ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

৩০ পেরোলেই চোখের পরীক্ষা কেন জরুরি

৩০ পেরোলেই চোখের পরীক্ষা কেন জরুরি
×

ডাক্তারবাড়ি ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ | ০৭:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

বয়স ৩০ পেরোলেই চোখের পরীক্ষা কেন জরুরি? শরীরের অন্যান্য অঙ্গের প্রতি আমরা যতটা সচেতন থাকি, চোখের ক্ষেত্রে অনেক সময় ততটা গুরুত্ব দিই না। অথচ চোখ মানব দেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। প্রতিদিনের কাজ, চলাফেরা, পড়াশোনা কিংবা কর্মজীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই চোখের ভূমিকা অপরিসীম। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো চোখেও নানা ধরনের পরিবর্তন আসতে শুরু করে। চুলে পাক ধরা, ত্বক শিথিল হয়ে যাওয়া যেমন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, তেমনি বয়সের সঙ্গে চোখের স্বচ্ছ লেন্সও ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হতে থাকে। এর ফলে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে বা চোখের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকেই চোখে কম দেখতে শুরু করলেও সেটিকে স্বাভাবিক ভেবে অবহেলা করেন। কেউ কেউ সামান্য ঝাপসা দেখাকে বয়সজনিত সমস্যা মনে করে চিকিৎসকের কাছে যান না। দীর্ঘদিন এভাবে অবহেলা করলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে। 
এমনকি কিছু ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বয়স ৩০ পার হওয়ার পর থেকেই নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো উচিত। কারণ শুরুতেই সমস্যা শনাক্ত করা গেলে ভবিষ্যতের বড় ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। চোখের কিছু রোগ বা সমস্যা শুরুতে খুব স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ করে না। ফলে রোগী বুঝতেই পারেন না যে তার চোখের ভেতরে ধীরে ধীরে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষার মাধ্যমে এসব সমস্যা প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এতে সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ করে জটিলতা এড়ানো যায়। ৩০ বছরের পর যে বিষয়গুলো পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ, তার মধ্যে অন্যতম হলো দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মায়োপিয়া, হাইপারোপিয়া এবং প্রেসবায়োপিয়া পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। এই পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে চোখের দেখার ক্ষমতা কেমন আছে, তা মূল্যায়ন করা হয়। এ ছাড়া চোখের পেশিগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা, সেটিও পরীক্ষা করা জরুরি। চোখের পেশির ভারসাম্যে সমস্যা হলে দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া, মাথাব্যথা বা চোখে চাপ অনুভূত হতে পারে। রং শনাক্ত করার ক্ষমতা পরীক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের ক্ষেত্রে রং চিনতে সমস্যা থাকতে পারে, যা দৈনন্দিন কাজ বা পেশাগত জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।
চিকিৎসকরা বিশেষ ধরনের রঙিন চিত্রের মাধ্যমে এই পরীক্ষা করে থাকেন। চোখের মণি আলোতে ঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া করছে কিনা, সেটিও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কারণ এটি চোখ ও স্নায়ুর কার্যকারিতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়। অনেকের রেটিনায় ছোট ছিদ্র বা ক্ষতি তৈরি হতে পারে, যা প্রাথমিক অবস্থায় কোনো লক্ষণ না-ও দেখাতে পারে। নিয়মিত পরীক্ষা না করলে এসব সমস্যা ধরা পড়ে না। পরে তা দৃষ্টিশক্তি কমিয়ে দিতে এবং অন্ধত্বের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই রেটিনা, অপটিক নার্ভ এবং চোখের অভ্যন্তরীণ স্নায়ুগুলো ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা, তা নিয়মিত পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান সময়ে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল, কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের কারণে চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এর ফলে চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা কিংবা চোখে ক্লান্তি তৈরি হওয়া এখন সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বয়স ৩০ পেরোনোর পর শুধু সমস্যা হলে নয়, সুস্থ চোখের জন্যও নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। সচেতনতা ও সময়মতো পরীক্ষা আপনার দৃষ্টিশক্তিকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে। 
 

আরও পড়ুন

×