ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

চিঠি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী

জাইকার ঋণের সুদের হার কমানোর অনুরোধ

জাইকার ঋণের সুদের হার কমানোর অনুরোধ
×

 আবু হেনা মুহিব

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ | ১১:৩১ | আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ | ১১:৪৩

বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বড় উন্নয়ন সহযোগী জাপান সরকারের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা –জাইকার ঋণের সুদের হার কমাতে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর পক্ষে জাইকা প্রেসিডেন্ট বরাবরে পাঠানো এক চিঠিতে এই অনুরোধ জানানো হয়।

বাড়তি সুদের হার বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে চিঠিতে। আরোপিত সুদের হারের চেয়ে অন্তত ১ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে এতে। 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ–ইআরডি সূত্র জানিয়েছে, চিঠি দেওয়া ছাড়াও সুদের হার কমানোর উদ্দেশ্যে আলোচনার জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে অর্থমন্ত্রীর জাপান সফরের আয়োজনের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর ঢাকা সফরে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। আগামী বুধবার ঢাকা সফরে আসছেন তিনি। সফরে সরকারের শীর্ষ নীতি প্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া জাইকার সহায়তায় পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করবেন তিনি।  

গত এপ্রিল থেকে জাইকার ঋণে নতুন সুদহার কার্যকর হয়েছে। সুদের হার এখন ৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। এপ্রিলের আগ পর্যন্ত এই হার ছিল ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ। মূল ঋণের সুদের পাশাপাশি পরামর্শক খাতে ঋণের সুদের হারও বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে, যা এপ্রিলের আগে ছিল শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ। সুদের হার বাড়লেও ঋণের মেয়াদ ৩০ বছর ও রেয়াতকাল ১০ বছরের সময়সীমা বহাল রাখা হয়েছে। এ ছাড়া জাইকা ঋণের প্রক্রিয়া মাশুল বা ফ্রন্ট-অ্যান্ড ফি আগের হারে শূন্য দশমিক শূন্য ২ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। জাইকা সাধারণত, প্রতি ছয় মাস পর পর বাংলাদেশের জন্য ঋণের শর্তাবলি পরিবর্তন করে। সে হিসাব অনুযায়ী, জাইকার ঋণের এই নতুন সুদ হার আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা।  

ইআরডির জাপান উইংয়ের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, গত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া চিঠির বিষয়ে জাপান সরকারের কাছ থেকে ইতিবাচক জবাবের অপেক্ষায় আছেন তারা। জাইকার প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরে বিষয়টিতে বেশি গুরুত্ব দেবে বাংলাদেশ। এই সফরে ইতিবাচক কোনো ঘোষণা আসার সম্ভাবনা হয়তো নেই। এ কারণে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট  ঊর্ধ্বতনদের জাপান সফরের আয়োজনের চেষ্টা করছেন তারা। তিনি জানান, জাইকার ঢাকা অফিসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সুদের হার কমানোর বিষয়ে তাদের আলোচনা হয়েছে। তবে জাপানের রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারের বিষয় এটি। 
ওই কর্মকর্তা জানান, ঋণ দেওয়া ও সুদের হারের ক্ষেত্রে মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে একই ক্যাটেগরিতে বিবেচনা করে থাকে জাইকা। কিন্তু মিয়ানমারের ঋণের তুলনায় বাংলাদেশের ঋণের পরিমাণ বেশি। এ ছাড়া জাপানি গাড়ির বৃহৎ বাজার বাংলাদেশ। অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রেই সহযোগিতা রয়েছে দুই দেশের। আবার এলডিসি 
শ্রেণিতে আরও ৩ বছর থাকছে বাংলাদেশ। এসব বিবেচনায় ঋণের সুদের হার কমিয়ে আসবে বলে আশাবাদী তিনি। 

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ সুদে জাইকার ঋণ পেয়েছে বাংলাদেশ। ২০২২ সালে নিম্ন-মধ্যম আয়ের কাতারে উন্নীত হওয়ার পর সুদের হার বেড়ে দাঁড়ায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশে। এরপর ২০২৩ সালে সুদের হার ১ দশমিক ৬ শতাংশে ও ২০২৪ সালে ২ দশমিক ৩৫ শতাংশে পৌঁছায়। দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী দেশের চেয়ে বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছ থেকে তুলনামূলক কম সুদে ঋণ সহায়তা পেয়ে থাকে বাংলাদেশ। 

বিশ্বব্যাংক থেকে পাওয়া ঋণের বর্তমান সুদের হার ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক– এডিবির ঋণে সুদের হার ২ শতাংশ থেকে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক আইডিবি থেকে ২ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে থাকে বাংলাদেশ। 

ইআরডি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাইকার ঋণের সুদের হার বেড়ে গেলে জাপানের এই অফিসিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স (ওডিএ) বা সরকারি উন্নয়ন সহায়তা হয়তো আর রেয়াতি ঋণের তালিকায় থাকে না। কোনো ঋণের মোট অংশের মধ্যে অনুদানের অংশ যদি ৩৫ শতাংশের কম হয় তাহলে কঠিন শর্তের ঋণ হিসেবে গণ্য হয়। বাংলাদেশের মতো দেশের পক্ষে এই কঠিন শর্তের ঋণকে জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া বেশ কঠিন হবে।

জাইকা বাংলাদেশের একক বৃহত্তম দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। সাধারণত প্রতিবছর প্রায় ১৩০ কোটি ডলারের ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়। গড়ে ৬০ থেকে ৭০ কোটি ডলার অর্থ ছাড় করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে অর্থছাড়ের গতি কিছুটা ধীর হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত জাইকা ৪২ কোটি ২৪ লাখ ডলার ছাড় করেছে। এই সময়ে জাইকার পক্ষ থেকে নতুন কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

×