ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বার্ধক্যে নিউমোনিয়া: প্রতিরোধের উপায়

বার্ধক্যে নিউমোনিয়া: প্রতিরোধের উপায়
×

অধ্যাপক আব্দুর রউফ

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:০৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

নিউমোনিয়া মূলত ফুসফুসের একটি গুরুতর প্রদাহ, যা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকের সংক্রমণের মাধ্যমে হতে পারে। শিশুর মতো বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্যও এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি রোগ। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যটি হঠাৎ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এত বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন যে, তাঁকে হাসপাতালের আইসিইউ পর্যন্ত নিতে হয়।
বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিস, হাঁপানি বা ক্রনিক ব্রংকাইটিসে ভুগছেন কিংবা যারা কেমোথেরাপি বা ইমিউন মডুলেটিং ওষুধ খাচ্ছেন, তাদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। এ ছাড়া যারা শয্যাশায়ী বা চলাফেরা করতে পারেন না, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি থাকে।

অ্যাসপিরেশন নিউমোনিয়া ও এর কারণ
পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা স্ট্রোকের রোগীরা অনেক সময় খাবার ও পানি ঠিকমতো গিলতে পারেন না। ফলে অসাবধানতাবশত খাবার বা পানি ফুসফুসে চলে গিয়ে ‘অ্যাসপিরেশন নিউমোনিয়া’ তৈরি করে। এমনকি শয্যাশায়ী বয়স্ক ব্যক্তির নিজের লালা বা কফ শ্বাসনালিতে ঢুকে গিয়েও ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তাই বাড়ির বয়স্ক মানুষটির যত্নের সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

নিউমোনিয়া প্রতিরোধে করণীয়
খাওয়ানোর সঠিক নিয়ম: তাড়াহুড়া করে খাওয়ানো যাবে না; বরং ধীরে ধীরে সময় নিয়ে খাওয়াতে হবে। কখনোই শোয়া বা আধাশোয়া অবস্থায় খাবার দেবেন না। রোগীকে বসিয়ে বা পিঠে বালিশ দিয়ে উঁচু করে ধরে একটু একটু করে খাওয়ান। যদি খাবার গিলতে খুব সমস্যা হয়, তবে জোর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রাইলস টিউব বা নাকের নল ব্যবহারের কথা ভাবুন।
ডায়াবেটিস ও পুষ্টির যত্ন: নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করুন, কারণ সুগার বেড়ে গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। বয়স্ক ব্যক্তিরা অনেক সময় অপুষ্টির শিকার হন, তাই তাদের জন্য আমিষ, ভিটামিন ও সঠিক ক্যালরিযুক্ত সুষম খাবারের পরিকল্পনা করুন। প্রয়োজনে রক্তে হিমোগ্লোবিন বা আয়রনের অভাব দূর করতে পদক্ষেপ নিন।
পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা: অসুস্থ ও বয়স্ক ব্যক্তির ঘরে-বাইরের লোকজনের অবাধ যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করুন। রোগীর কাছে কেউ যেন হাঁচি-কাশি না দেয় সেদিকে খেয়াল রাখুন এবং সেবা করার আগে অবশ্যই হাত পরিষ্কার করে নিন।
টিকাদান: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিউমোকক্কাল ও ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা দিয়ে রাখা ভালো। এতে ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
জরুরি লক্ষণ: যদি হঠাৎ জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট কিংবা অস্বাভাবিক অবসাদ ও চেতনা কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। বয়স্কদের ক্ষেত্রে সামান্য অবহেলাও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

আরও পড়ুন

×