ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রপ্তানিমুখী পোশাক খাতে জবরদস্তিমূলক শ্রম নেই

রপ্তানিমুখী পোশাক খাতে জবরদস্তিমূলক শ্রম নেই
×

আবু হেনা মুহিব

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৩৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে শিল্প খাতে জবরদস্তিমূলক শ্রম ও অতিরিক্ত উৎপাদনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনটি বলেছে, দেশের রপ্তানিমুখী পোশাক খাতে কোনো জবরদস্তিমূলক শ্রম নেই। অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতার বিষয়টিও সঠিক নয়। এ নিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটি) বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও নেই। বরং দেশি-বিদেশি কমপ্লায়েন্স ও ডিউ ডিলিজেন্স পরিপালনের সুবাদে নিরাপদ উৎপাদন কাঠামোর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রয়েছে বাংলাদেশের। 

সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে এই অবস্থানপত্র পাঠিয়েছে বিজিএমইএ। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রপ্তানি মূলত শ্রমঘন শিল্প এবং নিম্ন থেকে মধ্যম মূল্যের পোশাক পণ্যে সীমাবদ্ধ, যে ধরনের পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদিত হয় না। ফলে মার্কিন উৎপাদন বা সোর্সিংয়ের ওপর এর কোনো বিরূপ প্রভাব নেই।

জানা গেছে, বিজিএমইএর এই অবস্থানপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের (ইউএসটিআর) দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে করা অভিযোগ যে ঠিক নয়; সে বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। 
গত ১২ মার্চ পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশ পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা, তা যাচাই করতে পৃথক তদন্ত শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর ইউএসটিআর জানিয়েছে, পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহৃত হলে সেই পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন, নীতি ও বাস্তব প্রয়োগ কতটা যুক্তিসংগত বা বৈষম্যমূলক, তা খতিয়ে দেখা হবে। এসব নীতি বা অনুশীলন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের ওপর কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে কিনা, সেটিও মূল্যায়ন করা হবে। 

গত বছর ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশে ৬০ দেশের পণ্যে বিভিন্ন হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা করে। পরে নানা ঘটনা পরিক্রমা এবং আলোচনার পর  বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে। চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত বৈশ্বিক শুল্কনীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। এই ঘটনার পর চুক্তি কার্যকর করতে গড়িমসি করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপরই বাংলাদেশসহ ১৫ দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে কিনা–তা নিয়ে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয় দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর ইউএসটিআর। 

বাংলাদেশের  বিরুদ্ধে  জবরদস্তিমূলক শ্রমের অভিযোগ প্রসঙ্গে অবস্থানপত্রে বিজিএমইএ বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডারে (ডব্লিউআরও) বর্তমানে সব শিল্প খাত মিলিয়ে মোট ৫৫টি ‘উইথহোল্ড রিলিজ অর্ডার’ কার্যকর রয়েছে। এর মধ্যে টেক্সটাইল, পোশাক ও জুতা খাতে ছয়টি অর্ডার থাকলেও ডেটাবেস পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো ডব্লিউআরও ইস্যু করা হয়নি। এটি আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ডের প্রতি বাংলাদেশের সরবরাহ শৃঙ্খলের অবিচল আনুগত্যেরই প্রতিফলন। দেশের রপ্তানিমুখী পোশাক খাতে কোনো জবরদস্তিমূলক শ্রম নেই। এই শিল্পটি একটি শক্তিশালী আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়। কারখানাগুলো কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর নিয়মিত  পরিদর্শন করে থাকে। 
 অবস্থানপত্রে বলা হয়, ২০১৩ সালের রানা প্লাজায় ভবন ধসের ঘটনার পর কর্মস্থলের নিরাপত্তায় ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। আইএলও এবং বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর সহযোগিতায় অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার তৈরি পোশাকশিল্পে নজিরবিহীন নিরাপত্তা সংস্কার পরিচালনা করেছে। এর ফলে শিল্পজুড়ে কাঠামোগত, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক উন্নয়ন ঘটেছে। এর বাইরে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতারা কঠোর কমপ্লায়েন্স বা পরিপালনের শর্তারোপ করে থাকে। এ ছাড়া উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যৌথভাবে একটি ‘ডিউ ডিলিজেন্স ইউনিট’ গঠন করা হয়েছে।  
বিজিএমইএ বলেছে, বাংলাদেশের রপ্তানি মূলত শ্রমঘন এবং নিম্ন থেকে মধ্যম মূল্যের পোশাক পণ্যের ওপর কেন্দ্রীভূত, যা যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদিত হয় না। বরং এসব পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে পোশাক সরবরাহের মাধ্যমে মার্কিন ভোক্তা, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে উপকৃত করে। 

আরও পড়ুন

×