রিজেন্ট টেক্সটাইলের পাঁচ পরিচালককে ১০০ কোটি টাকা জরিমানা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫০
| প্রিন্ট সংস্করণ
প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে আসতে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নেওয়া ৮১ কোটি টাকা অপব্যহারের দায়ে রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলসের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ পাঁচ পরিচালকের প্রত্যেককে ২০ কোটি টাকা করে মোট ১০০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। কোম্পানিটি আইনি বিধান এবং আইপিও অনুমোদনের শর্ত লঙ্ঘন করেছে। ওই অর্থে তারা অন্য কোম্পানির মালিকানা কিনেছে।
সম্প্রতি এ জরিমানা করেছে বিএসইসি। জরিমানার অর্থ ২০ কর্মদিবসের মধ্যে কমিশনের অনুকূলে জমা দিতে আদেশ দিয়েছে। অন্যথায় প্রতিদিন বিলম্বের জন্য প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত অর্থদণ্ড করারও আদেশ দিয়েছে। শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক জরিমানার আদেশ প্রদানের পর এখন পর্যন্ত ১০ কর্মদিবস পার হয়েছে। তবে আদেশ পুনর্বিবেচনা করার জন্য সংশ্লিষ্টরা কমিশনে আবেদন করেছেন।
যাদের জরিমানা করা হয়েছে, তারা হলেন– চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান হাবীব, পরিচালক ইয়াছিন আলী, তানভির হাবীব এবং মাশরুফ হাবীব। এরা সবাই চট্টগ্রামভিত্তিক হাবীব গ্রুপের মালিকানায় রয়েছেন। আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ৪২ কোটি টাকা ঋণখেলাপির দায়ে ২০২২ সালে তাদের বিরুদ্ধে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালত।
বস্ত্র খাতের তালিকাভুক্ত রিজেন্ট টেক্সটাইল ২০১৫ সালে আইপিও প্রক্রিয়ায় ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার ২৫ টাকা দরে বিক্রি করে মোট ১২৫ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করেছিল। সর্বশেষ ২০২০ সালে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ১ শতাংশ নগদসহ মোট ২ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়। এর পর থেকে আর্থিক প্রতিবেদনও প্রকাশ করছে না। ২০২৩ সালের জুন মাসের পর স্টক এক্সচেঞ্জকে কোনো তথ্যও দিচ্ছে না। বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ার ৬ টাকা ২০ পয়সায় কেনাবেচা হয়, যা মাঝে ১ টাকা ৩০ পয়সায় নেমেছিল।
যে কারণে জরিমানা
২০১৫ সালে কারখানার আধুনিকায়নের জন্য সাড়ে ৮২ কোটি টাকা এবং নতুন পোশাক কারখানা স্থাপনে প্রায় ৪০ কোটি টাকা খরচের পরিকল্পনায় ১২৫ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহের অনুমতি চায় রিজেন্ট টেক্সটাইল। এভাবে খরচের শর্তে আইপিও অনুমোদন পেয়েছিল। ২০১৯ সাল পর্যন্ত কোম্পানির ৮৩ কোটি টাকার অর্থ অব্যবহৃত ছিল। পরে এর থেকে ৮১ কোটি টাকা দিয়ে লিগ্যাসি ফ্যাশনস নামে একটি কোম্পানির ৯৯ শতাংশ মালিকানা কিনেছে।
জরিমানার আদেশ সূত্রে জানা গেছে, লিগ্যাসি ফ্যাশনস ও রিজেন্ট টেক্সটাইলের মালিক একই ব্যক্তিরা। আইন লঙ্ঘন করে কেনার প্রমাণ পেয়ে সুদসমেত ৯০ কোটি টাকা রিজেন্ট টেক্সটাইলের অ্যাকাউন্টে ফেরত আনতে গত বছরের ১৪ জানুয়ারি আদেশ দিয়েছিল বিএসইসি। কোম্পানিটির পর্ষদ এ আদেশ পরিপালন করেনি।
কমিশনের আদেশে বলা হয়েছে, বিএসইসির তদন্তে রিজেন্ট টেক্সটাইল এবং লিগ্যাসি ফ্যাশনসের মধ্যে ব্যাপক স্বার্থের সংঘাত ও একই মালিকানার স্পষ্ট যোগসূত্র পাওয়া যায়। উভয় কোম্পানির নিবন্ধিত ঠিকানা চট্টগ্রামের ২২০ স্ট্র্যান্ড রোড। তদন্ত অনুযায়ী– ইয়াকুব আলী, ইয়াসিন আলী এবং মরহুম মাহবুব আলীর পরিবারের সদস্যদের যৌথ মালিকানায় রিজেন্ট টেক্সটাইলের ৫৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ শেয়ার এবং লিগ্যাসি ফ্যাশনসের শতভাগ শেয়ারের মালিকানা ছিল। মো. ইয়াকুব আলী এবং মো. ইয়াসিন আলী দুই কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে আছেন এবং মো. ইয়াসিন আলী লিগ্যাসি ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এই অভিন্ন মালিকানা সম্পর্কের বিষয়টি আড়াল করে আইপিও ফান্ডের টাকা নিজেদের স্বার্থে স্থানান্তরের চেষ্টা হয়েছিল।
রিজেন্ট টেক্সটাইলের আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনায় আরও একাধিক জালিয়াতি ও অনিয়ম ধরা পড়েছে। ২০১৯ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে দেখা যায়, কোম্পানি ১৩৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা ‘ক্যাপিটাল ওয়ার্ক ইন প্রগ্রেস’ হিসেবে দেখিয়েছে, যা নিয়ম অনুযায়ী প্রপার্টি, প্ল্যান্ট এবং ইকুইপমেন্টে স্থানান্তর করা হয়নি, যা বাংলাদেশ হিসাব মানের লঙ্ঘন। কোম্পানিটি তার সিস্টার কনসার্ন রিজেন্ট ফ্যাব্রিকসের দুই কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং রিজেন্ট উইভিংয়ের ১১ কোটি ৯২ লাখ টাকার অননুমোদিত লেনদেন করেছে।
- বিষয় :
- শেয়ারবাজার