ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

তুরাগে নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

তুরাগে নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
×

প্রতীকী ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ | ১৯:২৬ | আপডেট: ১১ মে ২০২৬ | ২৩:১২

রাজধানীর তুরাগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় থেকে কামরুন নাহার (২৮) নামে এক নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে তাঁর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে স্বজনের অভিযোগ, কামরুন নাহারকে হত্যা করা হয়েছে।

মৃতের দেবর জেমস হামিম সমকালকে বলেন, তুরাগের নলভোগ এলাকায় স্বামী মনিরুল ইসলামের সঙ্গে থাকতেন কামরুন নাহার। তিনি স্থানীয় রূপায়ণ সিটিসংলগ্ন এলাকায় তাসমি ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। প্রতিষ্ঠানটি কাঁকড়া ও কুঁচে মাছ বিদেশে রপ্তানি করে। আজ সকাল ৯টার দিকে তিনি কর্মস্থলে যান। এর ঘণ্টাখানেক পর সেখানকার রান্নাঘরে তাঁর ঝুলন্ত মৃতদেহ পাওয়া যায়। আমাদের ধারণা, প্রতিষ্ঠানটির মালিক শিশির চন্দ্র হাওলাদারের সঙ্গে তাঁর কোনো ঝামেলা ছিল। এর জেরে তাঁকে হত্যা করা হয়।

জেমস হামিম বলেন, কামরুন নাহারের মৃত্যুর পর শিশির পুলিশের কাছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা ও কিছু স্বর্ণের গহনা হস্তান্তর করেছেন। মৃতের এই টাকা-গহনা নাকি তাঁর কাছে রাখা ছিল। কিন্তু নিজের কাছে না রেখে তিনি কেন মালিকের কাছে সেগুলো রেখেছেন তা স্পষ্ট নয়। এ ঘটনায় আমরা হত্যা মামলা করতে চাইলেও পুলিশ তা নিতে রাজি হয়নি।

প্রতিষ্ঠানটির মালিক শিশির চন্দ্র হাওলাদার বলেন, ঘটনার সময় আমি ছিলাম না, খবর পেয়ে সেখানে যাই। হত্যার অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। পুলিশ দরজা ভেঙ্গে তাঁর লাশ উদ্ধার করেছে। আর যে টাকা–গহনার কথা বলা হচ্ছে, তা রাখা ছিল আমার আরেক কর্মচারী সাগরের কাছে। ১৫ বছর বয়সী ছেলেটির সঙ্গে আজ কামরুন নাহার কিছুক্ষণ কথা বলেন। তাঁর স্কুলপড়ুয়া একটি মেয়ে আছে। তিনি সাগরকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তুই কি আমার মাইয়ারে পছন্দ করোস?’ সাগর না–সূচক উত্তর দেয়। তখন তিনি বলেন, ‘আমার কিছু টাকা আছে, তোরে দেব, এইটা দিয়া কিছু করিস। আমার মাইয়াটারে দেইখা রাখিস।’ এরপর তিনি সাগরের কাছে টাকা–গহনা দেন। কিছুক্ষণ কান্নাকাটিও করেন। পরে সকাল ১০টার পর কর্মচারীরা খাওয়ার জন্য ভবনের দোতলায় অফিসের রান্নাঘরে যায়। তখন তারা দরজা বন্ধ দেখতে পায়। এরমধ্যে একজন এক্সহস্ট ফ্যানের ফাঁকা দিয়ে কামরুন নাহারকে ঝুলতে দেখেন। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তুরাগ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কেউ তাঁকে হত্যা করেছেন এমন আলামত এখনও পাওয়া যায়নি। এ কারণে অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডি) মামলা নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তে হত্যার প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন

×