সিএনএনের বিশ্লেষণ
ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভুল স্পষ্ট হচ্ছে
যুদ্ধকে ক্ষতিকর মনে করছেন অধিকাংশ আমেরিকান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি- সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ০২:৫২
যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা স্মারকে সই করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এর পর সুইজারল্যান্ডে দুই দেশ কী অর্জন করল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। এ নিয়ে সিবিএস নিউজ ও ইউগভ নতুন জরিপ করেছে। প্রথম বড় জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক দ্রুত যুদ্ধের অবসান চান। তবে এর অর্থ এই নয়, চুক্তিকে সমর্থন করছেন তারা। অনেকেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকে ‘ব্যর্থ’ ও ‘ক্ষতিকর’ মনে করছেন।
জরিপ অনুযায়ী, ৭৮ শতাংশ আমেরিকান এখনই যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে। আর মাত্র ২২ শতাংশ মনে করেন, ইরানের কাছ থেকে আরও ছাড় আদায় না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া উচিত। এদিকে ট্রাম্পপন্থি কিছু রাজনৈতিক উপদেষ্টা এই ফলাফলকে প্রশাসনের প্রতি জনসমর্থনের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাদের দাবি, ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা চুক্তির বিষয়ে আমেরিকানরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অবস্থানকে সমর্থন করছে। তবে জরিপের বাকি ফলাফল স্পষ্টভাবে দেখায়, বাস্তবে বিষয়টি তেমন নয়।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কাছে চুক্তির মূল্যায়ন জানতে চাইলে মাত্র ২২ শতাংশ বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানের তুলনায় বেশি উপকারী। বিপরীতে ৩৭ শতাংশের মতে, চুক্তিটি ইরানের জন্য বেশি লাভজনক। বাকি ৪১ শতাংশ মনে করেন, উভয় পক্ষ প্রায় সমান সুবিধা পেয়েছে।
রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে মাত্র ৩৯ শতাংশ মনে করেন, চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জয় বয়ে এনেছে। অর্থাৎ, ট্রাম্পের নিজ দলেরও অধিকাংশ সমর্থক চুক্তিটিকে স্পষ্ট সাফল্য হিসেবে দেখছেন না। এ ছাড়া ৪৫ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে যুদ্ধ সফল হয়নি, যেখানে মাত্র ২৯ শতাংশ এটিকে ব্যর্থ মনে করেন।
ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা। কিন্তু জরিপে দেখা যায়, ৬৯ শতাংশ আমেরিকান এবং ৪৫ শতাংশ রিপাবলিকান বিশ্বাস করেন না, চূড়ান্ত চুক্তি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ থেকে সরিয়ে রাখতে পারবে।
জুনের মাঝামাঝি পরিচালিত ফক্স নিউজের জরিপে ৬৪ শতাংশ নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারী মনে করেছিলেন, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন থেকে বিরত রাখতে পারবে না। বর্তমান সমঝোতা স্মারকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অনেক বিষয় এখনও আলোচনার জন্য খোলা রাখা হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের কিছু পূর্ব ঘোষিত লক্ষ্য থেকে সরে আসছে বলেও ধারণা তৈরি হয়েছে।
সিবিএসের জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বড় অংশ বলেছেন, যুদ্ধ শুধু ব্যর্থই হয়নি, বরং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, যুদ্ধ ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছে এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কিন্তু মাত্র ৩৭ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, যুদ্ধের আগের তুলনায় ইরান এখন দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ৫৭ শতাংশ আমেরিকান বলেছেন, যুদ্ধ যত সমস্যার সমাধান করেছে, তার চেয়ে বেশি নতুন সমস্যা সৃষ্টি করেছে। বিপরীতে মাত্র ২১ শতাংশ মনে করেন, যুদ্ধ সমস্যার সমাধান বেশি করেছে। অনেক আমেরিকান মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা রাখেনি। ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে প্রভাব পড়েছে, তা প্রশাসনের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। একই মত দিয়েছেন ৫১ শতাংশ রিপাবলিকানও।
এই ধারণার পক্ষে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। ট্রাম্পের নিজস্ব মন্তব্যের পাশাপাশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সংঘাতের অর্থনৈতিক ঝুঁকি পুরোপুরি মূল্যায়ন করতে পারেনি ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভুল পদক্ষেপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গত মার্চ মাসে সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার চেষ্টা করতে ইরানের সম্ভাব্য আগ্রহ ও সক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করেছিল।
