ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পিআরআইর প্রতিবেদনে পর্যবেক্ষণ

দারিদ্র্য বৈষম্য হবে নির্বাচিত সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

দারিদ্র্য বৈষম্য হবে নির্বাচিত সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ
×

গতকাল বুধবার রাজধানীর বনানীতে পিআরআই কার্যালয়ে মান্থলি মাইক্রো ইকোনমিক ইনসাইটস প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়ােজিত অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা কমিশনের জিইডির সদস্য ড. মনজুর হোসেন, পিআরআইর চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তারসহ অন্যরা ফটাে রিলিজ

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৪২

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের দারিদ্র্য ও বৈষম্য কাঙ্ক্ষিত হারে কমানো সম্ভব হয়নি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে। আগামীতে নির্বাচিত সরকারের জন্যও এই দুটি বিষয় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। কিছুটা কমে এলেও মূল্যস্ফীতি এখনও ৮ শতাংশের ওপরে রয়েছে, যা মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। কারণ মজুরি বৃদ্ধি এখনও মূল্যবৃদ্ধির চেয়ে কম। অন্যদিকে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মানের তুলনায় কম। 

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) মান্থলি মাইক্রো ইকোনমিক ইনসাইটস (এমএমআই) প্রতিবেদনে এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর বনানীতে পিআরআই
কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. মনজুর হোসেন। সভাপতিত্ব করেন পিআরআইর চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার।  প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন পিআরআইর গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খোন্দকার, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম মাসরুর রিয়াজ ও  মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক তানজিমা মোস্তফা। পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক ড. খুরশিদ আলম সভা পরিচালনা করেন। 

ড. মনজুর হোসেন বলেন, বিনিয়োগ সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভরশীল এবং তা রাতারাতি পুনরুজ্জীবিত করা যায় না। বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করার জন্য কঠোর মুদ্রানীতিকে পরিমিতভাবে শিথিল করা উচিত। সরকার উচ্চ নীতি সুদহার বজায় রাখার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করছে না।  এ অবস্থা কতদিন ধরে রাখা সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। 

ড. জায়েদী সাত্তার বলেন, অতীতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য নির্ধারিত হয়েছে শ্রমনির্ভর পোশাক খাত এবং অন্যান্য পণ্যের তুলনামূলক সুবিধা দ্বারা চালিত প্রতিযোগিতামূলক সুবিধার মাধ্যমে। নতুন শুল্ক কাঠামোয় এখন সে ধারা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ধরনের বিষয় কেবল একতরফা শুল্ক সুবিধাই প্রতিষ্ঠিত করে। 
পিআরআইর প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সংস্থাটির মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সুবিধাভোগীরা অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবুও তারা রাজনৈতিক সংগঠন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ। এক পর্যায়ে তারা নীতি ও ক্ষমতার মূল চাবিকাঠি দখল করে নেয়। তাদের প্রভাব যত বাড়ে, অর্থনীতি এবং সমাজে অস্থিরতা তত গভীর হয়।

তিনি বলেন, যে রাজনৈতিক দলগুলো সুশাসন ও সমাজকল্যাণে রাজনীতির একটি নতুন ধারার প্রতিনিধিত্ব করার আশা করে, তাদের অবশ্যই আর্থিক খাতকে দুষ্ট প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে হবে। এ কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। আর্থিক সম্পদকে যে কোনো লুটপাট থেকে রক্ষা করা জরুরি। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার এবং পরবর্তী নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের কাছ থেকে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন। 

ড. খোন্দকার বজলুর রহমান বলেন, এককভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে যথেষ্ট নয়। মাত্র ৬ দশমিক ৬ শতাংশ কর-জিডিপি অনুপাত নিয়ে বাংলাদেশ অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে। এটি সামাজিক সুরক্ষা দিতে আর্থিক সক্ষমতাকে সীমিত করে। তাঁর মতে, সামাজিক নিরাপত্তা বরাদ্দের মাত্র প্রায় ১ শতাংশ সরাসরি দরিদ্রদের কাছে পৌঁছায়। 

ড. এম মাসরুর রিয়াজ মনে করেন, নতুন বিনিয়োগ ছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি সীমিতই থাকবে। বাংলাদেশ বিজনেস ক্লাইমেট ইনডেক্সের (বিবিএক্স) সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশের খুব বেশি উন্নতি হয়নি। 
আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের ডেপুটি হেড অব মিশন জোশুয়া গাকুতান বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতি এবং নীতি সংস্কারের বিষয়ে প্রমাণভিত্তিক সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ। 

কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়াং সিক পরবর্তী সরকারের সময়ে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা এবং কর সংস্কারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। 
ইউএনডিপির কান্ট্রি ইকোনমিক অ্যাডভাইজর ওয়াইস পেরি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার কথা বলেন তিনি।

আরও পড়ুন

×