কিশোরগঞ্জের মিঠামইন
হামলার আগে বিচ্ছিন্ন করা হয় বিদ্যুৎ সংযোগ
ছবি: ফাইল
কিশোরগঞ্জ ও মিঠামইন প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ | ১০:১০
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির (পদ স্থগিত) সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর (৫৭) হত্যার ঘটনায় পাঁচ ব্যক্তির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। গতকাল রোববার কিশোরগঞ্জের চার নম্বর আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম লুৎফুন্নাহারের কাছে মিঠামইন থানার ওসি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিকে সমকালের অনুসন্ধানে জানা গেছে, হত্যার আগে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীরের বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল।
যে পাঁচ আসামির রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে, তারা হলেন– ঢাকা থেকে আনা তিন ভাড়াটে খুনি বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামের মো. হেলাল (২৫), লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার দুধরাজপুর গ্রামের মো. মহিন উদ্দিন (৩৩), একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের মো. শাহিন আলম শাকিল (২৭) এবং ঘাগড়া গ্রামের জাকির হোসেন ও মিঠামইন কাজীপাড়ার আব্দুর রউফ।
মিঠামইন থানার ওসি মনোয়ার মোহাম্মদ ও আদালত পরিদর্শক সামছুল আলম সিদ্দিকী গতকাল এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ১৫ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিঠামইনে বাড়ির সামনে জাহাঙ্গীরকে চাপাতি দিয়ে কোপায় দুর্বৃত্তরা। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে সঙ্গী হাদিস মিয়াও (৩৮) আহত হন। তাদের রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলা সদরের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন। আর হাদিস মিয়াকে ভর্তি করা হয়।
হত্যার রাতেই আটক করা হয় হেলাল, মহিন ও সাকিলকে। এদের মধ্যে হেলালকে ঘটনাস্থল থেকে ও অন্যদের পালানোর সময় হাওর থেকে আটক করা হয়। জাকির হোসেন ও আব্দুর রউফকে আটক করা হয় পরদিন। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীরের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার চৌধুরী গত শুক্রবার রাতে মিঠামইন থানায় হেলাল, মহিন উদ্দিন ও শাহিন আলম সাকিলের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
যা বললেন আহত হাদিস
জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের (৫৭) ওপর যখন হামলা হয়, তখন সারা উপজেলায় বিদ্যুৎ থাকলেও তাঁর বাসার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ঘুটঘুটে অন্ধকারে তিন ভাড়াটে খুনি অতর্কিতে হামলা চালায়। এদের দুজন খালি হাতে গেলেও একজনের হাতে ছিল একটি ব্যাগ। ওই ব্যাগের মধ্যেই ছিল চাপাতি। এদের কারও মুখোশও পরা ছিল না। এসব তথ্য দিয়েছেন জাহাঙ্গীরের সঙ্গী আহত হাদিস মিয়া (৩৮)। ঘটনার রাতে তাঁকে অজ্ঞান অবস্থায় শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরে জ্ঞান ফিরেছে তাঁর। গতকাল রোববার সমকালকে তিনি ঘটনাক্রমের বর্ণনা দেন।
হাদিস জানান, জাহাঙ্গীর গত বুধবার সকালে জেলা শহরের বত্রিশ এলাকার বাসা থেকে মিঠামইনে যান। সেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি সভায় অংশ নেন। দুপুরে মিঠামইন থানায় কিছু সময় কাটিয়ে বাজারে নিজেদের মার্কেটে তাজুলের ফার্নিচারের দোকানে বসে আড্ডা দেন। বিকেলে বাসায় গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করে সন্ধ্যার আগে হাদিস মিয়াকে ফোনে বলেন, তিনি আবার বাজারে যাবেন, হাদিস যেন তাঁর মোটরসাইকেল নিয়ে বাসায় যান। তিনি বাসায় গেলে লুঙ্গি পরেই জাহাঙ্গীর বাজারে গিয়ে তাজুলের দোকানে বসেন। সেখান থেকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাদিস মিয়ার মোটরসাইকেলে করে বাসায় যান। এ সময় তারা দেখতে পান, তিন যুবক জাহাঙ্গীরের বাসার দিকে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে মাঝের যুবকের হাতে একটি ব্যাগ। অন্যদের খালি হাতে। এ সময় অন্যান্য জায়গায় বিদ্যুৎ থাকলেও জাহাঙ্গীরের বাসায় বিদ্যুৎ ছিল না।
হাদিস মিয়ার ধারণা, হামলার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে বাসার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছিল। অন্ধকারে বাসার গেটের সামনে জাহাঙ্গীর মোটরসাইকেল থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে তিন যুবক দৌড়ে চাপাতি দিয়ে কোপাতে থাকেন।
- বিষয় :
- কিশোরগঞ্জ