ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আইনশৃঙ্খলায় সরকারের সক্ষমতার ওপর বিনিয়োগের গতি নির্ভর করবে

বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনায় এইচএসবিসির চিফ এশিয়া ইকোনমিস্ট

আইনশৃঙ্খলায় সরকারের সক্ষমতার ওপর বিনিয়োগের গতি নির্ভর করবে
×

ছবি: সমকাল

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬ | ১৬:২৮ | আপডেট: ০২ মার্চ ২০২৬ | ১৭:০৭

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনের পর দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।  তবে এর গতি অনেকাংশে নির্ভর করবে নতুন সরকার আইনশৃঙ্খলা জোরদার এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কতটা সক্ষম হয় তার ওপর।

আজ সোমবার ঢাকায় দি হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশন লিমিটেড (এইচএসবিসি) বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড দি ওয়ার্ল্ড: ইকোনমিক প্রস্পেক্টস্ ফর ২০২৬ অ্যান্ড  বিয়োন্ড’  শীর্ষক আলোচনার মূল বক্তব্যে এইচএসবিসি গ্লোবাল রিসার্চের চিফ এশিয়া ইকোনমিস্ট ফ্রেডরিক নিউম্যান এমন মন্তব্য করেন। 

এইচএসবিসি বাংলাদেশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অনুষ্ঠানটিতে বৈশ্বিক এবং এশিয়ার বাজারগুলোর সর্বশেষ খবর তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া এইচএসবিসি বাংলাদেশের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার জিগনেশ রূপারেল এইচএসবিসি গ্রুপের সর্বশেষ ফলাফল এবং বিশ্বজুড়ে ব্যাংকটির সক্ষমতা সম্পর্কে আলোচনা করেন।

রাজধানীর হোটেল শেরাটনে এই আলোচনায় জুমের মাধ্যমে যুক্ত হন ফ্রেডরিক নিউম্যান। তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর এখন সরকারের সামনে সংস্কার এগিয়ে নেওয়া এবং কাঙ্খিত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক ম্যান্ডেট রয়েছে। নতুন প্রশাসনকে তাদের প্রতিশ্রুতির প্রতি অঙ্গীকার প্রদর্শন করতে হবে এবং তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। নতুন অধ্যায়ের সূচনা এখন।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও বাংলাদেশ দৃঢ়তার সাথে এগিয়ে এসেছে। এইচএসবিসি’র পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ এবং পরবর্তী অর্থবছরে সাড়ে ৫ শতাংশ হতে পারে। ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার বছরে রপ্তানি আয় ৪ দশমিক ১ শতাংশ বাড়বে হবে বলে তারা ধারণা করছেন। আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে আস্থা বৃদ্ধির ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রতিবছর বাড়ছে। রেমিট্যান্স ব্যক্তিখাতের ভোগব্যয়কে সহায়তা করবে। 

এশিয়ার প্রধান অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে। এটি অর্জনে রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ, সুশাসন ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির কারণে বৈশ্বিক ভোক্তা চাহিদা হ্রাসের ঝুঁকি এখনও বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। তাই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ত্বরান্বিত করা জরুরি। কারণ এটি বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বৃহত্তম বাজার। 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দি ইনস্টিটিউট অফ কষ্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) প্রেসিডেন্ট কাউসার আলম এবং এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুব উর রহমান। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিএফও, স্টেকহোল্ডার এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এইচএসবিসি বাংলাদেশের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার জিগনেশ রূপারেল তার উপস্থাপনায় সম্প্রতি প্রকাশিত এইচএসবিসি গ্রুপের বার্ষিক আর্থিক ফলাফল তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৬১ বছর পূর্বে এইচএসবিসির প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যই ছিল স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে সহায়তা করা যা আজও গ্রুপটির ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫৬টি দেশ ও অঞ্চলে বিস্তৃত উপস্থিতির মাধ্যমে এইচএসবিসি তাঁর গ্রাহকদের বৈশ্বিক সুযোগের সাথে সংযুক্ত করে চলেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আইসিএমএবির প্রেসিডেন্ট এবং সেভেন রিংস সিমেন্টের সিএফও কাউসার আলম বলেন, অনুকূল ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড এবং শক্তিশালী বেসরকারি খাতের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের অর্থনীতির রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা, যা ২০৪০ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন-ডলার অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুব উর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ২০২৫ সালে এইচএসবিসি’র শক্তিশালী ফলাফল আমাদের বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্কের সক্ষমতা এবং আমাদের প্রতি গ্রাহকদের গভীর আস্থার প্রতিফলন। বাংলাদেশ যখন সংস্কার ও প্রবৃদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে, তখন আমাদের ভূমিকা স্পষ্ট; তা হলো স্থানীয় আকাঙ্ক্ষাকে বৈশ্বিক সুযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা।

আরও পড়ুন

×