টিসিবির ডিলারশিপ নবায়নে বৈষম্যের অভিযোগ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬ | ১০:২৬
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বিরুদ্ধে হয়রানি, বৈষম্যমূলক আচরণ এবং ডিলারশিপ চুক্তি নবায়ন না করার অভিযোগ তুলেছেন সংস্থাটির ডিলাররা। তাদের দাবি, জেলা প্রশাসকের (ডিসি) ইতিবাচক সুপারিশ থাকার পরও বহু নবায়নযোগ্য ডিলারের সঙ্গে চুক্তি না করে নতুন ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আইনের পরিপন্থি। গতকাল রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বৈষম্যের শিকার টিসিবি ডিলাররা’ শীর্ষক ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও ডিলাররা অংশ নেন। তাদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ডিলার ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জুয়েল। তিনি বলেন, টিসিবির ২০২৫ সালের নবায়নযোগ্য ডিলারদের পাঁচ হাজার টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে আবেদন করতে বলা হয়েছিল। আবেদনের পর জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরেজমিন তদন্ত, কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে অনেক ডিলারের পক্ষে জেলা প্রশাসক কার্যালয় সুপারিশ পাঠায়। কিন্তু সেই সুপারিশ পাওয়া অনেক ডিলারের সঙ্গে এখন পর্যন্ত নবায়ন চুক্তি করা হয়নি।
তাঁর দাবি, নীতিমালা অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের সুপারিশপ্রাপ্ত নবায়নযোগ্য ডিলারদের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ অনেক ক্ষেত্রে সুপারিশপ্রাপ্ত ডিলারদের বাদ দিয়ে নতুন করে ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।
রফিকুল ইসলাম নামে এক ডিলার অভিযোগ করে বলেন, টিসিবির একটি নির্দিষ্ট চক্র নিজেদের বশবর্তী হয়ে ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল বা নবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, টিসিবি যদি তাদের এই ভুল ও হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে এবং বিদ্যমান ডিলারদের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন না করে, তবে দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ইতোমধ্যে অনেক ডিলার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং বাকিরাও আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ডিলারদের অভিযোগ, কোথাও ওয়ার্ডভিত্তিক ভোক্তা সংখ্যা ও আসন সংখ্যার অজুহাতে নবায়ন বাতিল করা হয়েছে। আবার একই ধরনের পরিস্থিতিতে অন্য এলাকায় একাধিক ডিলারের নবায়ন করা হয়েছে। এমনকি কিছু এলাকায় পর্যাপ্ত ভোক্তা ও শূন্য পদ থাকা সত্ত্বেও কোনো ডিলারের নবায়ন করা হয়নি।
তাদের ভাষ্য, অনেক ডিলারের ভোটার তালিকা ও ফাঁকা আসনের অজুহাতে আবেদন বাতিল করা হলেও পরে একই এলাকায় নতুন আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। এতে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে টিসিবির অভ্যন্তরে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও তোলা হয়।
ডিলারদের পক্ষ থেকে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে টিসিবির পণ্য বিক্রি করে আসা অনেক ডিলারকে বিভিন্ন অজুহাতে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এতে তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। তারা দাবি করেন, টিসিবির নীতিমালা অনুসরণ করে জেলা প্রশাসকের সুপারিশপ্রাপ্ত সব নবায়নযোগ্য ডিলারের সঙ্গে দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। সোনিয়া আক্তার নামে এক নারী ডিলার বলেন, এই ডিলারশিপই তাদের একমাত্র আয়ের উৎস। এটা কেড়ে নেওয়া হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেবেন তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টিসিবির মুখপাত্র শাহাদাত হোসেন সমকালকে বলেন, টিসিবি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা। মন্ত্রণালয়ের বাইরে কিছু করা সম্ভব নয়। নতুন ডিলার নিয়োগের বিষয়টি সরকারের তথা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে করা হয়েছে। স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সবকিছু অনলাইনে হচ্ছে। আইন অনুযায়ী ডিলার নিয়োগ বা নবায়ন হচ্ছে। এখানে স্বজনপ্রীতির কোনো সুযোগ নেই।
- বিষয় :
- টিসিবি
