ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আর্থিক খাতের সবুজ রূপান্তর এগিয়ে নিচ্ছে বিকাশ

আর্থিক খাতের সবুজ রূপান্তর  এগিয়ে নিচ্ছে বিকাশ
×

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-এসডিজির মধ্যে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম গ্রিনহাউস গ্যাস বিশেষত কার্বন ডাইঅক্সাইডের নিঃসরণ কমানো। ‘নেট জিরো’ বা ‘শূন্য কার্বন’ একটি বৈশ্বিক এজেন্ডা, যা বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে চায়। কারণ বেশি মাত্রায় কার্বন নির্গমন হলে তা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়িয়ে নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি করে। 
বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক চর্চা অনেক আগেই শুরু হয়েছে। অর্থনীতির প্রাণশক্তি হলো আর্থিক ব্যবস্থা। আর আর্থিক ব্যবস্থার সবুজ রূপান্তরে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করছে মোবাইল ফোনে আর্থিক সেবাদাতা বা এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই দেশের শীর্ষ এমএফএস প্রতিষ্ঠান বিকাশ ব্যাংকিং সুবিধা থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে মনোনিবেশ করেছে। বিকাশ কার্যকরভাবে ক্যাশ টাকা ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে এনেছে, যা কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়ক হয়েছে। 

বিকাশের মতো প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের মধ্যে ‘ক্যাশলেস’ জীবনের দিকে একটি আচরণগত পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। নিরাপদ, সুবিধাজনক এবং ব্যবহারবান্ধব পণ্য ও সেবা এনেছে। ঘরে বসেই সহজে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আর্থিক সেবা নেওয়ার সুযোগের কারণে মানুষের যাতায়াত অনেকাংশে কমানো সম্ভব হয়েছে। কেননা মানুষের ‘মোবিলিটি’ জ্বালানির ব্যবহার বাড়ায়। এমএফএস লেনদেন কাগজের ব্যবহার কমাতেও সহায়ক হয়েছে। সার্বিকভাবে তাদের সেবার পদ্ধতি কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়ক।

ডিজিটাল লেনদেনে এমএফএস খাতের অংশগ্রহণের পরিসংখ্যান থেকে এর পরিবেশবান্ধব প্রভাবের একটি ধারণা পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত মে মাসে ‘ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি’ পর্যায়ে এমএফএসের মাধ্যমে ১৯ কোটিরও বেশিসংখ্যক লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা। একই মাসে প্রায় চার কোটি ৭১ লাখ ব্যবসায়িক লেনদেন (মার্চেন্ট পেমেন্ট) হয়েছে, যার সঙ্গে জড়িত টাকার পরিমাণ প্রায় ছয় হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। মে মাসে এমএফএসের মাধ্যমে এক কোটি ১৩ লাখ মানুষের বেতন দেওয়া হয়েছে, যেখানে পরিশোধ করা হয়েছে আট হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা। তিন কোটি ২৮ লাখ সংখ্যক ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করা হয় এমএফএসের মাধ্যমে, যাতে প্রায় তিন হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। একই সময়ে এমএফএসের মাধ্যমে ৩১ লাখ বারে ৮৪৪ কোটি টাকার বেশি ডিজিটাল লোন বিতরণ করা হয়েছে। এসব লেনদেনের সবই হয়েছে ক্যাশবিহীন পদ্ধতিতে কোনো রকম কাগজের ব্যবহার ছাড়াই।

বিশ্বব্যাপী ফিনটেক প্রতিষ্ঠানগুলো পরিবেশের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখছে। ইউরোপিয়ান ডিজিটাল পেমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি অ্যালায়েন্সের পক্ষে অক্সফোর্ড ইকোনমিকস পরিবেশের ওপর ডিজিটাল পেমেন্টের প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণা করে। এতে দেখা যায়, ইউরোপে ২০১৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ক্যাশবিহীন পেমেন্ট দ্বিগুণ হয়েছে এবং এই অগ্রগতি বিভিন্ন দেশে কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। 

