হাইব্রিড গাড়িতে শুল্কছাড় চায় বারভিডা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ০৭:৩০
| প্রিন্ট সংস্করণ
আগামী বাজেটে হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়েছে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডা। সংগঠনটির যুক্তি, দেশে জ্বালানি সংকটের বাস্তবতায় এ ধরনের গাড়িতে কর ছাড় দেওয়া হলে জনগণ ও সরকার উভয়ই লাভবান হবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর বিজয়নগর আকরাম টাওয়ারে আগামী অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের দাবি তুলে ধরেন বারভিডার সভাপতি আবদুল হক।
আবদুল হক বলেন, রিকন্ডিশন্ড মোটরযান খাতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার স্থানীয় বিনিয়োগ রয়েছে এবং সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বছরে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দেয়। ডলার সংকট ও উচ্চমূল্য এবং উৎপাদনকারী দেশে দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের গাড়ির বাজার চাপের মুখে পড়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়, যার স্থবিরতা এখনও কাটেনি। ২০১৫ সালে দেশে ২১ হাজার ৯৫২টি গাড়ি নিবন্ধিত হলেও ২০২৩ সালে তা কমে ১০ হাজার ৭৮৪টিতে নেমে আসে। ২০২৪ সালে নিবন্ধন হয় ১০ হাজার ৪৯৯টি এবং ২০২৫ সালে আরও কমে দাঁড়ায় ৯ হাজার ৩৮৭টিতে। এতে অনেক ব্যবসায়ী লোকসানে পড়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন।
গণপরিবহনের স্বীকৃতি দেওয়া হলেও সম্পূরক শুল্ক বেশি থাকায় মাইক্রোবাসের দাম এখনও বেশি উল্লেখ করে বারভিডা বলেছে, কর্মী, শিক্ষার্থী, পর্যটক ও রোগী পরিবহনে মাইক্রোবাসের গুরুত্ব রয়েছে। তাই এ খাতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা দরকার। তা ছাড়া উচ্চ শুল্কের কারণে মানসম্পন্ন পিকআপ কম আমদানি হচ্ছে। কৃষি, পোলট্রি, ডেইরি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে পিকআপে সর্বনিম্ন শুল্কহার নির্ধারণ করতে হবে।
মোটরযান খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে বারভিডার সভাপতি বলেন, আমদানিযোগ্য গাড়ির বয়সসীমা পাঁচ বছর থেকে আট বছরে উন্নীত করলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। বাজারে দামের চাপ কমবে এবং রাজস্ব আয় বাড়বে। দেশে ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ খাতে করছাড় ও প্রণোদনা রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত চার্জিং অবকাঠামো, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, বৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতায় চলাচল সক্ষমতা এবং সার্ভিসিং নেটওয়ার্কের মতো বিষয়গুলোতে এখন গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরে ভ্যাট-ট্যাক্সের অজুহাতে হয়রানি বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছে বারভিডা।
- বিষয় :
- বাজেট
