ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাম সম্পর্কে যেসব তথ্য জানা জরুরি

হাম সম্পর্কে যেসব তথ্য জানা জরুরি
×

  অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ শাহরিয়ার 

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫২

| প্রিন্ট সংস্করণ

একটি শিশুর হাসি যেমন একটি পরিবারের সবচেয়ে বড় শক্তি, তেমনি একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগের কারণে সেই হাসি ম্লান হয়ে যাওয়া আমাদের সবার জন্য বেদনাদায়ক। বাংলাদেশে সম্প্রতি শিশুদের মধ্যে হাম রোগের পুনরুত্থান আমাদের সামনে এমনই এক কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরছে; যেখানে সামান্য অসচেতনতা বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
কতটা ভয়ংকর এই ‘হাম’?
হাম পৃথিবীর অন্যতম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। একজন আক্রান্ত শিশু থেকে গড়ে ১২-১৮ জন অ-টিকাপ্রাপ্ত শিশু সংক্রমিত হতে পারে। বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস খুব দ্রুত পরিবার ও সমাজে বিস্তার লাভ করে।

লক্ষণ: প্রথমেই চিনে নিন
l উচ্চ জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া
l চোখ লাল হয়ে যাওয়া
l মুখের ভেতরে সাদা দাগ (Koplik spots)
l মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়া লাল ফুসকুড়ি
জটিলতা: অবহেলার সুযোগ নেই
হাম কখনোই ‘হালকা’ রোগ নয়; বিশেষ করে কিছু শিশুর জন্য এটি জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সম্ভাব্য জটিলতা–
l নিউমোনিয়া l ডায়রিয়া ও ডিহাইড্রেশন
l কানের সংক্রমণ l এনসেফালাইটিস
l দীর্ঘমেয়াদে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যাওয়া
জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশু: তারা কি বেশি ঝুঁকিতে?
একজন পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্ট হিসেবে আমার অভিজ্ঞতায়; জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুরা হামের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকে, বিশেষ করে–
l যাদের হার্টের সমস্যা এখনও সম্পূর্ণ সংশোধন (corrected) হয়নি
l যাদের হার্ট ফেইলিউর বা ফুসফুসে অতিরিক্ত রক্তপ্রবাহ রয়েছে
l অপুষ্ট বা বারবার অসুস্থ হয়ে পড়া শিশু

কেন তারা বেশি ঝুঁকিতে?
l হামের সময় নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা আগে থেকেই দুর্বল হার্ট ও ফুসফুসের জন্য বিপজ্জনক
l জ্বর ও সংক্রমণের কারণে হার্টের ওপর চাপ বাড়ে
l অক্সিজেনের চাহিদা বাড়ে, যা সায়ানোটিক হার্ট ডিজিজে আক্রান্ত শিশুর ঝুঁকি বাড়াতে পারে
lডিহাইড্রেশন ও ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা হার্টের অবস্থা খারাপ করতে পারে
অর্থাৎ একটি ‘সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণ’ এই শিশুদের জন্য দ্রুত জটিল অবস্থায় রূপ নিতে পারে।

এসব শিশুর জন্য বিশেষ সতর্কতা
টিকাদানে কোনো বিলম্ব নয়
l নির্ধারিত সময়েই MR টিকা অবশ্যই দিতে হবে
l প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে আগাম সুরক্ষা পরিকল্পনা করা যেতে পারে
l ভিড় বা অসুস্থ মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন
l পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে শিশুকে আলাদা রাখুন

দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ
l জ্বর, কাশি বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান
l‘দেখি নিজে নিজে ভালো হয় কিনা’–এই অপেক্ষা বিপজ্জনক হতে পারে

পুষ্টি ও ফলোআপ নিশ্চিত করা
l অপুষ্টি থাকলে ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ে
l নিয়মিত কার্ডিওলজি ফলোআপ বজায় রাখা জরুরি
প্রতিরোধ: টিকাই একমাত্র ঢাল। 

[লেখক: বিভাগীয় প্রধান, শিশু কার্ডিওলজি বিভাগ, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল]

আরও পড়ুন

×