ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি, শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ, জুতা নিক্ষেপ

শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি, শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ, জুতা নিক্ষেপ
×

ছবি: ফাইল

খুবি সংবাদদাতা 

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬ | ২২:৩৪ | আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ | ২২:৩৪

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানিমূলক বার্তা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই শিক্ষককে ইতোমধ্যে ডিসিপ্লিন-প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র’।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার উত্তাল হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ এবং জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করেন। 

ছাত্রবিষয়ক পরিচালকের দপ্তরে জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, গত ১৩ মে সামাজিক মাধ্যমে অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। প্রথমদিকে সাধারণ কথোপকথন হলেও ধীরে ধীরে ওই শিক্ষক অশোভন ও কুরুচিপূর্ণ বার্তা পাঠাতে থাকেন এবং একাধিকবার গভীর রাতে কল করেন। শিক্ষার্থী এসব কুপ্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষক আরও আপত্তিকর বার্তা পাঠান, যা ভুক্তভোগীর মানসিক সুস্থতা ও পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। 

বিষয়টি প্রথমে সহপাঠী ও ডিসিপ্লিন প্রতিনিধিদের জানিয়ে কোনো কার্যকর সমাধান না পাওয়ায় তিনি প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সঙ্গে ওই শিক্ষকের পাঠানো আপত্তিকর বার্তার স্ক্রিনশটও জমা দেওয়া হয়েছে। 

অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম দাবি করেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর মোবাইল ফোনটি চুরি হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার বন্ধ করে দেন এবং এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন। 

তিনি বলেন, ‘আমি ডিসিপ্লিনের প্রধান হওয়ার পর অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কিছু শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন বিষয়ে বাধা দিতে হয়েছে। ব্যক্তিগত শত্রুতা ও ঈর্ষা থেকেই কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে এমন ঘটনা ঘটাতে পারে।’ 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক হারুনুর রশিদ বলেন, ডিনদের সঙ্গে বৈঠকের পর অভিযুক্ত শিক্ষককে ডিসিপ্লিন-প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলকে অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোছা. তাছলিমা খাতুন বলেন, বিষয়টি নিয়ে জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। তদন্ত ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে। 

আরও পড়ুন

×