২ বছর নগদ লভ্যাংশ না দিলেও 'জেড'-এ নয়
প্রতীকী ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২২ | ২০:৫৬ | আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২২ | ২০:৫৬
কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিনিষেধ বা কোনো আইন বা নির্দেশনা পরিপালন করতে গিয়ে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি পরপর দুই বছর নগদ লভ্যাংশ দিতে না পারলে সে কোম্পানির শেয়ারকে 'জেড' ক্যাটাগরিভুক্ত করা যাবে না।
গত বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই ও সিএসই) চিঠি দিয়ে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নিয়ম হচ্ছে, কোনো কোম্পানি পরপর দুই বছর নগদ লভ্যাংশ দিতে না পারলে তা জেড ক্যাটাগরিভুক্ত হবে। কিন্তু ঋণসহ অন্যান্য ইস্যুতে নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি পূরণে সময় নেওয়ার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী বেসরকারি খাতের একটি ব্যাংক ইচ্ছা থাকলেও এখনই নগদ লভ্যাংশ দিতে পারছে না। টানা ১০ বছর ধরে ওই ব্যাংক শেয়ারহোল্ডারদের শুধু বোনাস লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। এ বছরও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ব্যাংকটি। এ রকম পরিস্থিতিতে বিএসইসি ২০২০ সালের নিয়মে পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে ব্যাংকটির শেয়ার 'এ' ক্যাটাগরির শেয়ার হিসেবেই থাকছে।
নির্দিষ্ট কোম্পানির ক্ষেত্রে কমিশনের নিয়ম পরিবর্তনের ঘটনা প্রথম নয়। ২০২০ একটি বীমা কোম্পানির অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ ঘোষণাকে বৈধতা দিতে পূর্ববর্তী নির্দেশনার সংশোধন করে বিএসইসি। আগের নির্দেশনায় সংশোধন করে প্রান্তিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা ছাড়াই এমন লভ্যাংশ ঘোষণাকে বৈধতা দিয়েছিল। ২০২০ সালের ১ নভেম্বর ওই স্পষ্টীকরণে বলা হয়েছিল, অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ ঘোষণার ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি যে প্রান্তিকে অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ ঘোষণা করবে, ওই প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা করার প্রয়োজন পড়বে না, যদি কোম্পানিটির আগের হিসাব বছরে সব ধরনের অনারোপিত ব্যয় বা প্রভিশনিং সংরক্ষণ করার পরও পুঞ্জীভূত মুনাফা থাকে।
তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রথম বছরে 'নো ডিভিডেন্ড' ঘোষণার পর কোম্পানিটিকে অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ প্রদানের সুযোগ করে দিতে এ বিধান করেছিল বিএসইসি। ২০২০ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগের দিন এ স্পষ্টীকরণ বার্তা আসে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দিক থেকে। শুধু তাই নয়, জেড ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণার পরই ক্যাটাগরি পরিবর্তন হয় না। একটি সিরামিক কোম্পানির ক্ষেত্রেও এ নিয়ম মানা হয়নি।
বাজার সংক্ষেপ: এদিকে টানা চার দিন প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ১৩০ পয়েন্ট হারানোর পর গতকাল রোববার ২১ পয়েন্ট বেড়ে ৬৬৬২ পয়েন্টে উঠেছে। লেনদেন হওয়া ৩৭৯ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১১০টির দর হ্রাসের বিপরীতে ২১৭টির দর বৃদ্ধির প্রভাবে সূচক বেড়েছে। দিনব্যাপী কেনাবেচা হয়েছে ৬৪৩ কোটি টাকার শেয়ার। ব্যাংক এবং মিউচুয়াল ফান্ড ছাড়া বাকি সব খাতের বেশিরভাগ শেয়ারের দর বেড়েছে।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত বৃহস্পতিবারের ধারাবাহিকতায় গতকাল সকাল ১০টায় লেনদেনের শুরুতে অধিকাংশ শেয়ারের দর ও সূচকের বৃদ্ধি দিয়ে দিনের লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের প্রথম ৯ মিনিটে আগের দিনের তুলনায় ৩২ পয়েন্ট বেড়ে ৬৬৭৩ পয়েন্টে ওঠে। কিন্তু পরের এক ঘণ্টায় টানা দরপতনে ৩৭ পয়েন্ট হারিয়ে ৬৬৩৫ পয়েন্টে নামে। পরে বিশেষ প্রচেষ্টায় ফের ঘুরে দাঁড়ায় শেয়ারদর ও সূচক।
- বিষয় :
- নিয়ন্ত্রক সংস্থা
- শেয়ারদর
- শেয়ার