ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ব্যাংক খাত সংস্কার না করলে অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে না

ব্যাংক খাত সংস্কার না করলে অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে না
×

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬ | ০৭:৪৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যাংক ব্যবস্থা দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে দুর্বল জায়গা হয়ে উঠতে পারে। ব্যাংক খাত ঠিক না করলে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আসবে না। বাজেটে ব্যাংক খাতের পুনরুদ্ধার দেশের প্রধান অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে সংস্কারের বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দরকার ছিল। 
প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর এক আলোচনায় গতকাল বুধবার এমন মত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা। মেট্রোপলিটান চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজ, ঢাকা (এমসিসিআই),  গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ  যৌথভাবে এর আয়োজন করে। 

রাজধানীর গুলশানে এমসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।  স্বাগত বক্তব্য দেন এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান। আলোচনায় অংশ নেন পিআরআই চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয়, পিআরআইর গবেষণা পরিচালক বজলুল হক খন্দকার,  পরিচালক আহমদ আহসান, এমসিসিআইর পরিচালক হাসান মাহমুদ প্রমুখ। 

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিনিয়োগকারীরা দেখতে চান নীতির ধারাবাহিকতা আছে কিনা। এটি বাজেট প্রস্তাবনায় আছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাঁচ বছরের জন্য কর কাঠামো উল্লেখ করা হয়েছে। বিনিয়ন্ত্রণকরণের সাধ্যমে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমিয়ে আনার পথনকশা বাজেটে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এসব উদ্যোগের ফলে বিনিয়োগে গতি বাড়বে।  

সভায়  অনলাইনে যুক্ত হয়ে জাইদি সাত্তার বলেন, ব্যাংকিং খাতের বিপর্যয়ের কারণে অর্থনীতি এখনও প্রচণ্ড চাপে রয়েছে। ব্যাংক খাত নিয়ে বাজেটে অনেক বেশি জরুরি পদক্ষেপ দরকার ছিল। কারণ, ব্যাংক খাতের সংকট দূর না করলে তা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে দুর্বল জায়গা হয়ে উঠতে পারে। এখন যা প্রয়োজন তা হলো ব্যাংকিং খাতের পরিচ্ছন্নতার একটি সুনির্দিষ্ট কৌশল। যার মধ্যে থাকবে স্বাধীন সম্পদ মূল্যায়ন এবং সে অনুযায়ী ব্যাংক পুনর্গঠন পরিকল্পনা, সুশাসন এবং কাঠামোগত পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করে মূলধন সরবরাহ এবং খেলাপি ঋণ আদায়ের ব্যবস্থা করা। 
নাসের এজাজ বিজয় বলেন, বাজেটে ব্যাংক খাত সংস্কারের বিষয়ে আরেকটু বিস্তারিত আলোচনা দরকার ছিল। বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ না বাড়িয়ে বিদেশি উৎস থেকে কম সুদে বেশি করে ঋণ নিতে পারে। তিনি বলেন, বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এর বাস্তবায়নে। মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য কী করা হবে, তা আরেকটু পরিষ্কারভাবে বলতে পারলে ভালো হতো। 
এমসিসিআই সভাপতি বলেন, কোনো রকম কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হবে। রাজস্ব-সংক্রান্ত বাধা দূর করতে হবে। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত এনবিআর যেখানে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৬৫ শতাংশ রাজস্ব আহরণ করতে পেরেছে, সেখানে কোনো ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া নতুন অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা অত্যন্ত দুরূহ। উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চাপের ফলে মাঠ পর্যায়ে করদাতারা হয়রানির শিকার হতে পারেন।
আহমেদ আহসান বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ব্যাংক খাত যদি না ঘুরে দাঁড়ায় তাহলে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়বে। ভ্যাট সংস্কার ছাড়া রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে না। 

আরও পড়ুন

×