হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সঙ্গে বৈঠক
নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে অনড় ইসি
প্রতীকী ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২০ | ১০:৫২
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নির্ধারিত ৩০ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সরস্বতী পূজার কারণে ভোটের তারিখ পেছাবে না বলে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতাদের জানিয়েছে কমিশন। তবে উচ্চ আদালত কোনো নির্দেশনা দিলে তা অনুসরণ করা হবে বলেও জানিয়েছে তারা।
সোমবার ঐক্য পরিষদের নেতাদের সঙ্গে ইসির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বৈঠক শেষে ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নিম চন্দ্র ভৌমিক বলেন, ইসির সিদ্ধান্তে তারা হতাশ। ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন না হলে যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তার দায় তারা নেবেন না।
অপরদিকে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, সব দিক বিবেচনায় ভোটের তারিখ ৩০ জানুয়ারি রাখা হয়েছে। ৩১ জানুয়ারি শুক্রবার ও সরকারি ছুটি আর ১ ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনী সহিংসতার বিষয়ে ইসির কাছে কোনো তথ্য নেই। রিটার্নিং কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নেবেন। এরপরও রিটার্নিং কর্মকর্তারা কোনো বিষয় ইসিকে জানালে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরস্বতী পূজার কারণে ঢাকার দুই সিটির ভোটের তারিখ পরিবর্তনের দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে আসেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা। তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও চার কমিশনারের সঙ্গে এক ঘণ্টার বেশি সময় বৈঠক করেন।
বৈঠকে শেষে নিম চন্দ্র ভৌমিক বলেন, ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি সরস্বতী পূজা। পূজার্থীদের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী। ওইদিন তারা ভোট দেবেন, নাকি পূজা করবেন। আর পূজার দিন ভোট হলে তো পূজা করা যাবে না। কেননা, বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। আর পূজা তো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই হয়। তাই পূজার দিন যদি ভোট হয়, দেশের বাইরে কী বার্তা যাবে। কেননা, সংখ্যালঘু আড়াই কোটি হিন্দু সম্প্রদায়ের এটা তো ধর্মীয় এবং সাংবিধানিক অধিকার।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের দাবির কথা বলেছি। নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা বলেছে। তারা তাদের অবস্থানেই রয়েছে। তাই হতাশ মনে ফিরে যাচ্ছি। কমিশন বলেছে, সরকার যদি পূজার তারিখ পরিবর্তন করে তাহলে ইসি ভোটের পরিবর্তন নিয়ে ভাববে। এছাড়া কোর্টে রিট আবেদনের শুনানি থেকে মঙ্গলবার নির্দেশনা আসবে। তারপরে তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি ছাড়া যে কোনো দিন ভোট হলে আমাদের আপত্তি নেই।
ঐক্য পরিষদের এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সব দিক বিবেচনা করে ভোটের তারিখ ৩০ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। তিনি আরও বলেন, উচ্চ আদালত কোনো নির্দেশনা দিলে তা অনুসরণ করা হবে।
