ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তিন দেশ থেকে পৌনে পাঁচ লাখ টন সার আনা হচ্ছে

তিন দেশ থেকে পৌনে পাঁচ লাখ টন সার আনা হচ্ছে
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৫১ | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

কানাডা, রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে ১ লাখ ১৫ হাজার টন সার আমদানির তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে মোট ব্যয় হবে ৫৬৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আরও ৩ লাখ ৬০ হাজার টন ইউরিয়া আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া নিম্ন আয়ের এক কোটি পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য ৩৬৮ কোটি ২০ লাখ টাকায় ২ কোটি লিটার পাম অয়েল কেনার প্রস্তাব এবং ঢাকার বিমানবন্দর ও কমলাপুর রেলস্টেশনে বহুমুখী পরিবহন কেন্দ্র নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা প্রণয়নে পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। একই দিন অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ইউরিয়া সার আমদানিসহ দুটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কানাডার কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার টন মিউরেট অব পটাশ আমদানি করবে। এতে ব্যয় হবে ১৮৭ কোটি ২২ লাখ টাকা। প্রতি টনের দাম পড়েছে ৩৭৭ দশমিক ৬৩ মার্কিন ডলার।

রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন মিউরেট অব পটাশ আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৬৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রডিনটর্গ) থেকে চলতি অর্থবছরের চতুর্থ লটে এ সার আমদানি করা হবে। প্রতি টনের দাম পড়বে ৩৭৭ দশমিক ৬৩ ডলার। 
অন্যদিকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া আমদানি করবে। এতে ব্যয় হবে ২১৩ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। 

ইউরিয়া সারের সরবরাহব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠান ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টন ইউরিয়া আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বিসিআইসির মাধ্যমে সরকারি অর্থে এ সার আমদানি করা হবে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ডধারী এক কোটি নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অয়েল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রতি লিটার ১৮৪ টাকা ১০ পয়সা দরে এ তেল কিনতে ব্যয় হবে ৩৬৮ কোটি ২০ লাখ টাকা।

স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতেদরপত্র আহ্বান করা হলে তিনটি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে দুটি কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির কাছে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। সব প্রক্রিয়া শেষে সর্বনিম্ন গ্রহণযোগ্য দরদাতা ঢাকার শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রি থেকে পাম অয়েল কেনার সুপারিশ করা হয়। টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ প্রতি লিটার ১৮৪ টাকা ১০ পয়সা দরে মোট ২ কোটি লিটার তেল কেনা হবে। 

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভোজ্য তেল কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ২২ কোটি লিটার। এরই মধ্যে ৫৩ লাখ ৬২ হাজার ৬৮৪ লিটার ভোজ্য তেল কেনা হয়েছে।
ঢাকার বিমানবন্দর ও কমলাপুর রেলস্টেশনে বহুমুখী পরিবহন কেন্দ্র নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা প্রণয়নে ৫৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর পুরো অর্থ বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে সংস্থান করা হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের বাস্তবায়নাধীন গ্রিন রেলওয়ে পরিবহন প্রস্তুতিমূলক কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের প্যাকেজ এসডি-১-এর আওতায় এ পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দর রেলস্টেশনে বহুমুখী পরিবহন কেন্দ্র নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও ধারণাগত নকশা এবং কমলাপুর রেলস্টেশনে একই ধরনের কেন্দ্র নির্মাণে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে। প্রকল্পটি গত বছরের ২০ এপ্রিল একনেকে অনুমোদিত হয়। এর মেয়াদ ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

এদিকে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৪০টি ড্রাইভিং সিমুলেটর সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সংগ্রহের সিদ্ধান্তও নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে।

আরও পড়ুন

×