ঝুঁকি সত্ত্বেও মানুষ কেন কৈলাস-মানস সরোবরে যায়
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৩৮ | আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৪২
নেপালের রসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর আবারও আলোচনায় এসেছে কৈলাস-মানস সরোবরযাত্রা। প্রশ্ন উঠেছে, কেন হাজার হাজার মানুষ প্রতি বছর পৃথিবীর অন্যতম দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এই তীর্থযাত্রায় অংশ নেন?
কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা কী
কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও বন ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি পবিত্র তীর্থযাত্রা। যাত্রার মূল গন্তব্য চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে অবস্থিত কৈলাস পর্বত (উচ্চতা ৬,৬৩৮ মিটার) এবং মানস সরোবর হ্রদ।
হিন্দু ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, কৈলাস পর্বত হলো ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীর আবাসস্থল। অপরদিকে মানস সরোবরকে এমন এক পবিত্র হ্রদ হিসেবে দেখা হয়, যেখানে স্নান করলে পাপমোচন হয় এবং মোক্ষলাভের পথ সুগম হয়। বৌদ্ধদের কাছে কৈলাস ‘কাং রিনপোচে’ নামে পরিচিত এবং এটি আধ্যাত্মিক শক্তির কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। জৈন ধর্মে বিশ্বাস করা হয়, প্রথম তীর্থংকর ঋষভদেব এখানেই মোক্ষ লাভ করেছিলেন। বন ধর্মেও পাহাড়টি সর্বোচ্চ পবিত্র স্থানের মর্যাদা পেয়ে এসেছে। ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর প্রায় দুই দশক এই যাত্রা বন্ধ ছিল। পরে ১৯৮১ সালে দুই দেশের সমঝোতার ভিত্তিতে এটি পুনরায় চালু হয়।
ভারতীয়রা কোন পথে এখানে যান
ভারতীয় তীর্থযাত্রীরা মূলত তিনটি রুট ব্যবহার করে কৈলাস-মানস সরোবর পৌঁছান। একটি হলো–লিপুলেখ পাস (উত্তরাখণ্ড)। এটি ভারতের সরকারি তীর্থপথ। যাত্রা শুরু হয় দিল্লি থেকে। এরপর আলমোড়া, ধারচুলা ও গুঞ্জি হয়ে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতার লিপুলেখ পাস অতিক্রম করে তিব্বতে প্রবেশ করতে হয়। এই যাত্রা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কুমায়ুন মণ্ডল বিকাশ নিগম যৌথভাবে পরিচালনা করে। দ্বিতীয় পথটি হলো, নাথু লা পাস (সিকিম)। এই পথ তুলনামূলকভাবে কম কষ্টকর। তবে পুরো যাত্রা শেষ করতে সাধারণত ২০ দিনের বেশি সময় লাগে। তৃতীয় পথটি হলো, কাঠমান্ডু (নেপাল) রুট। সবচেয়ে জনপ্রিয় ও নমনীয় পথ হলো নেপালের কাঠমান্ডু হয়ে যাওয়া।
তীর্থযাত্রীরা কাঠমান্ডু থেকে নেপালগঞ্জ বা সিমিকট এবং পরে হিলসা হয়ে তিব্বতে প্রবেশ করেন। তবে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই নেপাল রুটই।
কেন এত কঠিন এই তীর্থযাত্রা
কৈলাস-মানস সরোবরের বেশির ভাগ পথই সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার ৫০০ মিটারের বেশি উচ্চতায়। সেখানে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকে। ফলে উচ্চতাজনিত অসুস্থতা, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক।
ঝুঁকি নিয়েও কেন যান লাখো মানুষ
প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মানুষ কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নেন। অনেকের কাছে এটি শুধু ধর্মীয় আচার নয়, জীবনের সবচেয়ে বড় আধ্যাত্মিক সাধনা। হিন্দু ধর্মমতে, একবার কৈলাস পর্বত প্রদক্ষিণ করলে বহু জন্মের পাপ মোচন হয়। মানস সরোবরের জলকেও পবিত্র বলে মনে করা হয়। বহু তীর্থযাত্রী সেই জল দেশেও নিয়ে আসেন। বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীরাও এটিকে আত্মশুদ্ধি ও মুক্তির প্রতীক হিসেবে দেখেন।
সূত্র: আলজাজিরা