ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ভারত থেকে আমদানি ৯.৬২ বিলিয়ন ডলার, রপ্তানি ১.৭৬ বিলিয়ন

ভারত থেকে আমদানি ৯.৬২ বিলিয়ন ডলার, রপ্তানি ১.৭৬ বিলিয়ন
×

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ০০:০৬ | আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ | ০০:০৮

বিগত ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিদেশে যে পরিমাণ রপ্তানি করেছে, আমদানি করেছে এর বেশি। ৫৮ দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে ২৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার। এককভাবে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি চীনের সঙ্গে। যার পরিমাণ ১৭ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল সাত দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের এমপি সাবিকুন্নাহারের লিখিত প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, চীন থেকে বাংলাদেশ ১৮ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরিতে রপ্তানি করেছে মাত্র ৬৯ কোটি ৪৪ ডলারের পণ্য। ভারত থেকে আমদানি করেছে ৯ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। রপ্তানি করেছে ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি তিন দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার। সিঙ্গাপুরের সঙ্গে দুই দশমিক ৮০, ব্রাজিলের সঙ্গে দুই দশমিক ৪৫, কাতারের সঙ্গে দুই দশমিক ১, মালয়েশিয়ার সঙ্গে দুই দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।

এ ছাড়া সৌদি আরব, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, আর্জেন্টিনা, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, মরক্কো ও জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতিতে রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

এলডিসি উত্তরণে এফটিএ ও জিএসপি প্লাসে জোর

নিপুন রায় চৌধুরীর প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর সম্ভাব্য শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা হারানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও ভারতের সঙ্গে জিএসপি প্লাস সুবিধা অর্জন কিংবা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ–ইউরোপীয় ইউনিয়ন এফটিএ সম্পাদনে আলোচনা শুরু করতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি চীন তাদের ট্যারিফ লাইনের ৯৯ শতাংশ পণ্যে বাংলাদেশের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজারসুবিধা দিয়েছে। 

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বহুমুখীকরণের উদ্যোগ

বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশ তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। একক পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে আরও আটটি খাত— চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, ওষুধশিল্প, আইসিটি ও সফটওয়্যার সেবা, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আদেশ জারি করেছে।

বকেয়া মজুরিতে ৩১টি চা বাগান ঝুঁকিপূর্ণ 

আবদুল মুক্তাদির সংসদে জানান, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর চা বাগানে শ্রমিক কর্মচারীদের বকেয়া মজুরিকে কেন্দ্র করে শ্রম অসন্তোষ সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিবেদনে ৩১টি চা বাগানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কিছু চা বাগানের মালিক পালিয়ে গেছেন। অনেক বাগানে শ্রমিক মজুরি সঠিকভাবে পরিশোধ না করায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। বন্ধ হয়ে যাওয়া বুরজান ও ফুলতলা চা বাগান পুনরায় চালু করাসহ, শ্রমিকদের মজুরি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতে দুটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) ১২টি বাগানের শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধে মজুদ থাকা অবিক্রিত চা বিশেষ ব্যবস্থায় রপ্তানির ব্যবস্থা করা হয়।

আরও পড়ুন

×