ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আইএমএফের ঋণের শর্তগুলো দেশের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে

আইএমএফের ঋণের শর্তগুলো দেশের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে
×

গতকাল শনিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইআরএফ কার্যালয়ে ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আর্থিক সক্ষমতা ও সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ফটাে রিলিজ

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৪৯ | আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১৪:৫৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, আইএমএফের ঋণের শর্তগুলো দেশের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। ২০২২ সালে তৎকালীন সরকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ না থাকায় এমন শর্তে সম্মত হয়েছিল, যা এখন অর্থনীতির ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

গতকাল শনিবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আর্থিক সক্ষমতা ও সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। উপদেষ্টা বলেন, আইএমএফ তাদের শর্ত পরিবর্তনের সুযোগ রাখলেও ঋণগ্রহীতা দেশের ক্ষেত্রে সেই নমনীয়তা থাকে না। কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, টার্নওভার ট্যাক্স আরোপ এবং ভর্তুকি কমানোর মতো শর্ত বাস্তবায়নে সঙ্গে বাস্তবতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোকে সম্মান করে। এসব চুক্তিতে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো বিষয় থাকলে তা পুনর্বিবেচনার চিন্তা সরকারের রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রেও বাস্তবতা যাচাইয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। 

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, জ্বালানি তেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে কৌশলগত মজুত গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, ঘন ঘন মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি বাড়ায় এবং উচ্চ দারিদ্র্যের ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে ডিজেলের দাম বাড়লে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে সরকার নিম্ন ও মধ্যবিত্তের সক্ষমতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

অতীতের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগে অনেক প্রকল্পই লুটপাটের উদ্দেশ্যে নেওয়া হতো, যার ফলে দেশ ঋণের চাপে পড়েছে। বন্ধ ও রুগ্‌ণ কারখানা চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ‘বড় প্যাকেজ দেবে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি হতে পারে রিফাইন্যান্সিং স্কিম, ক্রেডিট গ্যারান্টি বা অন্য কোনো স্কিম। মনিটরিং প্রক্রিয়াও সহজ হতে পারে। 

ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ সংশোধন করে একীভূত ব্যাংকের পুরোনো মালিকদের ফিরে আসার সুযোগ রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, সবার জন্য সমান সুযোগ রাখতেই এটি করা হয়েছে। তবে কেউ এর বিপক্ষে চাইলে উচ্চ আদালতে যেতে পারেন। 

সেমিনারে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির শর্ত বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তা

বাজারে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ককরেন, ঋণের সুদ পরিশোধে ক্রমবর্ধমান ব্যয় অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং বাংলাদেশ যেন ঋণের ফাঁদে না পড়ে, সে জন্য রাজস্ব আহরণ বাড়ানো জরুরি।

তিনি আরও বলেন, সরকার অর্থনীতির আকার এক ট্রিলিয়ন ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। এটি যেন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ জিডিপির অনুপাতে বাড়ানোর পরিকল্পনা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর না হলে বিনিয়োগ বাড়বে না।

পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হাসান খান বলেন, যেসব গার্মেন্ট মালিক নিজ কারখানায় রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপন করবে, তাদের জন্য বিজিএমইএর সব সেবা বিনামূল্য দেওয়া হবে। ডিজেলচালিত সেচযন্ত্রগুলোতে সোলার স্থাপন করে এই কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ শিল্পখাতে দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি। এছাড়া ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পারচেস অ্যাগ্রিমেন্ট’ নীতিমালা চূড়ান্ত করার পরামর্শ দেন তিনি। 

তিনি বলেন, একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকে অনেক গার্মেন্ট মালিকের টাকা আটকে থাকায় তাদের কারখানাগুলো রুগ্‌ণ হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত টাকাগুলো ফেরত দেওয়া উচিত। এছাড়া ম্যান মেইড ফাইবারের কাঁচামাল উৎপাদনে সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা জরুরি। 

ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় সংগঠনের সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বিকেএমইএ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম ও ফুটওয়্যার লেদারগুডস অ্যান্ড এক্সেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মো. রফিকুল ইসলাম।

আরও পড়ুন

×