ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিচার্জ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ | ১২:১৩ | আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ | ১৪:৪৮
ইসলামী ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগ দাবি কেন্দ্র করে ফের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে তার নিয়োগ বাতিল এবং সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানের পুনর্বহাল দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছে। আজ সোমবার রাজধানীর দিলকুশায় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। এ সময় তাদের ওপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। দিলকুশায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের সময় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ অভিযান শুরু করে। এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে অনেকে আহত হন। দিলকুশা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। পরে আবার তারা ইসলামী ব্যাংক এলাকায় অবস্থান নেন।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ অযৌক্তিক বলপ্রয়োগ করেছে। তাদের দাবি, ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান এস আলমের দোসর। তাকে নিয়োগ দেওয়ার কারণে ব্যাংকে আবার লুটপাট হবে। এ কারণে তারা তাদের দাবি তুলে ধরতে কর্মসূচি পালন করছিলেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সকাল থেকে আন্দোলনকারীদের সরে যেতে বলছি। যেহেতু এখানে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ অনেক ব্যাংক রয়েছে। তাদের ভালোভাবে বুঝিয়ে বলা হয়েছে। বলার পরও সরে না যাওয়াতে বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়েছি।

অন্তবর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস গত ২৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে পদত্যাগ করেন। ওইদিনই বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। খুরশীদ আলম ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনবছরের জন্য ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পর বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আন্দোলনের মুখে তিনিসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন চার কর্মকর্তা পদত্যাগে বাধ্য হন।

খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগের বিরোধিতা করে আসছে একটি পক্ষ। আজকের মানববন্ধন থেকে নতুন নিয়োগ পাওয়া চেয়ারম্যানসহ সকল পর্ষদ সদস্যের পদত্যাগ এবং এমডি ওমর ফারুক খানকে পদত্যাগের বিরোধীতা করে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে আয়োচিত কর্মসূচির পেছনে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ব্যাংকটি এক সময় জামায়াতপন্থী লোকজনের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। ২০১৭ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ এস আলম গ্রুপের হাতে তুলে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে এস আলমের বিরুদ্ধে ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ ওঠে।
- বিষয় :
- ইসলামী ব্যাংক
