ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

বাজেট নিয়ে বিসিআইর গোলটেবিল আলোচনা

বিনিয়োগের বাধা দূর করার দিকনির্দেশনা নেই

বিনিয়োগের বাধা দূর করার দিকনির্দেশনা নেই
×

গতকাল বুধবার বিসিআই আয়ােজিত আলােচনায় সংগঠনের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, বিএবির চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার, র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক, ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমানসহ অন্যরা ফটাে রিলিজ

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬ | ০৭:৫০

| প্রিন্ট সংস্করণ

সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের খুশি করতে সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় বাজেট দিয়েছে। নতুন এ সরকারের এর বাইরে যাওয়ারও সুযোগ ছিল না। তবে এতে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব বাধা রয়েছে, তা দূর করার কোনো পদক্ষেপ বা দিকনির্দেশনা নেই। ফলে গত কয়েক বছর ধরে স্থবির হয়ে পড়া বিনিয়োগে বন্ধ্যত্ব আদৌ কাটবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় আছে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিসিআই কার্যালয়ে এ গোলটেবিল বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনায় এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ, শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা। এতে সভাপতিত্ব করেন বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ। 

বিসিআই সভাপতি বলেন, বাজেট ঘোষণার আগে সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে ব্যবসার সমস্যাগুলো শুনেছে। এরপর বাজেটে সরকার যে ১০টি অগ্রাধিকার পয়েন্ট চিহ্নিত করেছে তা সঠিক এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে। পাশাপাশি বন্ধ কারখানা চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার স্কিম, সিএমএসএমই খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সাপোর্ট এবং নতুন স্টার্টআপদের জন্য তহবিল, সৃজনশীল অর্থনীতি ব্যবস্থারও সাধুবাদ জানান তিনি।
তবে এসব সত্ত্বেও বিনিয়োগের প্রতিকূল পরিবেশ কাটবে কিনা, নতুন বিনিয়োগ হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, বাজেটে অনেক ভালো উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও উৎপাদনশীল খাতে নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়া তো দূরের কথা, সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে বেসরকারি খাত অর্থ পাবে কোথা থেকে। দেশের পুঁজিবাজারও ততটা সক্ষম নয়। এনবিআরের সংস্কার না হলে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকলে বিনিয়োগ হবে না।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক মনে করেন, গত তিন-চার দশকের মধ্যে দেশের উৎপাদন খাত এখন সবচেয়ে বড় সংকটে। বিশেষ করে রপ্তানির মূল খাত গার্মেন্ট এবং স্থানীয় বাজারনির্ভর শিল্পগুলো চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে চাপে আছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের বর্তমান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
তিনি জানান, কভিডের পরে যেখানে এক বছরে আমদানি প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল, তা এখন কমে ৭০ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমেছে। একটি বর্ধিষ্ণু অর্থনীতির জন্য এ বিশাল সংকোচন অত্যন্ত ভয়াবহ। ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি করতে পারছেন না, যা দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনকে ব্যাহত করবে। এ অবস্থায় রিজার্ভ বড় করার নীতির সমালোচনা করেন তিনি।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ প্রস্তাবিত বাজেটকে একটি ‘সবার প্রতি সহমর্মী বাজেট’ হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, দীর্ঘ সময় পর সরকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে বড় ধরনের কোনো করের বোঝা চাপায়নি। তাঁর মতে, বর্তমানে অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি। এটি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে উৎপাদনও কমে যাচ্ছে।
বাজেট বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে উঠতে এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। প্রস্তাবিত বাজেট রাজনৈতিকভাবে ইতিবাচক উল্লেখ করে গাণিতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং মাঠ পর্যায়ের বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। 

বেসরকারি ব্যাংকের মালিকদের সংগঠন বিএবির চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, বিনিয়োগের জন্য গ্যাস, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ হলো মূলমন্ত্র। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন না। উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং সরকারের উচ্চ ধারের কারণে ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো কঠিন। 
ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান বলেন, এবারের বাজেটটি ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের কথা মাথায় রেখে করা হয়েছে। বিশেষ করে শিল্প কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর  ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করা এবং উৎসে কর ও এআইটি সমন্বয় বা রিফান্ডের সুযোগ দেওয়াকে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক ও শিল্পের ক্যাশ-ফ্লোর জন্য সহায়ক। 
এমসিসিআইর সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন- রাজস্ব আদায়ের জন্য নতুন সংস্কার না এনে কেবল বিদ্যমান করদাতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে তা ব্যবসার জন্য টেকসই হবে না। 

আরও পড়ুন

×