ঢাকা বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

গল্প-গান-আড্ডায় গ্রেট ইয়ারমাউথে ঢাবি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকের বনভোজন

গল্প-গান-আড্ডায় গ্রেট ইয়ারমাউথে ঢাবি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকের বনভোজন
×

ছবি: আয়োজকদের সৌজন্যে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:০৪

যুক্তরাজ্যের নরফোক উপকূলের মনোরম সমুদ্রতীরবর্তী শহর গ্রেট ইয়ারমাউথে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকের (DUAUK) বার্ষিক বনভোজন। শনিবার আয়োজিত এ বনভোজনে সংগঠনের সদস্য, তাদের পরিবার-পরিজন, উপদেষ্টা এবং অতিথি মিলিয়ে মোট ৫৩ জন অংশগ্রহণ করেন।

শনিবার সকাল ৯টার মধ্যে লন্ডনের রেডব্রিজ স্টেশনের কার পার্কে সমবেত হন অংশগ্রহণকারীরা। নাম নিবন্ধন ও সেফটি পরীক্ষা শেষে সকালের নাশতা পরিবেশনের পর কোচভর্তি যাত্রীরা রওনা হন ঐতিহ্যবাহী গ্রেট ইয়ারমাউথের উদ্দেশে। যাত্রাপথে স্মৃতিচারণ, গান, কৌতুক ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। কোচে প্রাঞ্জল উপস্থাপনায় ছিলেন মোঃ কামরুল হাসান, নিলুফা ইয়াসমিন হাসান, মিজানুর রহমান ও এরিনা সিদ্দিকী। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মোঃ কামরুল হাসান এবং সভাপতি সিরাজুল বাছিত চৌধুরী সবাইকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দময় দিনের শুভকামনা জানান।

১৫ মাইল দীর্ঘ সোনালী বালুকাময় গ্রেট ইয়ারমাউথে পৌঁছানোর পর একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে সুস্বাদু মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। এরপর সমুদ্রতীরে সমবেত হয়ে বিভিন্ন খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশ নেন সদস্যরা।

খেলাধুলার আয়োজনের মধ্যে পুরুষদের জন্য আয়োজিত ‘ফিট ব্যালান্স রেস’-এ দেওয়ান গৌস সুলতান এবং ‘বিন ব্যাগ টস’-এ মিজানুর রহমান প্রথম স্থান অধিকার করেন। নারীদের ‘ব্লাইন্ডফোল্ড চ্যালেঞ্জ’-এ তামান্না সৈয়দা এবং ‘হেড, শোল্ডার অ্যান্ড টোজ’ খেলায় আসমা আক্তার প্রথম হন। শিশুদের দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার জেতে রাফিডা জান্নাত।

বিকেলে কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ জাফরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী। এ সময় খেলাধুলা ও বিভিন্ন কার্যক্রম আয়োজনে মূল্যবান অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদককে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করেন সভাপতি। এরপর অনেকেই সমুদ্রে সাঁতার ও জলকেলি উপভোগ করেন। সমুদ্র তীরে মোঃ কামরুল হাসানের সঞ্চালনায় একটি প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও আয়োজিত হয়, যেখানে শিশু ও সদস্যরা নাচ-গান পরিবেশন করেন।

দিনব্যাপী এই বনভোজনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল সমুদ্রের পাড়ে বসে সংগঠনের উপদেষ্টা আবু মুসা হাসানের বানানো আচারি ঝালমুড়ি-চানাচুর খাওয়া। ফেরার পথেও কোচে খাওয়া-দাওয়া ও সাংস্কৃতিক পর্ব চলতে থাকে, যেখানে সবাই পিকনিকের সার্বিক আয়োজনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, এই বার্ষিক বনভোজনটি ১২ সদস্যের একটি উপকমিটির মাধ্যমে আয়োজিত হয়। সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মোঃ কামরুল হাসানের সমন্বয় এবং সভাপতি সিরাজুল বাছিত চৌধুরীর নেতৃত্বে আয়োজক দলকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন সৈয়দ জাফর, ইসমাইল হোসেন ও সৈয়দ হামিদুল হক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই মিলনমেলা পুরোনো বন্ধুত্ব দৃঢ় করার পাশাপাশি নতুন সম্পর্ক গড়ার এক চমৎকার সুযোগ সৃষ্টি করে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি। 

আরও পড়ুন

×