ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ফুসফুসের সুরক্ষায় প্রতিকার নয়, প্রতিরোধ করুন

ফুসফুসের সুরক্ষায় প্রতিকার নয়, প্রতিরোধ করুন
×

ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ | ০৭:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

সুস্থ জীবন-যাপনের জন্য প্রয়োজন সুস্থ ফুসফুস, সতেজ নিঃশ্বাস আর বিশুদ্ধ বাতাস। ফুসফুসের যত্নের শুরু কিন্তু মাতৃজঠরে থাকার সময় থেকেই। গর্ভাবস্থায় মায়ের অপুষ্টি, বিভিন্ন সংক্রামক রোগের সংক্রমণ কিংবা সময়ের আগে অপরিণত ও স্বল্প ওজনের শিশুর জন্ম-পরবর্তী জীবনে শিশুর ফুসফুসের নানা রোগের কারণ হতে পারে। আবার জন্মের পর শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করালে তা নিউমোনিয়া, অ্যাজমাসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ কমায়। এ কারণে হবু মা এবং নতুন মায়ের সঠিক যত্ন শিশুর সুস্থ ফুসফুসের পূর্বশর্ত।
অন্যদিকে, ধূমপায়ী বাবা শুধু তার পরিবারের সদস্যদের জন্যই নয়, বরং যে শিশুটি এখনও ভূমিষ্ঠ হয়নি তার স্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি। ধূমপায়ী মায়েদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বহুগুণ বেশি।
ফুসফুস বিভিন্ন সংক্রামক জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার একটি প্রধান অঙ্গ। করোনা মহামারি আমাদের এই সত্যটি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে, কীভাবে একটি ক্ষুদ্র ভাইরাসের কাছে পুরো পৃথিবী অসহায় হয়ে পড়েছিল। একইভাবে নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা, ইনফ্লুয়েঞ্জা–এমনকি বিভিন্ন ছত্রাকজনিত রোগের প্রধান লক্ষ্যস্থল এই ফুসফুস। অথচ সামান্য কিছু স্বাস্থ্যবিধি, যেমন– নিয়মিত হাত ধোয়া, মাস্ক পরা এবং 
হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলার মাধ্যমে এসব রোগ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
বর্তমান সময়ে পরিবেশ ও বায়ুদূষণ আমাদের অন্যতম প্রধান সমস্যা। বায়ুদূষণের সরাসরি প্রভাব পড়ে ফুসফুসে। অ্যাজমা ও সিওপিডি-সহ (COPD) শ্বাসনালির বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের মূল কারণ এই দূষিত বায়ু। তাই পৃথিবীর নির্মল ও সজীব বাতাস নিশ্চিত করাও আমাদের ফুসফুস ভালো রাখার প্রচেষ্টারই একটি অংশ।
জীবিকার প্রয়োজনে আমরা অনেক ধরনের পেশা বেছে নিই। তবে কিছু পেশা ফুসফুসের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেমন–পাথর ভাঙা, জাহাজ ভাঙা, ওয়েলডিং কিংবা আঁশ ও তুষজাতীয় উপাদানের সংস্পর্শে কাজ করা। এসব কাজের ফলে সৃষ্ট সূক্ষ্ম ধূলিকণা বা তন্তু আমাদের ফুসফুসে আটকে অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে। অথচ কাজের সময় সামান্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই বা মাস্ক) ব্যবহার করলেই এই বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব, যে ব্যাপারে আমরা অনেকেই সচেতন নই। তাই ‘অকুপেশনাল হেলথ’ বা পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমাদের আরও মনোযোগী 
হতে হবে।
ছোট ছোট কিছু পদক্ষেপের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে আমরা সবাই উপকৃত হতে পারি। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ফুসফুসের সঠিক স্বাস্থ্য রক্ষায় আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু চিকিৎসার পেছনে না ছুটে, রোগ প্রতিরোধে উদ্যোগী হওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। 
করোনা মহামারি আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়ে গেছে।

[রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়]

আরও পড়ুন

×