যেভাবে ‘কার্বন ফুটপ্রিন্ট’ কমাতে ভূমিকা রাখছে বিকাশ
‘কার্বন ফুটপ্রিন্ট’ বলতে কোনো ব্যক্তি, ব্যবসা অথবা পণ্যের মাধ্যমে যে পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ হয়, তার পরিমাণকে বোঝায়। বিকাশ তিন ক্ষেত্রেই ডিজিটাল সমাধান দিচ্ছে। ফলে এর ব্যবসার ধরনই ‘কার্বন ফুটপ্রিন্ট’ কমাতে ভূমিকা রাখছে। সবুজ রূপান্তর বলতে এমন নীতি ও কৌশল প্রয়োগকে বোঝানো হয়– যা পরিবেশ, সমাজ এবং অর্থনীতিকে টেকসই অগ্রগতির দিকে নিয়ে যায়। এর ফলে জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ে, কার্বন নির্গমন কমে, সম্পদের সংরক্ষণ হয় এবং একই সঙ্গে সার্বিকভাবে পরিবেশের ক্ষতি কমে এবং সমাজে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। 
বিকাশ বাণিজ্যিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ইউটিলিটি সেবা প্রদানকারী সংস্থা, টেলিকম অপারেটর ইত্যাদির সঙ্গে সমন্বয় করে ডিজিটাল লেনদেনের ইকোসিস্টেম তৈরি করছে। এই ইকোসিস্টেম দেশের আর্থিক খাতের সবুজ রূপান্তর ত্বরান্বিত করছে। 

বিকাশ নিজস্ব আর্থিক পণ্য ও সেবা ছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সেবাও তার প্ল্যাটফর্মে সমন্বিত করে গ্রাহকদের ডিজিটাল জীবনধারার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সেবাগুলো গ্রহণ করতে প্রয়োজন হয় না কোনো কাগজ, যা গ্রাহকদের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনে ‘কার্বন ফুটপ্রিন্ট’ কমাতে সহায়ক এবং একই সঙ্গে বৈশ্বিক ‘নেট জিরো’ এজেন্ডার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ডিজিটাল পেমেন্ট ধারণাকে টেকসই করার জন্য বিকাশ দেশজুড়ে সাড়ে আট লাখের বেশি মার্চেন্ট পয়েন্ট বা ব্যবসায়িক স্থানে ‘বাংলা কিউআর কোড’ স্ক্যানের মাধ্যমে কাগজবিহীন এবং স্পর্শবিহীন (কন্ট্যাক্টলেস) পেমেন্ট গ্রহণের নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, যা পেমেন্ট ইন্ডাস্ট্রির সার্বিক সবুজ রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করছে। বিকাশের রয়েছে দেশজুড়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি এজেন্টের বিশাল নেটওয়ার্ক। ক্যাশ টাকার দরকার হলে খুব সহজেই হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত এসব এজেন্ট পয়েন্ট থেকে ‘ক্যাশ আউট’ করতে পারছেন গ্রাহকরা।
বাংলাদেশে ইস্যুকৃত ভিসা, অ্যামেক্স বা মাস্টারকার্ড থেকে বিকাশের আট কোটি ৪০ লাখ গ্রাহক কোনো চার্জ ছাড়াই তাদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে যে কোনো সময় দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে টাকা আনতে পারছেন ‘অ্যাড মানি’ সেবার মাধ্যমে। কার্ড থেকে বিকাশে তাৎক্ষণিক টাকা এনে অসংখ্য সেবা গ্রাহক খুব সহজেই নিতে পারছেন। 
বিকাশের মতো ফিনটেক প্রতিষ্ঠান দৈনন্দিন কার্যক্রমে সবুজ ও টেকসই পদ্ধতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার বৈশ্বিক উদ্যোগে সহযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। গ্রাহকদের প্রতিদিনকার ক্যাশবিহীন আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে আচরণগত পরিবর্তন সাধনের মধ্য দিয়ে দেশে ডিজিটাল লেনদেনের ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করছে। আর্থিক খাতের সার্বিক সবুজ রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করছে।

আরও পড়ুন

×