কানের ময়লা থেকে বিভিন্ন জটিলতা
.
ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৪ | ২৩:৩৬
আমাদের শ্রবণেন্দ্রিয় কানকে বহিঃকর্ণ, মধ্যকর্ণ এবং অন্তঃকর্ণ– এই তিন অংশে ভাগ করা হয়েছে। বহিঃকর্ণের এক-তৃতীয়াংশের দেয়ালের মধ্যকার পরিবর্তিত এপোক্রিন ঘর্মগ্রন্থি ও সেবাম গ্রন্থির মিশ্রিত ক্ষরণই সেরুমেন বা ওয়াক্স। একে সাধারণ ‘কানের ময়লা’ বলা হয়ে থাকে। আমাদের শরীরে ইয়ার ওয়াক্সের বিশেষ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই খইলের বিশেষ গুণ হচ্ছে এটি পানি প্রতিরোধী, যা কানের পর্দাকে রক্ষার কাজ করে। এতে এনজাইম থাকে, যা ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসকে ধ্বংস করে থাকে; সর্বোপরি কানের পর্দাকে সুরক্ষার কাজ করে।
এ ছাড়া এটি কর্ণকুহরের ত্বকের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে। তবে গ্রন্থি থেকে অতিরিক্ত পরিমাণে সেরুমেন তৈরি হলে শক্ত হয়ে বহিঃকর্ণে পুরোটা আটকে গিয়ে কানের পর্দার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং শ্রবণশক্তির হানি ঘটাতে পারে। ওয়াক্স, অর্থাৎ কানের খইলের রং সাধারণত খয়েরি। কিন্তু বাতাসে অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে কখনও কখনও কালো রং ধারণ করে।
উপসর্গ : অনেক সময় কানের খইল বেশি শক্ত হয়ে যায়। তখন সহজেই কান থেকে বের হয় না। কানে অতিরিক্ত ময়লা জমে ওয়াক্স থেকে জমাটবদ্ধ ময়লার সৃষ্টি হলে যেসব সমস্যা দেখা দেয়–
lকানে কম শোনা
lকানে ব্যথা হওয়া
lরোগীর কান বন্ধ হয়ে যাওয়া
lকানে চুলকানি ও অস্বস্তি
lকানের ভেতর শোঁ শোঁ বা ঝিঁঝিঁ শব্দ হওয়া
যারা কানের ময়লার সমস্যায় বেশি পরিমাণে আক্রান্ত হয়ে থাকেন
যে কোনো বয়সের মানুষ এ ধরনের সমস্যায় ভুগতে পারেন। তবে বাচ্চা, বয়স্ক এবং যাদের জন্মগতভাবে কানের ছিদ্র ছোট তারাই ব্যাপক হারে এ সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন।
কানে ময়লা জমে বন্ধ হয়ে গেলে বা খইলের কারণে কানে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিলে করণীয় :
কানের ময়লা স্বয়ংক্রিয় তথা প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চিবানোর সময় এবং হাই তোলার সময় স্বাভাবিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করে রাখে। কানের ময়লা সাধারণত খুব হালকা ধরনের হয়ে থাকে এবং তা অনুভব করা যায় না। কিন্তু আপনি যদি তা অনুভব করতে পারেন, যেমন– আপনার মনে হচ্ছে, কানভর্তি ময়লা এবং তা আঙুলের সাহায্যে বেরিয়ে আসছে, তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। এ রকম হলে কান কখনও খোঁচাখুঁচি করবেন না। খইল থাকা অবস্থায় কান খোঁচাখুঁচি করলে কানের পর্দা ছিদ্র হয়ে যেতে পারে, এমনকি শ্রবণশক্তি হ্রাস পেতে পারে। নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা খুব সহজেই কান দেখে বুঝে নিতে পারেন কানের ভেতরকার অবস্থা। কানের ভেতরে ময়লা থাকলে তা বের করে দেওয়ারও ব্যবস্থা করবেন আপনার চিকিৎসক। যদি ময়লা খুব শক্ত হয়ে থাকে, তবে ময়লা বের করে আনা একটু কঠিন। সে ক্ষেত্রে ময়লা নরম করার জন্য কানে অলিভ অয়েল পাঁচ ফোঁটা পাঁচবার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরবর্তী ফলোআপে ময়লা বিভিন্ন পদ্ধতিতে বের করে আনা হয়। তবে কানের পর্দায় ছিদ্র থাকলে অলিভ অয়েল দেওয়া যাবে না।
অনেক সময় দেখা যায়, শিশু কোনোভাবেই স্থির হয় না বা খুব নড়াচড়া এবং অতিরিক্ত কান্নাকাটি করে। তখন গভীর ঘুমের ব্যবস্থা করে বা অল্প সময়ের জন্য ঘুম পাড়িয়ে ওয়াক্স বের করে আনা হয়। এতে অভিভাবকদের ঘাবড়ানোর কিছু নেই, এটি চিকিৎসারই একটি পদ্ধতি।
[নাক, কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল]
- বিষয় :
- কানের সমস্যা
