ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

থাইরয়েডের বিপত্তি: লক্ষণ ও জটিলতা

থাইরয়েডের বিপত্তি: লক্ষণ ও জটিলতা
×

 ডা. এ হাসনাত শাহীন

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ | ০৭:২২

| প্রিন্ট সংস্করণ

থাইরয়েড হরমোন মানুষের বৃদ্ধি, বিকাশ, শারীরবৃত্তিক আর বিপাকীয় নানা ক্রিয়া-প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরে এই হরমোনের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা বেশি হলে দেখা দেয় নানা বিপত্তি। এগুলো মূলত থাইরয়েডের কার্যগত সমস্যা।
থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি হলে তাকে ‘হাইপোথাইরয়েডিজম’ বলা হয়। থাইরয়েডজনিত সমস্যার মধ্যে এই রোগীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি এবং এটি থাইরয়েডের সবচেয়ে পরিচিত সমস্যা। সাধারণত নারীরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি আটজন নারীর মধ্যে একজন হাইপোথাইরয়েডিজমের সমস্যায় ভুগে থাকেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ‘অটোইমিউন’  কারণে এটি দেখা দেয়। এ ছাড়া থাইরয়েডের অস্ত্রোপচার, থাইরয়েড গ্রন্থির প্রদাহ, আয়োডিনের ঘাটতি, রেডিয়েশন ও কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় হাইপোথাইরয়েডিজম হতে পারে। থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতিজনিত প্রতিক্রিয়াটা শরীরে খুব ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় বলে বেশির ভাগ রোগী শুরুতে সমস্যা বুঝতে পারেন না। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ কোনো রুটিন পরীক্ষার সময় এই হরমোনের ঘাটতি ধরা পড়ে।

হাইপোথাইরয়েডিজমের লক্ষণ ও প্রভাব
এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ, হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া, শীত শীত ভাব, অবসাদ বা বিষণ্নতা, চুল পড়া ও ত্বকের খসখসে ভাব এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। নারীর ক্ষেত্রে অনিয়মিত বা অতিরিক্ত মাসিক এবং গর্ভধারণে অক্ষমতা কিংবা অকাল গর্ভপাতের মতো সমস্যা হতে পারে। এমনকি নবজাতকদের ক্ষেত্রেও ‘কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়েডিজম’ দেখা দিতে পারে, যার ফলে শিশুর দৈহিক ও মস্তিষ্কের গঠন ও বিকাশ ব্যাহত হয় এবং শিশু বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী পর্যন্ত হতে পারে।

হাইপারথাইরয়েডিজম বা হরমোনের আধিক্য
থাইরয়েড গ্রন্থির অতিরিক্ত সক্রিয়তার কারণে হরমোন বেশি নিঃসৃত হলে তাকে ‘হাইপারথাইরয়েডিজম’ বলে। এর ফলে বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, বারবার ক্ষুধা লাগা সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত গরম লাগা, নারীর মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া অথবা রক্তস্রাব কম হওয়া এবং বন্ধ্যত্বের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া থাইরয়েড গ্রন্থির গঠনগত কিছু রোগ রয়েছে; যেমন–গয়টার বা গলগন্ড, থাইরয়েড নডিউল (গ্রন্থিতে টিউমার বা চাকা) এবং থাইরয়েড ক্যান্সার।
সচেতনতার গুরুত্ব
বিশ্বব্যাপী প্রায় ৭০ কোটিরও বেশি মানুষ থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত। বাংলাদেশে এর সঠিক কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও ধারণা করা হয়, দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো থাইরয়েড জটিলতায় ভুগছেন।
সচেতনতার অভাবে আমাদের দেশের থাইরয়েড রোগীরা চিকিৎসকের কাছে খুব কম আসেন। বয়স ও লিঙ্গভেদে এর উপসর্গ ও জটিলতা ভিন্ন হতে পারে। অনেক সময় উল্লেখযোগ্য কোনো উপসর্গ না থাকায় আক্রান্ত ব্যক্তি বিষয়টি বুঝতেই পারেন না, ফলে রোগটি শনাক্তের বাইরেই থেকে যায়। এর দরুন পরবর্তী সময়ে শরীরে নানা ধরনের গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
তাই থাইরয়েডের কারণে যেসব লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা যায়, তা সম্পর্কে আমাদের সবার অবগত হওয়া প্রয়োজন। সন্দেহজনক যে কোনো উপসর্গ দেখা দিলে কিংবা থাইরয়েডের সমস্যা শনাক্ত হলে অবহেলা না করে অবশ্যই একজন হরমোন বিশেষজ্ঞের (Endocrinologist) পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা শুরু করতে হবে।
[ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ]

আরও পড়ুন

×