ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

অর্থ বিল পাস হচ্ছে আজ

করপোরেট কর কমছে, খুচরা পর্যায়ে ভ্যাট বসছে না

করপোরেট কর কমছে, খুচরা পর্যায়ে ভ্যাট বসছে না
×

 জসিম উদ্দিন বাদল

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ | ১১:২৯ | আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ | ১১:৩২

করপোরেট করের ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয় হচ্ছে সরকার। শর্ত সাপেক্ষে আগামী পাঁচ অর্থবছরের জন্য আড়াই শতাংশ হারে ছাড় দেওয়া হতে পারে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কর জিডিপি বাড়াতে এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। এ ছাড়া খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর কর আরোপের চিন্তা থেকেও সরে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে জমি-ফ্ল্যাট কেনাবেচায় প্রকৃত দলিল মূল্য দেখে নিয়মিত হারে কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার যে সুযোগ রাখা হয়েছিল প্রস্তাবিত বাজেটের অর্থবিলে, সেটিও বাতিল করতে যাচ্ছে সরকার।

অর্থ বিল পাসের আগে শেষ সময়ে এসে বিভিন্ন অংশীজন ও ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে প্রস্তাবিত বাজেটে এসব সংশোধনী আনতে যাচ্ছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। আজ সোমবার পাস হচ্ছে চূড়ান্ত অর্থ বিল।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, সরকার বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বেশ জোর দিয়েছে। এ কারণে প্রস্তাবিত বাজেটে করপোরেট কর কমানো না হলেও চূড়ান্ত বাজেটে এটি আড়াই শতাংশ কমানো হতে পারে। বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান, যাদের পরিশোধিত মূলধনের অন্যূন ১০ শতাংশের নিচে, তাদের করহার সাড়ে ২২ শতাংশ রয়েছে। তবে ক্যাশলেস বা ব্যাংকে লেনদেনের শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে ২০ শতাংশ বহাল রাখা হচ্ছে। তবে যাদের ১০ শতাংশের নিচে, তাদের করহার শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ২২ শতাংশ করা হচ্ছে। বাকিদের করপোরেট করহার অপরিবর্তিত থাকবে। বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ছাড়লে করহার ২০ শতাংশ। সাধারণ কোম্পানির কর ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ, তালিকাবহির্ভূত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর ৪০ শতাংশ, তামাক প্রস্তুতকারক কোম্পানি কর ৪৫ শতাংশ, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মোবাইল অপারেটরের কর ৪০ শতাংশ, তালিকাবহির্ভূত মোবাইল অপারেটর ৪৫ শতাংশ, ট্রাস্ট, ব্যক্তিসংঘ ও ফার্মের করহার ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ, সমবায় সমিতি ২০ শতাংশ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ শতাংশ।

সূত্র জানায়, শর্তসাপেক্ষে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া থেকে সরে আসছে সরকার। বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে অর্থ বিলের এই বিধানটি বাস্তবায়নের চিন্তা বাদ দেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে মুদি দোকানসহ ১৬ খাতের খুচরা ব্যবসায় সুনির্দিষ্ট কর বসানোর কথা বলেছিলেন অর্থমন্ত্রী। এরপর থেকে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতিসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা এটি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল। অবশেষে সরকার খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর এই ধরনের কর আরোপের চিন্তা থেকে সরে আসতে পারে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

×