ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬

নেপালে পাহাড়ি ঢলের গতিপথ কোন দিকে, পদ্মায় পৌঁছাবে?

নেপালে পাহাড়ি ঢলের গতিপথ কোন দিকে, পদ্মায় পৌঁছাবে?
×

গুগলের মাধ্যমে পাওয়া কোপার্নিকাস ও ল্যান্ডস্যাটের কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক চিত্র। নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত ছবিটির নির্দেশকগুলো বাংলায় সম্পাদনা করা হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:০৪ | আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:২৫

কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হিমালয় অঞ্চলে একটি হিমবাহ ধসে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। গুগল আর্থ, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার কিছু ছবি বিশ্লেষণ করে সিএনএন জানিয়েছে, হিমবাহ ধসের ঘটনাটি ঘটে হিমালয়ের ‘লাংটাং লিরুং’ নামে একটি চূড়ার কাছে। এটি নেপালের মধ্যে পড়েছে।

প্রায় একই সময়ে বরফ ও পাথরের একটি তুষারধস ঘটে। যেটিকে ভূমিধসও বলা হচ্ছে। এটি পাহাড়ের ঢাল বেয়ে লহেন্দে খোলা নদীতে গিয়ে পড়ে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নদীটি পরে নেপালের ভোতে কোশি ও ত্রিশুলি নদীর সঙ্গে মিশেছে। বন্যার পানি ত্রিশুলি নদী ধরে নেপালের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। মাত্র ৩০ মিনিটে ত্রিশুলির পানির উচ্চতা সর্বোচ্চ ৯ মিটার বা ২৭ ফুট পর্যন্ত বেড়ে যায়।

এই নদীটি নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী হওয়ায় বন্যার পানির কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সীমান্তের ওপারে তিব্বতের শিগাতসে অঞ্চলের গিরং বন্দরে গিয়ে আঘাত হানে। নেপালের ভেতর ত্রিশুলি নদী শেষ পর্যন্ত নারায়ণী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। নদীটি পরে ভারতের বিহার রাজ্যে প্রবেশ করেছে। সেখানে এর নাম গন্ডক নদী।

হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যার গতিপথ। ছবি: সিএনএনের সৌজন্যে

হিন্দুস্থান টাইমসের বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিহারের পাশাপাশি উত্তর প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। বন্যার ঝুঁকিতে থাকা সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। 

কর্মকর্তারা বলেছেন, ভারত সীমান্ত থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার উত্তরের ওই বন্যার কারণে গন্ডক নদী এবং বিহারের বিভিন্ন নদীতে পানির উচ্চতা বাড়তে পারে। এছাড়া, ভারী বৃষ্টি এবং নেপালে ব্যারাজের গেট খুলে দেওয়ার ফলে উত্তর প্রদেশের ঘাঘরা ও রাপ্তি এবং বিহারের কোসি নদীতেও পানির প্রবাহ বাড়তে পারে।

বিহার রাজ্য সরকারের আশঙ্কা, তাদের তুলনামূলক নিচু পাঁচটি জেলায় (পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, সাপাউল ও মুজাফফরপুর) অতিরিক্ত কয়েক হাজার কিউসেক পানি প্রবাহিত হতে পারে।

বাল্মীকিনগর ব্যারাজে বৃহস্পতিবার সকালের দিকে পানির প্রবাহ ৩ লাখ কিউসেকে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়েছিলেন বিহারের কর্মকর্তারা। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই ব্যারাজের সবগুলো (৩৬টি) গেট ধাপে ধাপে খুলে দেওয়া হয়েছে। 

এরপর পদ্মায়?
নেপালের এই বন্যার পানির গতিপথ নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ। তিনি লিখেছেন, গন্ডক নদীর অতিরিক্ত পানি বিহারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গঙ্গায় মিলিত হবে। এরপর গঙ্গার মূল প্রবাহের সঙ্গে পূর্বদিকে অগ্রসর হয়ে ফারাক্কা বাঁধ অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে।

মোস্তফা কামাল লিখেছেন, নেপালে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের পানি ঠিক কবে বাংলাদেশে পৌঁছাবে, তা বর্তমান পর্যবেক্ষণ দিয়ে নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। নদীপথে অগ্রসর হওয়ার সময় পাহাড়ি বন্যার শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষয় হতে থাকে। এটি দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনাও আছে।

আরও পড়ুন

×