হাড়ের ডেনসিটি কমছে
ভুগতে পারেন নানা সমস্যায়
.
ডাক্তারবাড়ি ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৫ | ০০:৫১
হাড়ের ডেনসিটি কমে যাওয়ার ফলে আর্থ্রাইটিস, অস্টিওপোরোসিসসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সাধারণত ২৫ বছর বয়সের পর হাড় বাড়ার কার্যক্রম থেমে যায়। এরপর থেকে ধীরে ধীরে হাড়ের ডেনসিটি কমতে শুরু করে। এর ফলে হাঁটাচলা এবং ওঠাবসাতেও কষ্ট হতে পারে। তবে সঠিক চিকিৎসা এবং যথাযথ জীবনযাপন মেনে চললে আপনার হাড় অনেকদিন পর্যন্ত মজবুত থাকবে।
হাড় মজবুত রাখতে খাদ্যাভ্যাস: অনেকেই মনে করেন, হাড় মজবুত রাখার জন্য প্রতিদিন এক গ্লাস দুধই যথেষ্ট, যা শরীরের প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতে হাড় ক্ষয় রোধের জন্য সারাদিনে অন্তত তিনবার দুধ, দই বা ছানার মতো ডেইরি প্রোডাক্ট খাওয়া উচিত।
এছাড়া, ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার যেমন– টোফু, ছোট মাছ, পালংশাক, বিন, ব্রোকলি, আমন্ড এবং ফলের রস আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন।
ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর প্রয়োজনীয়তা: যাদের বয়স ৩৫ বছরের নিচে এবং মেনোপজ হয়ে গেছে, তাদের নিয়মিত ১০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা জরুরি। ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ক্যালসিয়াম গ্রহণের পরিমাণ ১৫০০ মিলিগ্রাম হওয়া উচিত।
এছাড়াও, ৪০০-৮০০ আইইউ ভিটামিন ডি জাতীয় সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে হাড় ক্ষয়ের হার এবং ফ্র্যাকচার হওয়ার আশঙ্কা অনেকটা কমে যায়।
জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনুন: সিগারেট, কফি এবং অ্যালকোহল ব্যবহার কমিয়ে দিন। ভিটামিন ডি যাতে ভালোভাবে শরীরে প্রবেশ করতে পারে, তার জন্য পর্যাপ্ত সময় বাড়ির বাইরে থাকুন। সূর্যের আলোতে সবচেয়ে বেশি ভিটামিন ডি থাকে, তাই সান এক্সপোজার অত্যন্ত জরুরি।
ব্যায়ামের গুরুত্ব: হাড়ের ক্ষয় রুখতে ব্যায়াম অপরিহার্য। প্রতিদিন সকালে-বিকালে হাঁটার অভ্যাস করুন। তবে মনে রাখবেন, কোনো কিছুই অতিরিক্ত ভালো নয়। বেশি ব্যায়াম করলে দুর্বল হাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। ৪০ বছরের পর এবং যদি আপনার হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো নির্দিষ্ট কোনো অসুখ থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকুন।
অতিরিক্ত কিছু তথ্য–
ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন হাড়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যা হাড় ক্ষয়ের প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করতে পারে। তাই সুস্থ ওজন বজায় রাখা জরুরি।
ফল ও সবজি: ক্যালসিয়াম ছাড়াও হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য অন্যান্য পুষ্টি উপাদান যেমন ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ভিটামিন কে-ও গুরুত্বপূর্ণ। ফল ও সবজিতে এই পুষ্টি উপাদানগুলো প্রচুর পরিমাণে থাকে।
পর্যাপ্ত ঘুম: পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য জরুরি, যা হাড়ের স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করে।
নিয়মিত চেকআপ: বিশেষ করে মধ্যবয়স থেকে নিয়মিত হাড়ের ডেনসিটি পরীক্ষা (Bone Mineral Density–BMD test) করানো উচিত, যা অস্টিওপোরোসিসের মতো সমস্যাগুলো দ্রুত নির্ণয় করতে সাহায্য করে। v
- বিষয় :
- হাড় ও দাঁত
