে বিএনপির শিক্ষাদর্শন কোনো আকস্মিক প্রতিশ্রুতির ফসল নয়। বরং এটি ক্রমবর্ধমান, সময়ের সাথে সমৃদ্ধ ও পরিমার্জিত রাজনৈতিক-দার্শনিক ধারাবাহিকতা। নিরক্ষরতা দূরীকরণের প্রাথমিক অঙ্গীকার থেকে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের কাঠামোগত অঙ্গীকার, এবং তা থেকে ডিজিটাল দক্ষতা কর্তৃপক্ষ, এডু-আইডি ও ভবিষ্যৎমুখী আইসিটি শিক্ষার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা - এই পুরো পথচলা একটি জাতিকে শিক্ষার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল, দক্ষ ও বিশ্ব-প্রতিযোগিতাক্ষম করে তোলার প্রত্যয় বহন করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও উন্নয়ন-অংশীজনদের জন্য এই ধারাবাহিকতা পর্যালোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয় - শিক্ষা সংস্কার কোনো এককালীন ঘোষণা নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় অঙ্গীকার হিসেবে বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনে প্রোথিত। বিএনপিকে এই শিক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ, বিশেষজ্ঞ টিমকে কাজে লাগাতে হবে, প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করতে হবে, নিয়মিত মনিটরিং এর ব্যবস্থা করতে হবে। দেশকে একটি শিক্ষিত, দক্ষ ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির জাতি হিসেবে গড়ে তোলার এই দীর্ঘ যাত্রা এখন বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পরীক্ষার মুখোমুখি - আর সেই বাস্তবায়নের সাফল্যই নির্ধারণ করবে এই প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবে রূপ নেয়।
ড. মির্জা মুহাম্মদ শাহজামাল: শিক্ষা গবেষক ও নীতি বিশ্লেষক
[email protected]
- বিষয় :
- শিক্ষা