কুমিল্লা
বৃষ্টি হলেই ছোটখাটো পুকুরে রূপ নেয় সড়কের গর্তগুলো
কুমিল্লা শহরতলির টমছম ব্রিজ কোটবাড়ী সড়কের গর্তে জমে আছে বৃষ্টির পানি। গত শনিবার দুপুরে তোলা। ছবি: সমকাল
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ | ১১:৩২
কুমিল্লা নগরীর টমছম ব্রিজ থেকে কোটবাড়ি বিশ্বরোড পর্যন্ত সড়কের ৪ কিলোমিটার এলাকা প্রায় ৫ বছর যানবাহন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের অধিকাংশ স্থানে ইট-সুরকি উঠে বড় বড় গর্ত হয়েছে গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে ছোটখাটো পুকুরে রূপ নেয় এসব গর্ত। তখন স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। মাঝে মধ্যেই ঘটে দুর্ঘটনা। তবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ বলছে বর্ষার পর সংস্কার কাজ শুরু হবে।
গত শনিবার নগরীর টমছম ব্রিজ থেকে কোটবাড়ি বিশ্বরোড পর্যন্ত সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন অংশে অসংখ্য খানাখন্দ। দুটি স্থানে পুকুর আকৃতির বড় গর্ত। ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। যানবাহন চলাকরা বলছেন, সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। এতে কোনটি রাস্তা আর কোনটি গর্ত তা বোঝার উপায় থাকে না। মাঝে মধ্যেই ঘটে দুর্ঘটনা।
হালিমানগর এলাকায় দেখা গেছে, প্রায় ১৫-২০ ফুট দীর্ঘ পুকুর আকৃতির বড় গর্ত। একই চিত্র কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকার পূর্ব পাশে। স্থানীয়রা বলছেন, গত ৫ বছর ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। এই সড়কে প্রতিদিন চলাচল করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা সেনানিবাস, বিজিবি সেক্টর হেডকোয়ার্টার্স, কুমিল্লা ইস্পাহানি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, র্যাব কার্যালয়, কয়েকটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল কলেজ, সার্ভে ইনস্টিটিউট, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর আঞ্চলিক কার্যালয়ের লোকজন এবং সাধারণ মানুষ। এ ছাড়া ময়নামতি জাদুঘর, শালবন বৌদ্ধ বিহারসহ কোটবাড়ি এলাকার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যাওয়া-আসার জন্য প্রতিদিন দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক এই সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু ভাঙাচোরা সড়ক ও জলাবদ্ধতার কারণে চলাচলে কষ্ট হয় তাদের।
কোটবাড়ি এলাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক রমিজ উদ্দিনের ভাষ্য, প্রায় ৫ বছর এই সড়কে চলাচলে ভোগান্তি তাদের। মাঝে মধ্যে মেরামতের জন্য ইট ফেলা হলেও তা কোনো কাজেই আসছে না। প্রতিদিন গর্তে পড়ে গাড়ির কোনো না কোনো যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আক্তার হোসেন বলেন, এই সড়কে যেতে ভয় হয়। চোখের সামনে হাজারো রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি দেখতে হচ্ছে, কিন্তু করার কিছু নেই। এই সড়কগুলো এতো গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার পরও সংস্কার করা হচ্ছে না।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু হেনা রনি জানান, প্রতিদিন তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বাস শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই সড়কে চলাচল করে। বাসগুলো এই সড়কে চলাচল করতেও ভয় পায়, সড়কের অবস্থা দেখলে মনে হয় না, এর কোনো তদারকি সংস্থা আছে।
তবে ভোগান্তি নিরসনে আশার কথা শুনিয়েছেন সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কুমিল্লা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা। সমকালকে তিনি বলেন, টমছম ব্রিজ থেকে কোটবাড়ি বিশ্বরোড পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার সড়কসহ শহরতলির অন্যান্য সড়ক সংস্কারের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বর্ষা শেষ হলে সংস্কার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা তাঁর।
- বিষয় :
- কুমিল্লা