বিধিমালা সংশোধন বিষয়ে বিএসইসিতে মতামত
মার্জিন ঋণে পুরোনাে বিধিতে ফেরার পক্ষে বিনিয়ােগকারীরা
খসড়া বিধিমালার বিষয়ে এ পর্যন্ত প্রায় তিনশ মতামত পাওয়া গেছে
ফাইল ফটো
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:০৪ | আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ১০:০৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিদ্যমান মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ৩০-এর বদলে ৪০ রেখে মার্জিন ঋণ বিধিমালা সংশোধনের পক্ষে মত দিয়েছেন শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারী ও বাজার অংশীজন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা। বীমার ক্ষেত্রে যেভাবে প্রাইস টু বুক ভেল্যু বা পিবি রেশিও প্রচলনের যে প্রস্তাব কমিশন থেকে করা হয়েছে, তার বিপক্ষে মত দিয়েছেন তারা। এ ছাড়া বাজার অংশীজনরা পোর্টফোলিও মূল্য মার্জিন-এর ১৫০ শতাংশে নামলে ‘মার্জিন কল’ এবং ১২৫ শতাংশে নামলে ‘ফোর্স সেল’-এর বিধান ফিরিয়ে আনারও প্রস্তাব করেছেন।
মার্জিন ঋণ বিধিমালা সংশোধনীর খসড়া বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) দেওয়া মতামতে এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। গত ১৯ জুলাই বিএসইসি (মার্জিন) বিধিমালা ২০২৫-এর খসড়া অংশীজনের মতামতের জন্য প্রকাশ করা হয়। এরপর প্রায় তিনশ মতামত পেয়েছে সংস্থাটি। জনমত যাচাই থেকে পাওয়া মতামতগুলো কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। শিগগিরই কমিশন তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিধিমালার সংশোধন চূড়ান্ত করবে বলে জানিয়েছেন বিএসইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কমিশন সূত্র জানায়, এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিশনের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা সমকালকে জানান, এককভাবে কেউ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে না। জনমত যাচাই থেকে পাওয়া সুপারিশ বা মতামতগুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে। তবে সব মতামত একপক্ষে এসেছে বিষয়টি তাও নয়, বিপরীত মতও কিছু এসেছে। কমিশনের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার মতামত পর্যালোচনা করে দীর্ঘ মেয়াদে বাজারের জন্য যা ভালো হবে, সেভাবেই বর্তমান কমিশন বিধিমালাটি সংশোধন করতে চায়। যাতে এ বিধান সহসাই সংশোধন করতে না হয় এবং অযথা বিতর্ক এড়ানো যায়, তাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার শেয়ারবাজারে গুঞ্জন ছিল যে, বিনিয়ােগকারীদের প্রস্তাবনা অনুসারে কমিশন যেভাবে মার্জিন ঋণ বিধিমালার সংশোধন চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে তা অনেকটা ১৯৯৯ সালে প্রথমবার করা মার্জিন ঋণ বিধিমালার মতো। অর্থাৎ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে খোন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন যে মার্জিন ঋণ বিধিমালার সংশোধন করেছিল, তার প্রায় কিছুই থাকছে না নতুন সংশোধনে। বর্তমান কমিশন যে প্রস্তাব এনেছিল, তারও বেশির ভাগ বদলে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে শীর্ষস্থানীয় একটি ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহী বলেন, তারা জেনেছেন, প্রস্তাব এসেছে যে, লাইফ ইন্স্যুরেন্স ছাড়া ‘এ’ এবং ‘বি’ ক্যাটেগরিভুক্ত সব শেয়ার মার্জিনযোগ্য করা যদি তার পিই রেশিও ৪০-এর মধ্যে থাকে, যা বর্তমানে ৩০। লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে পিবি রেশিও ২-এর মধ্যে থাকলে, তা মার্জিনযোগ্য হবে। মিউচুয়াল ফান্ড মার্জিনযোগ্য হবে না।
এ ছাড়া ফ্রি-ফ্লোট ৫০ কোটি টাকা, সংশ্লিষ্ট খাতের পিই রেশিওর ভিত্তিতে মার্জিনযোগ্যতা হিসাব করার যেসব শর্ত বিদ্যমান মার্জিন ঋণ বিধিমালায় রয়েছে তাও বাতিল করার পক্ষে মত এসেছে। একক গ্রাহককে মার্জিন ঋণ দেওয়ার সীমা তুলে দেওয়া হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো ব্রোকারেজ হাউস বা মার্চেন্ট ব্যাংক তার প্রদত্ত মার্জিন ঋণের ২০ শতাংশের বেশি একক কোনো শেয়ারে দিতে পারবে না– এমন বিধান রাখা হতে পারে বলে জানান শীর্ষ নির্বাহীরা।
ব্রোকারেজ হাউস কর্মকর্তারা বলেন, বলা হচ্ছে– বর্তমান কমিশন মার্জিন ঋণের বিধান উদারভাবে সংশোধন করতে যাচ্ছে। বাস্তবে দেখা গেছে, পিবি রেশিওর মাধ্যমে মার্জিনযোগ্যতা নির্ধারণ করা হলে অন্তত মার্জিন ঋণযোগ্য শেয়ার ৭০-৮০টিতে নেমে আসত। আর ‘মার্জিন কল’ ও ‘ফোর্স সেল’-এর ক্ষেত্রে মূলধন বা পোর্টফোলিও মূল্য ঋণের যথাক্রমে ১৭০ শতাংশ এবং ১৫০ শতাংশ থাকলে কোনো বিনিয়োগকারী মার্জিন ঋণ নিতে চাইবে না।
এদিকে আগের মার্জিন ঋণ বিধিমালায় ফিরছে কমিশন– এমন একটা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে শেয়ারবাজারে। এর প্রভাবে গতকাল মঙ্গলবার উল্লেখযোগ্য উত্থান হয়েছে। অধিকাংশ শেয়ারের দর বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৫৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫৯০৩ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। সূচক বৃদ্ধির হার ১ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া টাকার অঙ্কে শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ ২০৭ কোটি টাকা বেড়ে ১ হাজার ১১৫ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
- বিষয় :
- শেয়ারবাজার
- ডিএসই