ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিটিএমএর দাবি

অবিক্রীত সুতার স্তূপ বস্ত্র কারখানায়

অবিক্রীত সুতার স্তূপ বস্ত্র কারখানায়
×

প্রতীকী ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২২ মে ২০২৩ | ০৪:১৫

শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা সুতা খোলাবাজারে বিক্রির ঘটনা আবার বেড়েছে। বৈধ পথে সুতা আমদানি বাড়ার পাশাপাশি আসছে অবৈধভাবেও। অনেক ক্ষেত্রে চালানে উল্লেখ করা ঘোষণার তুলনায় পরিমাণে বেশি সুতা আমদানি করা হচ্ছে। এর বাইরে চোরাচালানের মাধ্যমেও প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে সুতা আসছে দেশে। এসব কারণে প্রতিযোগিতায় কুলিয়ে উঠতে পারছে না দেশের বস্ত্রকলগুলো। অন্তত ১ হাজার কোটি টাকা মূল্যের সুতা অবিক্রীত পড়ে আছে বিভিন্ন বস্ত্রকলে। সংকটে পড়ে ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে কয়েকটি বস্ত্রকল। বন্ধ হওয়ার পথে আছে আরও কিছু।

সম্প্রতি বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোয়িশেনের (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এমন পরিস্থিতিই তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন। সংকট উত্তরণে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বিজিএমইএর। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ চেয়ে আজ সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছেও চিঠি দিচ্ছে বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠনটি।

দেশি সুতার বড় ক্রেতা হচ্ছে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাত। এ খাতে নিট পোশাকের ৯০ শতাংশের জোগান দেয় বস্ত্রকলগুলো। ওভেনের মোট চাহিদার মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ জোগান দিতে সক্ষম দেশীয় বস্ত্রকলগুলো।

এর পরও হাজার কোটি টাকার সুতার মজুত দেশের বস্ত্রকলগুলোর নাজুক অবস্থা প্রমাণ করে বলে মনে করছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, গ্যাস-বিদ্যুৎসহ অবকাঠামো সংকটের পাশাপাশি অসম এ প্রতিযোগিতায় স্থানীয় মিলগুলো টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। কয়েকটি বস্ত্র কারখানা ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হওয়ার পর্যায়ে আছে আরও কয়েকটি মিল। মজুত যাতে আর না বাড়ে, সে উদ্দেশ্যে উৎপাদন কমিয়ে এনেছে কিছু বস্ত্রকল।

চার দিন আগে বন্ধ হয়ে গেছে সাভারে অবস্থিত লিটিল স্টার স্পিনিং মিল-১। জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খোরশেদ আলম সমকালকে বলেন, অনেক দিন ধরে চলে আসা সংকটের কারণে আর্থিক লোকসানে কারখানা আর চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। এ কারণে কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

সূত্র জানায়, এনবিআরকে দেওয়া বিটিএমএর চিঠিতে বন্ড লাইসেন্স সুবিধায় আমদানি করা সুতা খোলাবাজারে বিক্রি রোধে ব্যবস্থা চাওয়া হবে। আমদানি নিয়ন্ত্রণের কথাও বলা হবে এতে।

বিটিএমএ সদস্যরা বলছেন, গত এক বছরে টাকার অঙ্কের সুতা ও কাপড়ের আমদানি বেড়েছে প্রায় ২১ শতাংশ। আমদানি করা সুতা ও কাপড় দেশের বিভিন্ন বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীর ইসলামপুর, নারায়ণগঞ্জ, আড়াই হাজার, মাধবদী, বাবুর হাট, নরসিংদী ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে এটি হচ্ছে। আমাদানি করা সুতার অবৈধ ব্যবহারের কারণে টিকতে না পেরে বিটিএমএর সদস্য কয়েকটি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

যোগাযোগ করা হলে বিটিএমএর মহাসচিব মনসুর আহমেদ গতকাল সমকালকে বলেন,  গত মঙ্গলবার বিজিএমইএর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও তাদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটে যেখানে জরুরি আমদানিও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, সেখানে অপ্রয়োজনীয় আমদানির কী যুক্তি থাকতে পারে। আবার মূল্যবান ডলার ব্যয় করে আমদানি করা সুতা অবৈধভাবে স্থানীয় বাজারে বিক্রির মাধ্যমে স্থানীয় শিল্প ধ্বংস করা হচ্ছে। এ কারণে বস্ত্র খাতের সঙ্গে এক পর্যায়ে পোশাক খাতও সমস্যায় পড়বে, যা কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতির জন্য বিপদ ডেকে আনবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান সমকালকে বলেন, চিঠি তিনি পেয়েছেন। তবে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়। দেশীয় বস্ত্র এবং সুতা ব্যবহারকে সব সময়ই উৎসাহিত করে আসছে বিজিএমইএ। দেশে সুতা-কাপড় পাওয়া গেলে সময় এবং অর্থ ব্যয় করে বিদেশ থেকে কোন লাভে সুতা আমদানি করতে যাবেন পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা। আর শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করে সুতা খোলাবাজারে বিক্রি করা একে তো অনৈতিক, আবার লাভজনকও নয়।

আরও পড়ুন

×