উচ্চ সংরক্ষণমূলক শুল্কের কারণে ভোক্তার ক্ষতি ২০ বিলিয়ন ডলার
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ | ০৭:০৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশে আমদানিতে উচ্চ সংরক্ষণমূলক শুল্কের বোঝা বহন করছেন ভোক্তারা। স্থানীয় শিল্প সুরক্ষার নামে অত্যন্ত ব্যয়বহুল আমদানির কারণে ভোক্তা পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। ফলে ভোক্তার ক্ষতি হচ্ছে জিডিপির ৫ শতাংশেরও বেশি। অর্থাৎ বছরে ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার এমন প্রাক্কলন করেছেন।
জাইদী সাত্তার উল্লেখ করেন, বাণিজ্য নীতির সবচেয়ে বড় অংশীদার ভোক্তারা, অথচ তারাই সবচেয়ে উপেক্ষিত। বাংলাদেশের মূল্যস্তর বেশি হওয়ায় মার্কিন ডলারের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা ভারতের তুলনায় কম। পিআরআইর সেন্টার ফর ট্রেড অ্যান্ড প্রোটেকশন পলিসি রিসার্চ (সিটিটিপিআর) আজ সোমবার ‘বাণিজ্য নীতি, শিল্প সুরক্ষা, বিনিয়োগের প্রভাব ও ভোক্তা কল্যাণ’ শিরোনামে এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, সংরক্ষণবাদ চিরকাল চলতে পারে না। এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির সময় আমাদের আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিল্পকে অনির্দিষ্টকাল সুরক্ষা দেওয়া নয়, বরং এমন শিল্প গড়ে তোলা যা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে পিআরআই চেয়ারম্যান দেশের শুল্ক কাঠামো, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং রপ্তানি উন্নয়ন কৌশলে জরুরি সংস্কারের আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান কাঠামো উৎপাদক ও ভোক্তা– উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। বিনিময় হার অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূল্যগুলোর একটি। বাণিজ্য নীতি প্রণয়ন করা হবে কিন্তু বিনিময় হার কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা বিবেচনায় নেওয়া হবে না– এটা একেবারেই অযৌক্তিক।
ড. জাইদী সাত্তার উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের গড় শুল্কহার বর্তমানে ২৮ শতাংশ, যা নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর (৭ শতাংশ) চার গুণ এবং উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর (৩ শতাংশ) প্রায় দশ গুণ। প্যারা-ট্যারিফ যুক্ত হলে কার্যকর শুল্কহার প্রায় ৫৫ শতাংশে পৌঁছায়। ২০২২ সালের পর থেকে মুদ্রার ৪০ শতাংশ অবমূল্যায়নের ফলে আমদানির মূল্য ৪০ শতাংশ বেড়ে গেছে এবং উচ্চ শুল্কহার ভোক্তা মূল্যবৃদ্ধি ও উৎপাদন খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা দুর্বল করেছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯২ সালে কাস্টমস ডিউটি ৭০ শতাংশ থেকে বর্তমানে ১৪ শতাংশে নেমে এলেও একই সময়ে সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কসহ প্যারা-ট্যারিফ ২.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ফলে শুল্ক উদারীকরণের সুফল অনেকাংশে ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং শুল্ক কাঠামো আরও জটিল হয়েছে। জাইদী সাত্তার বলেন, বাংলাদেশের শিল্পনীতিতে একটি সুস্পষ্ট রপ্তানিবিরোধী পক্ষপাত বিদ্যমান।
- বিষয় :
- শুল্ক
