ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শুধু আইনি ব্যবস্থা ও জরিমানায় পণ্যের বাজার ঠিক হবে না

শুধু আইনি ব্যবস্থা ও জরিমানায়  পণ্যের বাজার ঠিক হবে না
×

নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জাতীয় ভােক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর আয়ােজিত মতবিনিময় সভায় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলামসহ বক্তারা- ফটাে রিলিজ

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:০২

| প্রিন্ট সংস্করণ

কেবল আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জরিমানা আরোপ করে নিত্যপণ্যের বাজারে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। এ জন্য ভোক্তা ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষের সচেতনতা, দায়িত্বশীলতা ও নৈতিকতার চর্চা প্রয়োজন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে সুপারশপ, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তাদের অনেকেই এমন মত দিয়েছেন। 

গতকাল সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে এই আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান সমুন্নত রাখতে ন্যায্যতা নিশ্চিতের মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখা সবার দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে জরিমানা আরোপই মুখ্য বিষয় নয়; বরং বাজার পরিস্থিতি যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।  তিনি বলেন, ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় থাকলে আইন প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশে কমে যায়।  ভোক্তা অধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অসাধু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগীদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়ােজন।  

অধিদপ্তরের পরিচালক (কার্যক্রম ও গবেষণাগার) আতিয়া সুলতানা স্বাগত বক্তব্যে বলেন, একটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক শান্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারমূল্যের স্থিতিশীলতা এবং পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ চেইন বজায় রাখা। অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক নয়ন কুমার সাহা মাঠ পর্যায়ের বাজার তদারকিতে অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ব্যবসায়ীদের মধ্যে মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং ক্রয় রসিদ সংরক্ষণে অনীহা লক্ষ্য করা যায়। 

মুক্ত আলোচনায় বিভিন্ন বাজার সমিতির প্রতিনিধিরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে পরিবহন খাতের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা তুলে ধরেন। তারা থানাভিত্তিক টিম গঠন করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সমস্যা যাচাই এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে বাজার তদারকি ও অভিযান পরিচালনার প্রস্তাব করেন। অবৈধ মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট এবং পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি ও সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন। 

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস্থা, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো, সচেতনতা বাড়ানো ও আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ)  সেবাস্টিন রেমা। তিনি বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; মানুষের মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীল আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি।

আরও পড়ুন

×