রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারালেন কুমিল্লার সাগর
মো. সাগর
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৫৪ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৫৮
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার সাগর নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গত শনিবার রাশিয়া থেকে সাগরের এক বন্ধু তাঁর বোনের মোবাইল ফোনে মেসেজ পাঠান, ‘সাগর আর নেই’! এমন খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মূর্ছা যান তাঁর মা। পরিবারে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। মো. সাগর (২৪) কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার পৌরসভার ছায়কোট এলাকার কবির হোসেনের ছেলে। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সাগর ছোট।
জানা গেছে, নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান সাগর। অভাব অনটনের মধ্যে বেড়ে ওঠায় লেখাপড়ায় প্রাথমিকের গণ্ডি পার হতে পারেননি। কিশোর বয়স থেকে রিকশা-ভ্যান চালিয়ে পরিবারের আর্থিক জোগান দিতেন। উপজেলা সদরের একটি রড-সিমেন্টের দোকানের পণ্য নিয়মিত ভ্যানে বহনের সুবাদে ওই দোকানের ম্যানেজারের সঙ্গে সুসম্পর্ক হয় তাঁর। ম্যানেজার চাকরি ছেড়ে বিদেশ চলে গেলেও তাদের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি।
কয়েক বছর পর ওই ম্যানেজার বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আবারও চাকরি নেয় ওই রড-সিমেন্ট দোকানে। বন্ধুত্বের সুবাদে সাগর ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন বিধায় তাঁকে বিদেশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন ওই দোকানের ম্যানেজার। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ওই দোকানের ম্যানেজারের সহযোগিতায় মাত্র ছয় লাখ টাকায় রাশিয়া পাড়ি জমান সাগর। সেখানে গিয়ে একটি বেকারি দোকানে কাজ নেন তিনি। বেতনও পাচ্ছিল প্রায় ৭০ হাজার টাকা। রাশিয়ায় কাজ করা অবস্থায় পরিচয় ঘটে এক বাংলাদেশি দালালের সঙ্গে। ওই দালাল তাঁকে রাশিয়ান সেনা বাহিনীতে চাকরি দেওয়ার কথা বলেন এবং এককালীন ৩০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখান। তাঁর কথামতো চলতি বছরের মে মাসে ওই বেকারি দোকানের চাকরি ছেড়ে দালালের ফাঁদে পা দেন।
সাগরের চাচা আব্দুল আওয়াল জানান, সাগর যখন রাশিয়ার বেকারিতে চাকরি ছেড়ে দেশটির সেনাবাহিনীতে চাকরির কথা জানান তখন তাঁকে বারণ করেছিলেন তিনি। কারণ সাগর লেখাপড়াই জানেন না। তিনি বিদেশে সেনাবাহিনীতে চাকরি করবেন কিভাবে? ওই দেশের দালাল তাঁকে ভুল তথ্য দিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যুক্ত করেছে। সাগর যুদ্ধে যাওয়ার আগে তাঁর অ্যাকাউন্টে তিন লাখ টাকাও পাঠান। তারপর আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। গত শনিবার তাঁর বন্ধু ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে জানিয়েছে সাগর মারা গেছেন। রাতে বিস্তারিত বলবেন বলে জানিয়েছেন। গতকাল রোববার রাত ৯টা পর্যন্ত ফোন করেননি, তারাও তাঁকে ফোনে পাচ্ছেন না।
সাগরের বাবা কবির হোসেন বলেন, ‘সবজির ব্যবসা করেছি। দীর্ঘদিন নানা রোগে অসুস্থ। অনেক ধার-দেনা করে তাকে বিদেশ পাঠিয়েছি। প্রায় চার-পাঁচ মাস ধরে ছেলেটার সঙ্গে কথাও বলতে পারি নাই। এখন শুনি আমার ছেলে আর নাই।’ এই বলে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন কবির হোসেন। চান্দিনার ইউএনও মোহাম্মদ আশরাফুল হক জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখবেন তিনি।
- বিষয় :
- কুমিল্লা
- রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